Advertisement
০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

নথির খোঁজ নেই, অসুস্থ রেজিস্ট্রার

২০ ডিসেম্বর ইসির বৈঠকে সাধনবাবুর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়েরই ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক বিপ্লব গিরিকে। শুধু তাই নয়, ওই সিদ্ধান্তের দিন, বৃহস্পতিবারই রেজিস্ট্রারের চেম্বার ও কনফিডেনশিয়াল বিভাগ সিল করা হয় উপাচার্যের নির্দেশে। পরে সেই সিল খুলে কাজ শুরু হয়।

গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়।

গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা 
মালদহ শেষ আপডেট: ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৩:৫১
Share: Save:

গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার পদে দায়িত্বভার বোঝানো নিয়ে জোর চাপানউতোর ও নাটকীয়তা শুরু হয়েছে। দায়িত্বভার বোঝানো পর্ব রীতিমতো ভিডিও রেকর্ডিং করে রাখা হচ্ছে এবং শনি ও সোমবার, এই দু’দিনেও দায়িত্বভার অর্পণ পর্ব শেষ হয়নি। রেজিস্ট্রার দফতরের অনেক নথিপত্র না মেলায় দু’দিনেও দায়িত্বভার বুঝে নিতে পারেননি বলে দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়া রেজিস্ট্রার বিপ্লব গিরি। অপরদিকে দায়িত্বভার বোঝানো পর্ব চলাকালীন এ দিন মাঝপথে দফতরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন বিদায়ী রেজিস্ট্রার সাধনকুমার সাহা। তাঁকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সাধনবাবুর দাবি, দায়িত্বভার বোঝানো নিয়ে তাঁর উপর মানসিক চাপ দেওয়াতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। যদিও নয়া রেজিস্ট্রার চাপ দেওয়ার সেই দাবি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। গোটা ঘটনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে জোর আলোড়ন পড়েছে। এদিকে এদিনও দায়িত্বভার পর্ব না মেটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিভাগ সিল করে রাখা হয়েছে।

Advertisement

এ বছরেরই ১১ জানুয়ারি গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল (ইসি)-র সভায় বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সাধনবাবুকে রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ করা হয়। ২০ ডিসেম্বর ইসির বৈঠকে সাধনবাবুর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়েরই ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক বিপ্লব গিরিকে। শুধু তাই নয়, ওই সিদ্ধান্তের দিন, বৃহস্পতিবারই রেজিস্ট্রারের চেম্বার ও কনফিডেনশিয়াল বিভাগ সিল করা হয় উপাচার্যের নির্দেশে। পরে সেই সিল খুলে কাজ শুরু হয়।

নয়া রেজিস্ট্রার বিপ্লববাবু বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের পুরোনো রোস্টার মেলেনি, অথচ গত কয়েক মাসে একাধিক শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে। অশিক্ষক কর্মীদেরও রোস্টার মেলেনি। এ ছাড়া মামলা সংক্রান্ত যে সমস্ত ফাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে, সে সমস্ত ফাইলও বেপাত্তা।’’ তিনি দাবি করেন, ‘‘আমি নতুন দায়িত্ব নিতে চলেছি, ফলে সমস্ত কিছু বুঝেই দায়িত্ব নিতে চাই। কিন্তু সাধনবাবু অনেক নথিই বোঝাতে পারছেন না।’’

সাধনবাবুর পাল্টা দাবি, দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার নামে দুদিন ধরে তাঁকে হেনস্তা করা হচ্ছে। এর জেরেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তাঁর আশঙ্কা, ফাইল না পাওয়ার অজুহাতে ষড়যন্ত্র করে তাঁকে ফাঁসানোও হতে পারে। যদিও বিপ্লববাবু বলেন, ‘‘দায়িত্ববণ্টন পর্বে শুধু আমি নই, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক আধিকারিকরাও ছিলেন। এ ছাড়া পুরো বিষয়টি ভিডিও রেকর্ডিং করা রয়েছে। ফলে হেনস্তার ঘটনা ভিত্তিহীন।’’

Advertisement

উপাচার্য স্বাগত সেন বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো রোস্টার, চাকরির নিয়োগের বেশ কিছু ফাইল পাওয়া যাচ্ছে না। এ সব না পেলে বিপদে পড়তে হবে। তাই নয়া রেজিস্ট্রার দায়িত্ববণ্টনে সব বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।’’

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.