তপসিখাতায় করোনার সারি হাসপাতালে ফের এক রোগীর মৃত্যু হল। শনিবার গভীর রাতে কালচিনির বাসিন্দা, বছর পঞ্চাশের ওই ব্যক্তি মারা যান। জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ওইদিন দুপুরেই সারি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করানো হয়। তাঁর শরীর থেকে সংগৃহীত লালারস রবিবার সকালেই পরীক্ষার জন্য শিলিগুড়িতে পাঠানো হয়েছিল। এ দিন রাতে সেই রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে বলে জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর। এবং স্বভাবতই স্বস্তিতে জেলা স্বাস্থ্য মহল। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃতদেহ সংরক্ষণ করে রাখা ছিল। এ দিকে, এ দিন দুপুরে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি সাড়ে চার বছরের এক শিশুমৃত্যুর ঘটনাতেও চাঞ্চল্য ছড়ায়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই মৃত্যুর কারণ সেপ্টিসেমিয়া।
সপ্তাহ দুয়েক আগে তপসিখাতার আয়ুষ হাসপাতালকে করোনার সারি হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলা হয়। গত সপ্তাহেই ওই হাসপাতালে প্রথম এক বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ওই বৃদ্ধ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে বৃদ্ধের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট অবশ্য নেগেটিভ এসেছিল। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, ওই ঘটনা পরে শনিবার গভীর রাতে ফের এক রোগীর মৃত্যু হল।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, কালচিনির বাসিন্দা, বছর পঞ্চাশের ওই ব্যক্তি প্রায় ১০ দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। শুক্রবার থেকে তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এই অবস্থায় শনিবার বাড়ির লোকেরা তাঁকে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে তাঁকে পাঠানো হয় তপসিখাতার হাসপাতালে। তাঁর লালারসের নমুনা সংগ্রহ করেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু রাত প্রায় ১টা নাগাদ তিনি মারা যান।
এ দিন দুপুরে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে সাড়ে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। সূত্রের খবর, শিশুটিরও বাড়ি কালচিনিতেই। শিশুর বাড়ির লোকেরা জানান, তিনদিন ধরে জ্বরে ভুগছিল সে। শনিবার শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। প্রথমে লতাবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল ও সেখান থেকে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে শিশুটিকে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু অবজার্ভেশন ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুটির মৃত্যু হয়। হাসপাতালের এক কর্তা বলেন, ‘‘ওই শিশুমৃত্যুর সঙ্গে করোনার সম্পর্ক নেই। সেপ্টিসেমিয়ায় সে মারা গিয়েছে।’’