সকালের সঙ্গী ছিলেন দক্ষিণ মালদহের কংগ্রেস সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরী। দুপুরের সঙ্গী জেলার একাধিক বাম নেতারা। জোটের এমন আবহেই মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দিলেন ইংরেজবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের বাম ও কংগ্রেস সমর্থিত নির্দল প্রার্থী নীহাররঞ্জন ঘোষ। শাসক বিরোধী দুই দলের নেতা-কর্মীরা এক মিছিলে থাকায় দোলের মরসুমে জোটের হাওয়াও লাগল বলে মনে করছেন জেলার বাম-কংগ্রেস নেতারা। সিপিএমের জেলা সম্পাদক অম্বর মিত্র বলেন, ‘‘এখন বাতাসে দোলের মতো জোটের হাওয়াও বইতে শুরু করেছে। এ দিন দু’দলের উপস্থিতি তা স্পষ্ট। আমরা মালদহ জেলার প্রতিটি আসনে একক ভাবে লড়াই করব তৃণমূলের বিরুদ্ধে।’’ একই সুর শোনা গিয়েছে জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারির গলাতেও। তিনি বলেন, ‘‘দোলের আগের দিন থেকেই শুরু হয়ে গেলে জোটের হাওয়া। যেই হাওয়ায় উড়ে যাবে তৃণমূল।’’ তবে জোটকে কটাক্ষ করেছেন ইংরেজবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূলের প্রার্থী তথা বিদায়ী মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘‘এখানে জোট নয়, ঘোঁট হয়েছে। এই ঘোঁট মানুষ কখনও মেনে নেবে না। যার জবাব মানুষ ভোটবাক্সেই দেবেন।’’
ইংরেজবাজার বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী কৃষ্ণেন্দুবাবুকে ঠেকাতে তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী দেয়নি বাম ও কংগ্রেস। বিদায়ী মন্ত্রীর বিরুদ্ধে লড়ছেন ইংরেজবাজার পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাম সমর্থিত নির্দল কাউন্সিলর নীহাররঞ্জন ঘোষ। অঙ্ক কষেই কৃষ্ণেন্দুবাবুর বিরুদ্ধে দু’দল নির্দল প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে বলে বিরোধী কর্মীদের দাবি। তাঁদের যুক্তি, কৃষ্ণেন্দুবাবু ২০১১ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতীকে লড়ে জয়ী হয়েছিলেন। বছর দুয়েকের মধ্যে কংগ্রেসের থেকে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। ২০১৩ সালে উপনির্বাচন হয় ইংরেজবাজারে। সেই উপনির্বাচনে কৃষ্ণেন্দুবাবু পেয়েছিলেন ৭০ হাজার ৭৯১টি ভোট। আর সিপিএমের কৌশিক মিশ্র পেয়েছিলেন ৫০ হাজার ৩৩৯টি ভোট। কংগ্রেসের প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারি পেয়েছিলেন ৪৫ হাজার ২৭১টি ভোট। তাই বাম-কংগ্রেস জোটের ভোট দাঁড়াচ্ছে প্রায় এক লক্ষ। এ ছাড়া ২০০৫ সালের পুরসভা নির্বাচনে কৃষ্ণেন্দুবাবুকে হারিয়ে ছিলেন বাম সমর্থিত নির্দল প্রার্থী হিসেবে নীহাররঞ্জন ঘোষ। তাই বরাবরই তিনি কৃষ্ণেন্দুবাবুর বিরোধী হিসেবে রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। শহরেও নীহারবাবুর পরিচিতি রয়েছে। গত পুরসভা নির্বাচনে নির্দল হিসেবে তিনি তাঁর স্ত্রী গায়ত্রীদেবীকে ১৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জয়ী করেছিলেন। ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী কৃষ্ণেন্দুবাবুকে হারাতে তাই নীহারের উপরেই আস্থা রেখেছে বাম-কংগ্রেস দুই শিবিরই।
সেই আস্থার ছবিই এ দিন দেখা গিয়েছে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে এ দিন সকাল সাড়ে নটা নাগাদ কোতুয়ালি ভবনে গিয়ে প্রয়াত কংগ্রেস নেতা তথা গনিখান চৌধুরীর মাজারে গিয়ে ফুল দেন তিনি। তাঁর সঙ্গী ছিলেন গনিখানের ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী। তার পরে, দুপুর একটা নাগাদ ইংরেজবাজারের নেতাজি মোড় থেকে মিছিল করে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেন বাম-কংগ্রেস নেতা নীহারবাবু। আর তাঁর সঙ্গী ছিলেন জেলা সম্পাদক অম্বর মিত্র, সিপিএমের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কৌশিক মিশ্র। ছিলেন জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক নরেন্দ্রনাথ তিওয়ারি-সহ দু’দলেরই শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্বেরা।
এ দিনের মিছিলে দু’দলের পতাকা হাতে নিয়ে কর্মী সমর্থকদের দেখা গিয়েছিল। তা দেখে নীহারবাবুর প্রতিক্রিয়া, ‘‘আমি খুবই খুশি। কারণ সমস্ত মানুষ আমার সঙ্গে রয়েছেন। সেই সঙ্গে রয়েছে বরকতদার আশ্বীবাদ।’’ আবু হাসেম বলেন, ‘‘আমাদের লক্ষ্য তৃণমূলকে সরানো। যার দিকে আমরা ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছি। খুব দ্রুত আমরা ইংরেজবাজারে প্রচার শুরু করব।’’ সব পঞ্চায়েতে কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করব। নিজস্ব চিত্র।