মহাকুম্ভের জল দূষণ নিয়ে রিপোর্ট পেশ করেছে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। তাতে বলা হয়েছে, ওই জল স্নানের অনুপযুক্ত। এই সময়ে জল ও মাটি দূষণের অভিযোগ উঠছে কোচবিহারের বাণেশ্বরে মোহনদের (কাছিম) বাসস্থান শিব দিঘিতে। মোহন রক্ষা কমিটির দাবি, দিঘির দূষিত জল ও মাটির কারণে মোহনেরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে, মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। গত সাড়ে তিন মাসে শিব দিঘির ত্রিশটি মোহনের মৃত্যু হয়েছে। মাত্র অসুস্থ পাঁচটি মোহনকে সুস্থ করে তুলতে সমর্থ হয় বন দফতর।
কোচবিহারের বাণেশ্বরের ‘মোহন’ অতি বিপন্ন প্রজাতির তালিকাভুক্ত কাছিম। কোচবিহারের মানুষ মোহনকে দেবতা রূপে পুজো করেন। গত কয়েক বছর ধরে দুর্ঘটনায় ও অসুস্থ হয়ে অনেক মোহন মারা গিয়েছে। তা নিয়ে বাণেশ্বরে বনধ্ পর্যন্ত হয়। পরে মোহন রক্ষা কমিটি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাকা রাস্তায় পাহারা বসিয়ে মোহনের দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে অসুস্থ হয়ে মোহনদের মৃত্যু কমানো যায়নি।
মোহন রক্ষা কমিটির সম্পাদক রঞ্জন শীল জানান, ক্যালিফোর্নিয়ার দু'জন প্রাণী বিজ্ঞানীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তাঁরা। যাঁরা পৃথিবী জুড়ে মোহনদের নিয়ে কাজ করেন। তাঁরা ২০১৩ সালে বাণেশ্বরে এসেছিলেন মোহনদের খোঁজখবর নিতে। তাঁদের বিশদে সব কিছু জানানো হয়। তাঁরাই মাটি ও জল দূষণের আশঙ্কা করছেন। রঞ্জন বলেন, ‘‘আমরা তা প্রশাসনকে জানিয়েছি। এখনও যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’’
প্রশাসনের তরফ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যে ওই দিঘির জল পরীক্ষা করেছে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর। কোচবিহার সদর মহকুমাশাসক তথা কোচবিহার দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ডের সদস্য কুণাল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘শীতে মোহন মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে। একাধিকবার ওই দিঘি পরিদর্শন করে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শীতের সময় দিঘির জল কমিয়ে কিছুটা ফল পাওয়া গিয়েছে। দূষণের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সে মতো পদক্ষেপ করা হবে।’’
বন দফতরের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘কোনও মোহনের মৃত্যু হলে সঙ্গে সঙ্গে ময়না-তদন্ত করা হয়। তার রিপোর্ট আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেই। জল ও মাটি দূষণের একটি অভিযোগ রয়েছে। সে সংক্রান্ত পরীক্ষা ও রিপোর্ট সংগ্রহের কাজ চলছে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ অবশ্য এখনও ওই বিষয়ে কিছু জানায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পর্ষদের এক কর্তা বলেন, ‘‘আমরা এখনও ওই বিষয়ে কিছু জানি না।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)