৫২ বছরের দাম্পত্য কাটানোর পর স্ত্রীকে আবার বিয়ে করলেন প্রাক্তন বিধায়ক খগেশ্বর রায়। পেনশন নিয়ে জটিলতায় খগেশ্বরের বিবাহ অভিযানে চর্চা শুরু হয়েছে জলপাইগুড়িতে।
জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জের বিধায়ক ছিলেন খগেশ্বর রায়। এ বার তৃণমূল তাঁকে টিকিট দেয়নি। বদলে প্রাক্তন অ্যাথলেটিক স্বপ্না বর্মণকে টিকিট দেওয়া হয়। রাগের চোটে রাজনীতি ছাড়ার কথা ঘোষণা করলেও এখনও তৃণমূলেই রয়েছেন খগেশ্বর। হঠাৎ তাঁর বিবাহ অভিযান নিয়ে শোরগোল এলাকায়।
সত্তরের দশকে প্রতিমা রায়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন রাজনীতিক খগেশ্বর। দুই পুত্র এবং দুই কন্যা নিয়ে ভরা সংসার তাঁদের। পাঁচ দশকের দাম্পত্যের পর স্ত্রীকে দ্বিতীয় বার বিয়ে করলেন তিনি।
জানা গিয়েছে, বিধায়ক পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর প্রাপ্য পেনশন আটকে গিয়েছে খগেশ্বরের। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পেনশন চালু করতে হলে বিবাহের বৈধ শংসাপত্র জমা দিতে হবে। ৫০ বছর আগের নথি আদালতের কাছে পর্যাপ্ত এবং প্রামাণ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হয়নি। তাই আইনি বাধ্যবাধকতায় পুনরায় রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করলেন প্রাক্তন বিধায়ক।
স্ত্রীকে দ্বিতীয় বার বিয়ে নিয়ে খগেশ্বর বলেন, “নেহাতই প্রয়োজন ও আইনি নথিপত্রের কারণে আবার বিয়ে করতে হল।’’ প্রাক্তন বিধায়কের সরস মন্তব্য, ‘‘রাজনৈতিক জীবনে বহু উত্থান-পতন দেখেছি। একাধিক বার বিধায়ক থেকেছি। কিন্তু অবসরজীবনে পেনশনের আবেদন করতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে হতে হয়নি।” তাঁর সংযোজন, ‘‘সবার ভাগ্যে তো এমনটা হয় না। নিজের স্ত্রীকেই দ্বিতীয় বার বিয়ে করার সুযোগ আর ক’জন পান।’’ তিনি আরও জানান, আত্মীয়-স্বজন ডেকে বড় কোনও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি।
আরও পড়ুন:
তবে খগেশ্বরের বিয়ে এখন সামাজিক মাধ্যমে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রাক্তন বিধায়কের ‘ব্যতিক্রমী বিয়ের’ কাহিনি আলোচনার কেন্দ্রে।