Advertisement
E-Paper

সব আসনে প্রার্থী দিতে পারল না ফ্রন্ট, কংগ্রেস

পুরসভার সব আসনে প্রার্থী ঠিক করতে পারল না কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট। বুধবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দল পুরভোটের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে। পুরসভার মোট ৪৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে কংগ্রেস ৮টি ওয়ার্ডে আর বামফ্রন্ট ২টি ওয়ার্ডে প্রার্থী এখনও ঠিকই করতে পারেনি। প্রাক্তন মেয়র গঙ্গোত্রী দত্ত এ বার ভোটযুদ্ধে নেই। কংগ্রেস সূত্রে খবর, দলই তাঁকে টিকিট দেয়নি। তবে তিনি নিজে দাবি করেছেন, এ বার আর দাঁড়াতে চাননি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০১৫ ০৩:২২

পুরসভার সব আসনে প্রার্থী ঠিক করতে পারল না কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট। বুধবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দল পুরভোটের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে। পুরসভার মোট ৪৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে কংগ্রেস ৮টি ওয়ার্ডে আর বামফ্রন্ট ২টি ওয়ার্ডে প্রার্থী এখনও ঠিকই করতে পারেনি। প্রাক্তন মেয়র গঙ্গোত্রী দত্ত এ বার ভোটযুদ্ধে নেই। কংগ্রেস সূত্রে খবর, দলই তাঁকে টিকিট দেয়নি। তবে তিনি নিজে দাবি করেছেন, এ বার আর দাঁড়াতে চাননি।

দলীয় সূত্রের খবর, সাংগঠনিক দুর্বলতার জেরেই ওই ১০টি ওয়ার্ডে প্রার্থীই খুঁজে পাচ্ছে না কংগ্রেস ও বামেরা। সেক্ষেত্রে নতুন লোক খোঁজা ছাড়াও দলবদল, অন্য দলের ক্ষোভ বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে ওই ওয়ার্ডগুলিতে প্রার্থী ঠিক করার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। এদিন দুই তরফের ঘোষিত প্রার্থীদের তালিকাই বলে দিয়েছে, পুরানো দলীয় নেতানেত্রীদের একাংশের উপরই আস্থা রেখে এবার ভোটের বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টায় নেমেছে কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট।

সবিস্তার জানতে ক্লিক করুন।

সাংগঠনিক দুর্বলতার কথা অবশ্য বামেরা খোলাখুলি স্বীকার করে নিয়েছেন। জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন পুরমন্ত্রী প্রতাশ্যা মতোই ছয় নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি বলেন, “নবীনদের সঙ্গে অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হয়। আমরা সেই ভাবেই প্রার্থী বাছাই করেছি। দু’টি ওয়ার্ডের আমাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েছে ঠিকই। আগামী কয়েকদিনে প্রার্থী ঠিক হয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।”

ফ্রন্ট সূত্রের খবর, পুরসভার ১১ এবং ১২ নম্বর ওয়ার্ডে এখনও বামেরা প্রার্থী ঠিক করতে পারেনি। এর মধ্যে ১১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর উমা গোয়েলের পারিবারিক সমস্যা থাকায় তিনি রাজি হননি। আর দলের আরেক প্রাক্তন নেতা, বর্তমান তৃণমূল নেতা নান্টু পাল দল ছাড়ায় ওই ওয়ার্ডে কার্যত সংগঠনই গড়তে পারেনি সিপিএম। আবার ১২ নম্বর ওয়ার্ডটি বরাবর শরিক সিপিআই-এর জন্য বরাদ্ধ রয়েছে। কিন্তু বেশ কিছুদিন আগে এলাকার প্রাক্তন কাউন্সিলর হরিসাধন ঘোষ দল ছেড়েছেন। সেখানে সিপিএমের সামান্য কিছু সংগঠন থাকলেও সিপিআই কর্মীদের বেশির ভাগই হরিসাধনবাবুর সঙ্গে আছেন। এবারও ওয়ার্ডটি সিপিআইকে দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় প্রার্থী খুঁজে পায়নি বামেরা।

এদিন বামেরা যে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে, তাতে ১৯টি নতুন মুখে পাশাপাশি স্নিগ্ধা হাজরা, রামভজন মাহাতো, পরিমল মিত্র, নন্দেশ্বর প্রসাদ, শান্তি চক্রবর্তী, নিখিল গুহ, শঙ্কর কর, গোপাল রায়, রেবা সরকার বা অনিমেষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো পুরানো প্রাক্তন কাউন্সিলর-মেয়র পারিষদদের টিকিট দেওয়া হয়েছে। গত ভোটে এদের অনেককেই দল টিকিট দেয়নি। আবার টানাপড়েনের পর ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নুরুল ইসলামকে প্রার্থী করেছে সিপিএম। সদ্য প্রাক্তন কাউন্সিলরদের মধ্যে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। সবিতা সাহা, রামেশ্বর প্রসাদ গুপ্তাকে টিকিট দেওয়া হয়নি। আর অমরনাথ সিংহের ওয়ার্ড সংরক্ষিত হওয়ায় তাঁর মেয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছেন। দলের জেলা সম্পাদক জীবেশ সরকার বলেন, “এবার ভোটে অশোক ভট্টাচার্যই আমাদের মুখ। ওঁর নেতৃত্বেই আমরা শিলিগুড়িকে বাঁচান স্লোগান তুলে লড়াই করব। সেখানে প্রবীণ এবং নবীন দুইয়ের সমন্বয়ে তালিকা তৈরি হয়েছে।”

বামেদের থেকে কংগ্রেসের অবস্থা অবশ্য অনেকটাই খারাপ। গতবার জেতা ১৫ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১১, ৯ এবং ১ নম্বরের কাউন্সিলর আগেই অন্য দলে নাম লিখিয়েছিলেন। বাকি ১২ জনের মধ্যে প্রাক্তন মেয়র গঙ্গোত্রী দত্ত, শর্মিলা শর্মা, গৌরী দত্ত এবং অতুল দাসকে টিকিট দেওয়া হয়নি। দলের তরফে ব্যক্তিগত কারণে তাঁরা দাঁড়াতে চান না বলেও দাবি করা হয়েছে। তপন দত্ত এবং দেবশঙ্কর সাহার ওয়ার্ড সংরক্ষণ হওয়ায় তাঁদের স্ত্রীকে প্রার্থী করেছে দল। বাকি প্রাক্তন মেয়র পারিষদ সুজয় ঘটক, স্বপন চন্দ, পম্পা দাস, সীমা সাহা-সহ ছয় জনকে প্রার্থী করা হয়েছে। কিন্তু এর বাইরে প্রার্থী খুঁজতে গিয়েই হিমশিম দশা হয়েছে কংগ্রেস নেতাদের।

দল সূত্রের খবর, প্রদেশ কংগ্রেসের নির্দেশ থাকায় এদিনই তালিকা ঘোষণা করা হয়। সেখানে ওই নয়টি ওয়ার্ড খালি রেখে তালিকা সংবাদমাধ্যমের হাতে তুলে হবে বলে ঠিক হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তৃণমূলের সদ্য প্রাক্তন কাউন্সিলর প্রকাশ দাস দলের টিকিট পাচ্ছেন না বুঝতে পেরেই সন্ধ্যায় ফের কংগ্রেসে যোগ দেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থীও করে কংগ্রেস। বাকি ৮টি ওয়ার্ডে কী হবে, তা এখনও ঠিক করতে পারেনি দল। দলের জেলা কমিটির নেতাদের একাংশ জানান, অনেকে কংগ্রেসের টিকিটে দাঁড়াতে চাইছেন না। আবার অনেকেই রাজি হলেও শেষ অবধি কতটা ভোট করতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আবার একটি ওয়ার্ডে একজনকে নেতাদের পছন্দ হলেও তাঁর নামে পুলিশের খাতায় একাধিক মামলা থাকায় পিছিয়ে আসতে হয়েছে। এই অবস্থায় তৃণমূলের তালিকা ঘোষণার পরে ওই ওয়ার্ডগুলিতে শাসক দলের প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

যদিও জেলা কংগ্রেস সভাপতি তথা বিধায়ক শঙ্কর মালাকার বলেন, “আমরা ভাল প্রার্থী দিতে চাই। অনেকে যোগাযোগ করেছেন। আমরাও দেখছি। বেশ কয়েকজনের আমাদের দলে যোগ দেওয়ার কথাও রয়েছে। সেই জন্য ওই ওয়ার্ডগুলি খালি রাখা হয়েছে। কয়েকদিনের সব চূড়ান্ত হয়ে যাবে।”

পুর-কথা

পাঞ্জাবিতে পদ্মফুল

এতদিন ছিল ছোট্ট পদ্মফুলের ছবি সম্বলিত ব্যাজ। ইদানীং বড় মাপের পদ্ম দেখা যাচ্ছে বিজেপি’র জেলা সভাপতি রথীন্দ্র বসুর পাঞ্জাবিতে। অনেকেরই নজরে পড়ছে। পুরভোট ঘোষণার পরে অন্য দল প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। কিন্তু, বিজেপি পারেনি। অথচ ব্যাজে পদ্মফুলের আকার বাড়ছে কেন সেই প্রশ্ন শুনতে হচ্ছে রথীনবাবুকে। তিনি জানান, শীঘ্রই তালিকা প্রকাশিত হবে।

‘ফটোগ্রাফার’ শঙ্কর

এ বার প্রথম প্রার্থী হচ্ছেন ডিওয়াইএফআই-র জেলা সম্পাদক শঙ্কর ঘোষ। পেশায় শিক্ষক শঙ্করবাবু এমনিতে সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইটে সক্রিয়। প্রায় প্রতিদিনই তাঁর নিত্য নতুন নানা ছবি দেখতে পাওয়া যায়। তালিকা ঘোষণার আগে তাই শঙ্করবাবুকে দেখা গেল, সিপিএমের প্রেস রুম থেকে শুরু করে সাংবাদিক বৈঠকের ছবিও মোবাইলে তুলতে।

আধা সামরিক দাবি

প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ভোটে আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েনের দাবিও তুলল বামফ্রন্ট। তবে আর তা শান্তি শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষা ভোটের জন্য শুধু নয়, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটাতেও! সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য বললেন, “ওই বাহিনী এবার খুব দরকার হবে। কারণ, তৃণমূলের টিকিট নিয়ে গোষ্ঠী কোন্দল রাস্তায় এসে পড়েছে।”

প্রার্থী নন গঙ্গোত্রী

গত পুরভোটে ১২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জিতে মেয়র হয়েছিলেন কংগ্রেস নেত্রী গঙ্গোত্রী দত্ত। তবে বাড়িতে মায়ের অসুস্থতা এবং শারীরিক সমস্যার জন্য এবার দাঁড়াতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, মেয়র হিসাবে এই নির্বাচনে তাকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। দলের একাংশের অভিযোগ, কংগ্রেসের পুরবোর্ড বড় কোনও সাফল্যের দিশা দেখাতে পারেনি। তাই একাংশ চাননি গঙ্গোত্রী দেবী এ বার প্রার্থী হোক।

শূন্যস্থান ১

১১ এবং ১২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী ঘোষণা করতে পারল না বামেরাএকদা ১২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জয়ী প্রার্থী বামেদের বোর্ডে ডেপুটি মেয়র হন।এখন সেখানে সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণেই তারা প্রার্থী দিতে পারছে না বলে মানছে বামেরা।

শূন্যস্থান ২

৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী ঘোষণা করেনি কংগ্রেস। একটি সূত্র জানাচ্ছে, অসামাজিক কার্যকলাপের মামলায় অভিযুক্ত একজনকে প্রার্থী করতে চাইছেন কংগ্রেসের কয়েকজন। কিন্তু, আরেক অংশ চান না অভিযুক্ত কাউকে দল দাঁড় করাক। ফলে, এখনও শূন্যই রয়েছে আসন।

municipal vote siliguri Trinamool Parimal Mitra Prakash Das Sabita Saha CPM
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy