প্রকাশ্য সভা করে তৃণমূল বিরোধী জোটের প্রচার শুরুর দিনেই প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা করে আসরে নামলেন দিনহাটার কংগ্রেস নেতা ফজলে হক। মঙ্গলবার কোচবিহারের সুকান্ত মঞ্চে বাম গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ জোটের সভা হয়। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সভাপতি শ্যামল চৌধুরী, সিপিএমের কোচবিহার জেলা সম্পাদক তারিণী রায়, কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী দেবাশিস বনিক-সহ বাম নেতারা। ওই মঞ্চ থেকেই নেতৃত্ব জোট প্রার্থীদের সমর্থনে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের প্রচারে নামতে নির্দেশ দেন। ঘটনাচক্রে, এদিনই নিজেকে দিনহাটা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী ঘোষণা করে নাজিরহাট সহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালান তিনি। তা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছেন কংগ্রেস ও বাম নেতারা।
জেলা কংগ্রেস সভাপতি শ্যামল চৌধুরী বলেন, “জোটের পক্ষে কোচবিহারে আমরা দুটি আসনে লড়াই করব। সিতাই ও তুফানগঞ্জ আমাদের জন্য ছাড়া হয়েছে। ওই দুটিতেই লড়াই করব। ফজলেবাবু প্রবীণ নেতা কি করছেন জানি না। এটুকু বলতে পারি দিনহাটায় বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই হবে না।” সিপিএমের কোচবিহার জেলা সম্পাদক তারিণী রায় বলেন, “কংগ্রেস একটা জাতীয় দল। তারা কোথায় কোথায় লড়াই করবে জানিয়ে দিয়েছে। এর বাইরে কেউ যদি নির্দল হয়েও লড়াই করেন তিনি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবেন। এমনটা হয়ে হবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস।” ফজলে হক অবশ্য এ দিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি কংগ্রেসের হয়ে ভোটে দাড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, “উদয়ন গুহের মতো প্রার্থীকে হারানোর জন্যে ওই এলাকার কংগ্রেস প্রার্থীরা আমাকে চাইছেন। প্রয়োজনে বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই হবে। দলীয় নেতৃত্ব বিষয়টি বুঝবেন বলে আশা করছি।”
জোট সূত্রের খবর, কোচবিহারে ৯টি আসনের মধ্যে ফরওয়ার্ড ব্লক ৪টি আসনে, সিপিএম ৩ টি আসনে এবং কংগ্রেস ২ টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। ইতিমধ্যে বামেদের ৭টি আসনে প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করা হয়েছে। কংগ্রেসের দুটি সিতাই ও তুফানগঞ্জে এখনও প্রার্থী ঘোষণা না হলেও প্রচার শুরু করে দেওয়া হয়েছে। এতদিন প্রচারে কংগ্রেস ও বামেরা প্রকাশ্যে সেভাবে আসেনি। এ দিন ঘোষণা করে জোটের পক্ষে থেকে কনভেনশনের ডাক দেওয়া হয়। ওই বৈঠকে যে কংগ্রেস নেতা শ্যামলবাবু, বাম নেতা তারিণীবাবু-সহ প্রত্যেকেই হাজির থাকবেন সে কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়। এদিন দুপুর থেকেই সেখানে শহর ও সংলগ্ন এলাকার নেতা-কর্মীরা হাজির হয়। ওই সভায় শ্যামলবাবু জানান, তাঁরা জোট প্রার্থীদের সমর্থনে জেলা জুড়ে প্রচার চালাবেন। একই কথা জানান বাম নেতারাও। বাম ও কংগ্রেস নেতাদের নিয়ে শহরের একটি প্রচার কমিটিও সেখান থেকে ঘোষণা করা হয়। শ্যামলবাবু বলেন, “এ বারে যা পরিস্থিতি তাতে জোটের পক্ষেই কোচবিহারের সব আসন আসবে। ৭টি আসন ইতিমধ্যেই আমাদের পক্ষে চলে এসেছে। বাকি দুটিতে টায়ে টায়ে লড়াই হচ্ছে।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, নাটাবাড়ি আসনে এবার বাম প্রার্থী তমসের আলি জয়ী হবেন।
ওই মিটিং চলার মধ্যে দিনহাটায় ফজলে হকের প্রচারের খবর চলে যায় ওই নেতাদের কানে। তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাঁরা। ওই এলাকার কংগ্রেস কর্মীদের একাংশের দাবি, দিনহাটায় কংগ্রেসের ভাল প্রভাব রয়েছে। সেখানে বাম প্রার্থীকে কংগ্রেসের কেউ মেনে নেবেন না। কারণ, ফজলেবাবু দাঁড়ালে জয় সেখানে নিশ্চিত। তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “কংগ্রেস কর্মীরা কখনই ওই জোট মেনে নেবেন না। কয়েকজন নেতা নিজেদের স্বার্থে ওই জোট তৈরি করেছেন। দিনহাটায় কেন সব জায়গায় কংগ্রেস কর্মীরা ক্ষোভে ফুঁসছেন। জোট প্রার্থীরা এ বারে সব আসনে হারবেন। আর শ্যামলবাবু অঙ্কে খুব কাঁচা। তাই তিনি উত্তর দিতে ভুল করছেন।”