Advertisement
E-Paper

হোয়াটসঅ্যাপে ঘুরছে একটাই বার্তা, বসন্ত ভেসে গেছে!

বসন্ত ভেসে গেছে। শনিবার সকাল থেকেই হোয়াটসঅ্যাপে হিট এই বার্তা। জনপ্রিয় বাংলা গানের লাইনের শব্দ অদলবদল করে মোবাইল থেকে মোবাইলে ছড়িয়ে পড়ছিল এই লাইনটি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ মার্চ ২০১৭ ০২:০০
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

বসন্ত ভেসে গেছে। শনিবার সকাল থেকেই হোয়াটসঅ্যাপে হিট এই বার্তা।

জনপ্রিয় বাংলা গানের লাইনের শব্দ অদলবদল করে মোবাইল থেকে মোবাইলে ছড়িয়ে পড়ছিল এই লাইনটি। এই রসিকতার সঙ্গে অবশ্য মিল আছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের পুর্বাভাসেরও। আগামী ৪৮ ঘণ্টার আবহাওয়ার যে পরিবর্তনের পূর্বাভাস আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে তাতে মুখভার রং ব্যবসায়ী থেকে রং খেলুড়ে সকলেরই। তারাও জানাচ্ছে, বসন্তের ভেসে যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, দোলের দু’দিনও বৃষ্টি থাবা বসাতে চলছে উত্তরে। আজ, রবিবার বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকছেই বলে আবহাওয়া দফতর জানিয়ে দিয়েছে। তবে আগামী সোমবার সকালের পর থেকে আকাশ পরিষ্কার থাকবে বলে জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর। বিহার থেকে তেলঙ্গানা পর্যন্ত বিস্তৃত নিম্নচাপ অক্ষরেখার কারণেই দোলের রঙ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। শুধু উত্তরবঙ্গ নয় সিকিমেও টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার রাতেই ঝড়বৃষ্টি শুরু হয় উত্তরের জেলাগুলিতে। পাহাড়েও বৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত উত্তরবঙ্গের সাত জেলার আবহাওয়া একই রকম থাকে না। তবে দোলের দু’দিন বৃষ্টির কালো মেঘ সব জেলার আকাশেই জমেছে বলে আবহাওয়াবিদেরা জানাচ্ছেন।

আবহাওয়ার যা পূর্বাভাস তাতে রবিবারেও আবহাওয়ার উন্নতির কোনও সম্ভাবনা নেই। ফলে বসন্ত উৎসবের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে চিন্তা বেড়েছে ব্যবসায়ীদেরও।

উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রামীণ মৌসম বিভাগের নোডাল অফিসার শুভেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ঝাড়খণ্ডে তৈরি নিম্নচাপের জেরেই কোচবিহারে বৃষ্টি হচ্ছে। রবিবারেও অবস্থার খুব একটা সরে যাওয়ার এখনই সম্ভাবনা নেই বলেই আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস মিলেছে। তবে সোমবার থেকে রোদ ওঠার সঙ্গেই আবহাওয়ার উন্নতিরও সম্ভাবনা রয়েছে।” রবিবার দোল। কোচবিহারে অবশ্য তারপরের দিনেও আবির থেকে রং খেলার রেওয়াজ রয়েছে। তাতেও অবশ্য চিন্তা কমছে না ব্যবসায়ীদের। এক ব্যবসায়ী মকন ঘোষ বলেন, “শনিবার ব্যবসা জমেনি। সোমবার রোদ উঠলেও লাভের আশা নেই।”

কেন এই অসময়ের বৃষ্টি? দিন পাঁচেক আগে থেকেই আবহাওয়া দফতর বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানাচ্ছিল। পূর্ব বিহার থেকে একটি ঘূর্ণাবর্ত হিমালয়ের পাদদেশ এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। সিকিমের কিছু এলাকাও ঘুর্ণাবর্তের দখলে রয়েছে। সেই ঘূর্ণাবর্তের সঙ্গে দোসর হয়েছে নিম্নচাপ অক্ষরেখাও। তেলঙ্গানা পর্যন্ত বিস্তৃত সেই নিম্নচাপ রেখার টানেই বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প ছুটে আসছে উত্তরবঙ্গের দিকে। হচ্ছে বৃষ্টি। আজ, রবিবারও দিনভর বৃষ্টি থাকবেই বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের সিকিমের আধিকারিক গোপীনাথ রাহা বলেন, ‘‘সিকিমে অন্য বছর এই সময়ে তেমন বৃষ্টি হয় না। তবে শুক্রবার থেকে সিকিমেও টানা বৃষ্টি চলছে। রবিবারও বৃষ্টি থাকবে। সোমবার থেকে বৃষ্টি কমতে পারে।’’

দোলের আগে উত্তরে শিলিগুড়ি-সহ অন্য জেলা শহরে শনিবার ত্রিপল টাঙিয়ে আবির-রং বিক্রি হয়েছে। কোথাও আবিরের বস্তা ভিজে গিয়েছে। কোথাও আবার ব্যবসায়ীরা ভয়ে আবির বারই করেননি। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার প্রায় দিনভর বৃষ্টির জেরে এমজেএন স্টেডিয়ামের মাঠে জল জমে যায়। তাই রঙের উৎসব কতটা জমবে তা আপাতত আকাশের ওপরেই নির্ভরশীল। তাই আজ সকাল থেকে আকাশের দিকে তাকিয়েই দিন শুরু হবে।

Depression North Bengal
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy