তৃণমূল এ বার টিকিট দেয়নি জলপাইগুড়ির বিদায়ী বিধায়ক, চিকিৎসক প্রদীপ কুমার বর্মাকে। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরেই বন্ধের মুখে তাঁর দলীয় অফিস। সেখান থেকে সরেছে তৃণমূলের প্রতীকও। এমনকী দলের প্রচারেও দেখা যাচ্ছে না প্রদীপকে। দলের তরফে তিনি প্রচারে নামার জন্য এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দেশিকা পাননি বলে জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, দলীয় প্রার্থী কৃষ্ণ দাসও তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি। পরিবারের দাবি, সম্প্রতি তাঁর অন্ত্রে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল থাকায় তিনি তাঁর চিকিৎসা পেশা নিয়েই ব্যস্ত রয়েছেন।
জলপাইগুড়ি শহরের বাবুপাড়ায় বিদায়ী বিধায়কের ব্যক্তিগত কার্যালয়ও কার্যত শুনশান। বুধবার বেলা ১২টা নাগাদ তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে দলীয় কোনও কর্মীর দেখা মেলেনি। বিদায়ী বিধায়কের এক দেহরক্ষী ও তাঁর নার্সিংহোমের এক কর্মী সেই কার্যালয়ে বসেছিলেন। ওই কর্মী বলেন, ‘‘এই অফিস ৪ মে পর্যন্ত খোলা থাকবে। তার পরে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে।’’
প্রদীপ বলেন, ‘‘দলের কাছে আমি আগেই প্রার্থী না করতে আর্জি জানিয়েছিলাম। রাজনীতির সঙ্গে আমার তেমন যোগাযোগ কোনও দিনই ছিল না। আমি চিকিৎসকের পেশা নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চাই। প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পরে ফোনে কৃষ্ণ দাসকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। তবে তিনি এখনও পর্যন্ত আমার সঙ্গে দেখা করেননি। দলের পক্ষ থেকেও এখনও পর্যন্ত আমাকে প্রচারে নামার জন্য কোনও নির্দেশ কেউ দেননি।’’
শাসক, বিরোধীর চোখে প্রদীপবাবু এক সজ্জন মানুষ হিসেবেই পরিচিত। বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলার সহ-সভাপতি বুবাই কর বলেন, ‘‘তৃণমূলের অপকর্মের সঙ্গে বিদায়ী বিধায়ক খাপ খাইয়ে নিতে কখনও পারবেন না, এটাই স্বাভাবিক। তবে সময় এসেছে কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে নয়, বিদায়ী বিধায়ক হিসেবে তৃণমূলের দূর্নীতি ও অপকর্ম মানুষের সামনে তিনি তুলে ধরুন। এটাই আশা করি।’’ সিপিএমের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক পীযূষ মিশ্র বলেন, ‘‘চিকিৎসক প্রদীপ কুমার বর্মা এক জন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবেই সুপরিচিত। বিধায়ক থাকাকালীনও ব্যক্তিগত ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অনৈতিক কাজের অভিযোগ নেই।’’
তৃণমূলের জলপাইগুড়ি শহর ব্লক সভাপতি শেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘প্রদীপবাবু একটু অসুস্থ রয়েছেন। সুস্থ হলেই প্রচারে অংশ নেবেন বলে আশা করছি।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)