দুর্গাপূজা বাঙালির বড় প্রিয়। আর সেই পুজোর আয়োজনও যদি আক্ষরিক অর্থেই ‘বড়’ হয়, তাহলে তো সোনায় সোহাগা।
গত বছর কলকাতার দেশপ্রিয় পার্কের ‘ব়়ড় দুর্গা’র জনপ্রিয়তার পরে সেই আকর্ষণ ছড়িয়ে পড়েছে জেলাতেও। উত্তরবঙ্গের পুজোয় মালদহ হোক বা জলপাইগুড়ি, লোক টানতে সেই ‘বিরাট’ সাম্রাজ্যেই ভরসা পুজো উদ্যোক্তাদের। কোথাও প্রতিমা, কোথাও বা মণ্ডপ— মিল একটাই, সবই বিশালাকায়।
দেশপ্রিয় পার্কের আদলে প্রায় ৫০ ফুটের দুর্গাপ্রতিমা গড়ে জেলার বিগ বাজেটের পুজো গুলিকে টেক্কা দিতে মরিয়া মালদহের প্রত্যন্ত গ্রাম উত্তর আইহো সর্বজয়ী ক্লাব। উদ্যোক্তাদের দাবি, মালদহ নয় উত্তরবঙ্গে সব থেকে বড় দুর্গা এ বার হচ্ছে এখানেই। পুজো কমিটির সম্পাদক প্রবীরকুমার ঘোষ বলেন, ‘‘দেশপ্রিয় পার্কের ৮৮ ফিটের দূর্গা দেখার সাধ ছিল গ্রামবাংলার মানুষেরও। তা মেটানোর জন্য আমরা বড়ো দুর্গা করার উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করছি, আমাদের দূর্গাই উত্তরবঙ্গের মধ্যে সব থেকে বড়।’’
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা আইহোর নামটোলা গ্রামটি মালদহ শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রত্যন্ত এই গ্রামের সর্বজয়ী ক্লাবের পুজো এ বারে ২৭ বছর পড়ল। প্রতি বছরই চমক থাকলেও এ বারে শুরু থেকেই জেলাবাসীর নজর কেড়েছে এই গ্রামের বড় দূর্গা। শেষ মুহূর্তে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। দশ জন শিল্পী মিলে প্রায় তিন মাস ধরে প্রতিমা তৈরি করেছেন। গ্রামের একটি জলাশয়ে মাচা তৈরি করে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে।
প্রতিমার আয়োজনও বিরাট। খড় লেগেছে ১৪০০ আঁটি। আর বাঁশ ১৭৮টি, দড়ি ৩৮ কেজি, ১৭৮ কেজি পেরেক ও এক ট্রলি মাটি। প্রতিমার জন্য কোনও মণ্ডপ থাকছে না। খোলা আকাশের নীচে থাকবে প্রতিমা। এরজন্য মাটির উপরে প্লাস্টার অফ প্যারিস দিয়ে ওয়াটারপ্রুফ রং করা হচ্ছে। দেড় লক্ষ টাকা খরচে তৈরি প্রতিমা গড়ছেন গ্রামেরই শিল্পী নীরঞ্জন সিংহ। তাঁর কথায়, ‘‘এত বড় মূর্তি এই প্রথম গড়লাম। প্রথমে ভয় হলেও এখন কাজ প্রায় শেষ। এই কাজে আমার ছেলেও সাহায্য করেছে।’’
মালদহ যদি করতে পারে, জলপাইগুড়িই বা পিছিয়ে থাকে কেন? তাই জলপাইগুড়িতে দর্শকদের বড় পুজো উপহার দিতে চায় অসম মোড় তারাপাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি৷ পার্থক্য শুধু একটাই— কলকাতার সেই পুজোর চমক ছিল প্রতিমা, আর জলপাইগুড়ির ক্ষেত্রে চমক হতে যাচ্ছে মণ্ডপ৷ কমিটির মণ্ডপের উচ্চতা এ বার হতে যাচ্ছে প্রায় ৭৫ফুট৷
উদ্যোক্তাদের দাবি, এতো উঁচু মণ্ডপ এই অঞ্চলে আর নেই ৷ ফলে দর্শকদের মন জয় করতে বাধ্য তাদের এই পুজো মণ্ডপ৷ তাই পুজোর কদিন মণ্ডপে মানুষের ভিড়ও উপচে পড়বে বলেই আশা উদ্যোক্তাদের। দক্ষিণ ভারতের মন্দিরের আদলে কাল্পনিক মণ্ডপ হচ্ছে তারাপাড়ায়৷ পূর্ব মেদিনীপুরের শিল্পীরা মণ্ডপটি তৈরি করছেন৷ মণ্ডপের ভিতরটা তৈরি হচ্ছে রবার ও রেক্সিন দিয়ে৷ বাইরে থাকবে থার্মোকলের কাজ৷ মণ্ডপের তিন দিকে বারান্দায় শোভা পাবে ১৪০টি কলসি৷ প্রত্যেকটির উপরে থাকবে একটি করে ডাব৷
তাঁদের এমন আয়োজন দর্শকদের টেনে আনবে বলেই আশা পুজো উদ্যোক্তাদের। তারাপাড়ার সম্পাদক নিতাই করের কথায়, ‘‘ছোট থেকে বড় – সবাইকে এই পুজো এ বার মুগ্ধ করবে৷’’ তবে গত বছর দেশপ্রিয়ের ভিড়ে যেভাবে বিপত্তি ঘটেছিল, তেমন কিছু রুখতে ব্যবস্থা আছে তো? মালদহের আইহোর পুজোটির সম্পাদক প্রবীরবাবু বলেন, ‘‘আশা করছি খুব ভিড় হবে। তাই আমরা মহিলা ও পুরুষ ভলান্টিয়ার রাখব পুজোর পাঁচটা দিন।’’