ক্রান্তি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মনোনয়ন মসৃণ হল না। মাঝরাস্তায় বিদায়ী সভাপতিকে আটকে রাখা হল। তাতে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দলের চেনা ছবি প্রকাশ্যে এল বলে জানালেন স্থানীয়রা।
এ দিন ১৬ আসন বিশিষ্ট ক্রান্তির পঞ্চায়েত সমিতি বৈঠকে পঞ্চানন রায় সভাপতি মনোনীত হন। অখণ্ড মালবাজার পঞ্চায়েত সমিতির বিদায়ী সভাপতি কৌশল্যা রায়ও এই পদের অন্যতম দাবিদার ছিলেন। কিন্তু তাঁকে দুই কিমি আগে তৃণমূল কর্মী সমর্থকেরাই আটকে দেয় বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁকে ধাক্কা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন কৌশল্যা। তিনি বলেন, ‘‘ আমার দলের লোকেরাই আমাকে বাধা দিয়েছে। আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি।’’
তবে তাঁর অভিযোগ নস্যাৎ করেছে দল। তৃণমূলের তরফে এদিনের সভার দায়িত্বে ছিলেন জলপাইগুড়ি জেলার মহিলা তৃণমূল সভানেত্রী মহুয়া গোপ। তিনি বলেন, ‘‘কেউ ওঁকে বাধা দেননি। উনি কেন অনুপস্থিত ছিলেন জানি না।’’ ক্রান্তির পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মনোনয়নে ১৩ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। কৌশল্যা ছাড়াও বিজেপির সদস্যও অনুপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাহার আলি নামে এক সদস্য শারীরিক অসুস্থতার কারণে আসতে পারেননি।
পুলিশের দাবি, কৌশল্যা রায়কে আনতে গেলেও ধনতলা মোড় থেকেই তিনি বাড়ি চলে যান। অন্যদিকে, দল যে তাঁকে সভাপতি মনোনীত করেছে তাতে তিনি কৃতজ্ঞ বলে পঞ্চানন রায় জানান।
মালবাজারে আজ, মঙ্গলবার সভাপতি মনোনয়নের বৈঠক থাকলেও তা সোমবার বিকেলে আচমকাই বাতিল করা হয়। কোভিড পরিস্থিতিতে মালবাজার ব্লকে বিভিন্ন কন্টেনমেন্ট জ়োন তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় ভিড় জমায়েত হওয়ার আশঙ্কা এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়েছে। তৃণমূল সূত্রে খবর, মালবাজারে দল কাকে সভাপতি করবে সে বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। মালবাজারের শহর তৃণমূল সভাপতি স্বপন সাহা, মন্ত্রী বুলু চিক বরাইক প্রমুখেরা জট কাটাতে ও শীর্ষ নেতৃত্বদের সঙ্গে আলোচনা করতে কলকাতা গিয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে।