জমির নিয়ে দুই পক্ষের গোলমালে ১৪৪ ধারা প্রয়োগের প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকে তদন্তের নির্দেশ দিল আদালত। বুধবার শিলিগুড়ির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক (ফাস্ট কোর্ট) অজয় কুমার দাস ওই নির্দেশ দিয়েছেন।
মাটিগাড়ার চৈতন্যপুর এলাকায় একটি বাড়ির জমিকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলছে। সম্প্রতি একপক্ষ শিলিগুড়ি পুলিশের স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইন্দ্র চক্রবর্তীর এজলাস থেকে জমির উপর ১৪৪ ধারার নির্দেশ পান। অভিযোগ, ওই নির্দেশে ম্যাজিস্ট্রেট ইন্দ্র চক্রবর্তী আবেদনকারীকে আইনি সাহায্য করার জন্য মাটিগাড়ার ওসিকে বলেছেন। যা ওই ১৪৪ ধারার নির্দেশের মধ্যে থাকার কথা নয়। এর পিছনে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। থানার এক সহকারি সাব ইন্সপেক্টর আরেকপক্ষকে থানায় দীর্ঘক্ষণ আটকে মামলা মিটিয়ে নেওয়ার জন্য চাপও দিয়েছেন বলে অভিযোগ।
সমস্ত অভিযোগ শোনার পরে এদিন দায়রা বিচারক ১৪৪ ধারা খারিজ করা ছাড়াও পুলিশ কমিশনারকে গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারক কলকাতার নবান্নে স্বরাষ্ট্র দফতরে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে নিম্ন আদালতে দুই পক্ষের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির কথাও বলেছেন বিচারক। বিষয়টি শোনার পর শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার চেলিং সিমিক লেপচা বলেছেন, ‘‘আদালতের নির্দেশের কপি হাতে পাইনি। তা পেলে অবশ্য দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ কমিশনারেটের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইন্দ্র চক্রবর্তী শুধু বলেছেন, ‘‘উচ্চ আদালতের নানা পর্যবেক্ষণ হতেই পারে। রায়ের কপি দেখলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।’’, ইন্দ্রবাবু কমিশনারেটের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (সদর) পদেও আছেন।
২০১২ সালে অগস্ট মাসে বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্য সরকারি শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট তৈরি করে। সেই সময় রাজ্যপালের বিশেষ নির্দেশে কিছু ক্ষেত্রে কমিশনারেটের হাতে ম্যাজিস্ট্রেটের সমান ক্ষমতাও দেওয়া হয়। ১৪৪ ধারা এর অন্যতম। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, পুলিশ কমিশনার ছাড়াও ডেপুটি পুলিশ কমিশনারেরা পালা করে প্রতি সপ্তাহে স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে বসে বিভিন্ন আবেদনের শুনানি করে নির্দেশ দেন। ৪ মে ওই আদালত থেকে মাটিগাড়ার একটি জমির গোলমালকে ঘিরে ১৪৪ জারি সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করা হয়।
অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতে দাখিল হওয়া মামলাকারীদের অভিযোগ, ১৪৪ নির্দেশে ডিসি মাটিগাড়া থানার ওসিকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখার নির্দেশ ছাড়াও আবেদনকারীকে আইনি সাহায্য দেওয়ার কথা জানান। তেমনিই, জমির উপরও নজরদারি করতে বলেন। মামলাকারীদের আইনজীবী মৃণাল সেনগুপ্তের দাবি, ‘‘ওই নির্দেশের পর পুলিশের একাংশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। আমার মক্কেলের এক আত্মীয়কে এক অফিসার থানায় নিয়ে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয়। এর পিছনে দুর্নীতির আশঙ্কাও রয়েছে। তাই আমরা উচ্চ আদলতের দ্বারস্থ হই।’’ পুলিশের এই ভূমিকার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দার্জিলিং জেলা লিগ্যাল এড সার্ভিসের সাধারণ সম্পাদক অমিত সরকার। তিনি বলেন, ‘‘আদালত পুলিশ কর্তাদের তদন্তের কথা বলেছে বলে শুনেছি। অবশ্যই তা হওয়া প্রয়োজন। না হলে আইনের অপব্যবহার করে দুর্নীতি অভিযোগ উঠবেই।’