মালদহের মানিকচকের ভূতনি ও রতুয়ার বিস্তীর্ণ গঙ্গা ভাঙন কবলিত এলাকা মঙ্গলবার পরিদর্শন করলেন রাজ্যের সেচ প্রতিমন্ত্রী জোয়েল মুর্মু ও দফতরের প্রধান সচিব রাজেশ সিংহ। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই এ দিন সেচ দফতরের প্রধান সচিব ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিন খতিয়ে দেখেন।
১২ জুন মালদহের দুর্গাকিঙ্কর সদনে মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং দুই দিনাজপুর জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে সরকারি বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভারত সরকার এবং রাজ্য সরকার আধাআধি অর্থ খরচ করে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের ভাঙন রোধের কাজ করবে বলে জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি এ বারের বর্ষায় সেই ভাঙন প্রতিরোধের কাজ খুব বেশি একটা করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আগামী বছরে মালদহ, মুর্শিদাবাদের ভাঙন প্রতিরোধে বড় কাজ হওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন সেই বৈঠকে।
জানা গিয়েছে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই এ দিন মালদহের গঙ্গা ভাঙন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জেলায় আসেন সেচ দফতরের প্রধান সচিব রাজেশ সিংহ। এ দিন সকালে তিনি সেচ প্রতিমন্ত্রী, জেলাশাসক রাজনবীর সিংহ কপূর, সেচের মুখ্য বাস্তুকার (উত্তর) দেবাশিস মৌলিক ও অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে প্রথমে মানিকচকের ভূতনিতে নির্মীয়মাণ জোড়াবাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেন। গত বছর ওই অংশ দিয়েই ফুলহার নদীর জল ঢুকে প্রথম বন্যা হয়েছিল ভূতনিতে। এর পর তাঁরা কেশরপুর কলোনিতে যান এবং সেখান থেকে লঞ্চে করে ভূতনির গঙ্গার ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করতে রতুয়ার পশ্চিম রতনপুরে যান। সেখানেও গত বছর বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল এবং দ্বিতীয় দফায় ভূতনিতে বন্যা হয়। সেই ভাঙা অংশে এখন বালির বস্তা ও কাঠের বল্লা দিয়ে প্রতিরোধের কাজ চলছে। সেই কাজও দেখেন তাঁরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন। এর পর লঞ্চে করে রতুয়ার মহানন্দাটোলা পঞ্চায়েত এলাকা এবং সংলগ্ন বিহারের বাবলাবোনা মসজিদ পর্যন্ত গঙ্গা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। প্রধান সচিব বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এ দিন গঙ্গা ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করলাম। পরিস্থিতির পর্যালোচনা করে পদক্ষেপ করা হবে।’’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘দফতরের আধিকারিকেরা এ দিন ভাঙন পরিস্থিতি দেখলেন। এ বারে আমরা আলোচনা করব।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)