কোথাও টানা আধঘণ্টা, কোথাও বা মাত্র ১০ মিনিট। সেই ঝড়-শিলাবৃষ্টিতেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হল ডুয়ার্স জুড়ে। কোথাও ঝড়ে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গিয়েছে, কোথাও বা বাড়ির টিনের চাল উড়ে গিয়েছে। বাজ পড়ে জখম হয়েছেন চার জন।
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই ঝড়-শিলাবৃষ্টি শুরু মালবাজারে। রাত পর্যন্ত কয়েক দফায় ঝড় বয়েছে মালবাজার শহর এবং লাগোয়া এলাকায়। বৃষ্টির সঙ্গে প্রবল ঝোড়ো হাওয়াতে বিকেল থেকেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় মালবাজারের। বিপর্যস্ত হয় মোবাইল, ল্যান্ডফোন এবং ইন্টারনেট পরিষেবাও। শুক্রবার দুপুরের পর অবশ্য বিদ্যুৎ ও টেলি-পরিষেবা স্বাভাবিক হয়। বাড়ির গাছ ভেঙে মালবাজারের নিউ মাল এলাকার বাসিন্দা প্রমোদ ঠাকুর এবং তাঁর স্ত্রী মঞ্জু ঠাকুর জখম হয়েছেন। মঞ্জুদেবীকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। মালবাজার পুর এলাকাতেই অন্তত পাঁচশো গাছ উপড়ে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। কুড়িটিরও বেশি বাড়ি এবং দোকান ঘরের টিনের চাল উড়ে গিয়েছে। মালবাজার পরিমল মিত্র স্মৃতি কলেজে এখন মালবাজার এবং নাগরাকাটা দুই বিধানসভার স্ট্রংরুম তৈরি হয়েছে। এই কলেজ ভবনের লাগোয়া ক্যান্টিনের একাংশের টিনের চালও উড়ে গেছে।
মালবাজারের কলোনি এলাকার আর আর প্রাথমিক স্কুলের টিনের চাল ঝড়ে বেঁকে উঠে গেছে। ওদলাবাড়ির ঘিসবস্তি, চেল কলোনি এলাকাতেও একাধিক বাড়ি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মালবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন সাহা বলেন, ‘‘ঝড়ের ক্ষতির হিসাব আমরা তৈরি করছি। কোটি টাকার বেশি সম্পত্তি মালবাজার এলাকায় নষ্ট হয়েছে বলে প্রাথমিক রিপোর্ট পেয়েছি।’’
ক্ষতি হয়েছে চা বাগানেও। শিলাবৃষ্টিতে ছোট চা গাছের ক্ষতি হয়েছে বলে জানান চা বাগানের মালিকেরা। ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ এলাকায় চা বাগানগুলির প্রচুর ছায়াগাছও উপড়েছে। তবে দীর্ঘদিন বাদে বৃষ্টির দেখা মেলায় বড় চা গাছে নতুন পাতা গজাবে বলেও জানাচ্ছেন চা বাগানের মালিক পক্ষের সংগঠনেরা।
টি অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার ডুয়ার্স শাখার সচিব রামঅবতার শর্মা বলেন, ‘‘রোগপোকার আক্রমণে জেরবার হয়ে অনাবৃষ্টিতে চা গাছ শুকোতে বসেছিল। সেই পরিস্থিতি এই বৃষ্টি অনেকটাই কাটিয়ে তুলবে। তবে আমরা চাইছি আরও বৃষ্টি হোক।’’
ধূপগুড়িতেও প্রায় চার হাজার বাড়ি ঝড়ে ভেঙে গিয়েছে বলে প্রাথমিক রিপোর্টে প্রশাসন জানিয়েছে। সব্জি, পাট, ভুট্টা-সহ সব ধরনের ফসলেরই প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। ধূপগুড়ির বেশির এলাকায় খুঁটি ভেঙে বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ হয়ে পড়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে উড়ে গিয়েছে ধূপগুড়ি রেল স্টেশনের প্লাটফর্মের উপরের ছাউনির টিন। গাছ পড়ে জখম হন মধ্য বোরাগারির গৃহ বধূ রত্না রায়-সহ এলাকার সাত বাসিন্দা। খুট্টিমারি জঙ্গলেও অনেক গাছ উপড়ে গিয়েছে বলে বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।
ক্ষতি হয়েছে ব্লকের বারোঘরিয়া, আলতাগ্রাম, ডাউকিমারি, দুরামারি এলাকায়। ধূপগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি রাজকুমার রায় জানালেন, “ব্লক জুড়ে প্রায় পাঁচ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়াও প্রচুর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত হিসেব নেওয়া হচ্ছে। আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দু’কোটির টাকার মত।”