Advertisement
E-Paper

BSF: সন্ধেয় বাজার বন্ধের ফরমান, আয় কমে ক্ষতির মুখে চাষিরা

তাঁর দাবি, বিএসএফ সন্ধ্যার পর বাজার বন্ধ করতে বাধ্য করায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

গৌর আচার্য 

শেষ আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০২১ ০৮:১১
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

রায়গঞ্জ ব্লকের বিন্দোল গ্রাম পঞ্চায়েত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা। স্থানীয় পঞ্চাশোর্ধ্ব খলিলুর রহমানের বিন্দোল সদর এলাকায় হার্ডওয়্যারের দোকান রয়েছে। সোমবার সকালে খলিলুর বললেন, ‘‘গত প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে ঠিকমতো ব্যবসা করতে পারছি না। সন্ধ্যা সাতটার পর বিএসএফের জওয়ানরা এসে জোর করে বিন্দোল বাজারের সমস্ত দোকান বন্ধ করে দিচ্ছেন। সীমান্ত থেকে বাজারের দূরত্ব প্রায় তিন কিলোমিটার। বাজারকে কেন্দ্র করে সীমান্তে পাচার, অনুপ্রবেশ বা গোলমালের কোনও সম্পর্ক নেই।’’ তাঁর দাবি, বিএসএফ সন্ধ্যার পর বাজার বন্ধ করতে বাধ্য করায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বিন্দোলের কয়লাডাঙি ও গোয়ালপোখরের নরগাঁও সীমান্ত এলাকার দুই বাসিন্দা মহম্মদ রেজউয়ান ও তবিবুর ইসলামের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে বিএসএফ কাঁটাতার থেকে এ পারের ভারতীয় ভূখণ্ডের ৩০০ মিটার পর্যন্ত কৃষিজমিতে ভুট্টা ও পাটের মতো লাভজনক ফসলের চাষ করতে দিচ্ছে না। কাঁটাতারের ওপারে ভারতীয় ভূখণ্ডের জমিতে আগেই ওই দুই ফসলের চাষ বন্ধ করে দিয়েছে বিএসএফ। ফলে চাষিরা ধান, গম, সর্ষে, বেগুন-সহ বিভিন্ন ফসল চাষ করলেও লাভজনক, পাট ও ভুট্টা চাষ করতে পারছেন না। অভিযোগ, তাতে আয় কমছে স্থানীয় কৃষেকদের। সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে ভারতীয় ভূখণ্ডের জমি থেকে মাঝেমধ্যেই বাংলাদেশের দুষ্কৃতীরা বিভিন্ন ফসল কেটে চুরি করে পালাচ্ছে।

জেলার ইটাহার বাদে বাকি রায়গঞ্জ, কালিয়াগঞ্জ, হেমতাবাদ, করণদিঘি, ইসলামপুর, চোপড়া, গোয়ালপোখর-১ ও ২ ব্লকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। সম্প্রতি, কেন্দ্রীয় সরকার বিএসএফের এক্তিয়ার সীমান্ত থেকে ১৫ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৫০ কিলোমিটার করেছে। জেলার ওই আটটি ব্লকের সীমান্ত এলাকার অনেক বাসিন্দার অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে বিএসএফের জওয়ানরা সন্ধ্যার পর সীমান্ত থেকে তিন থেকে চার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত বিভিন্ন দোকানপাট বন্ধ করে দিচ্ছেন। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরেই বিএসএফ সীমান্তের কাঁটাতারের এপারের ও ওপারের ভারতীয় ভূখণ্ডের জমিতে বিভিন্ন লাভজনক ফসলের চাষ করতে দিচ্ছে না। সীমান্তের ওপারের জমি থেকে বছরে একাধিকবার বাংলাদেশের দুষ্কৃতীরা ফসল কেটে চুরি করে পালাচ্ছে।

সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, সন্ধের পর বিভিন্ন কাজে বাড়ি থেকে বার হলে তাঁদেরকে বিএসএফ জওয়ানদের নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। সীমান্ত এলাকার রাস্তা দিয়ে দিনভর যাতায়াত করার সময়েও তাঁদেরকে বিএসএফের হেনস্থার মুখে পড়তে হয়। তাই আতঙ্কে তাঁরা সব সময় নিজের কাছে সচিত্র পরিচয়পত্র রাখতে বাধ্য হন। পাশাপাশি, সীমান্তের ওপারের জমিতে চাষ করতে যাওয়ার সময়ে বাসিন্দাদের বিএসএফের হেনস্থার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ। ইসলামপুরের সোনামতী সীমান্তের বিজবাড়ি এলাকার বাসিন্দা আনাজ ব্যবসায়ী রঙ্গন পাল বলেন, ‘‘সীমান্ত এলাকার রাস্তা দিয়ে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়েও বিএসএফের অনুমতি নিতে হয়। ফলে অনেক সময়ে রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেরি হয়ে যায়।’’

বিএসএফের উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের আইজি রবি গাঁধী অবশ্য বললেন, ‘‘বিএসএফের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ উঠছে, তা ভিত্তিহীন। বিএসএফ কেন্দ্রের দ্বারা গঠিত খুবই পেশাদার বাহিনী।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy