Advertisement
E-Paper

শোষক পোকার হামলা মুকুলে

মুকুলে শোষক পোকার হানায় মাথায় হাত পড়েছে মালদহের রতুয়ার আমচাষিদের। এ বছর আমের অন ইয়ার, অর্থাৎ বেশি ফলনের বছর। জেলার মধ্যে আম উত্পাদনের অন্যতম প্রধান এলাকা রতুয়ার দুটি ব্লক।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০২:০১
নষ্ট হয়ে গিয়েছে আমের মুকুল ও পাতা। —নিজস্ব চিত্র।

নষ্ট হয়ে গিয়েছে আমের মুকুল ও পাতা। —নিজস্ব চিত্র।

মুকুলে শোষক পোকার হানায় মাথায় হাত পড়েছে মালদহের রতুয়ার আমচাষিদের। এ বছর আমের অন ইয়ার, অর্থাৎ বেশি ফলনের বছর। জেলার মধ্যে আম উত্পাদনের অন্যতম প্রধান এলাকা রতুয়ার দুটি ব্লক। কিন্তু মুকুল ধরতেই একের পর এক আমবাগানে শোষক পোকার হানা শুরু হয়। পোকার আক্রমণে মুকুল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিপুল পরিমাণ ফলন মার খাবে বলে চাষিদের আশঙ্কা।

চাষিদের মুকুলে রোগপোকার ব্যাপক হানায় উদ্বিগ্ন উদ্যান পালন দফতরও। ওই রোগপোকার হানা থেকে বাঁচতে চাষিদের সচেতন করতে বৃহস্পতিবার রতুয়ায় চাষিদের নিয়ে সচেতনতা শিবিরেরও আয়োজন করে উদ্যান পালন দফতর।

উদ্যানপালন দফতরের মালদহের উপ অধিকর্তা রাহুল চক্রবর্তী বলেন, ‘‘ঘনঘন আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে কুয়াশা থাকলে এমন সমস্যা তৈরি হয়। এ জন্য আগে থেকেই চাষিদের পরিচর্যা জরুরি। কিন্তু জেলায় অধিকাংশ আমবাগান লিজে নেন ব্যবসায়ীরা। ফলে খরচ বাঁচাতে তারা সঠিক পরিচর্যা না করে সিনথেটিক স্প্রে করায় ওই রোগপোকা জাঁকিয়ে বসে।’’

উদ্যান পালন দফতর ও চাষিদের সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার প্রায় অধিকাংশ আমবাগানেই শোষক পোকার কমবেশি হানা দেয়। এতে বড় জোর ১০ শতাংশ মুকুল নষ্ট হলেও তাতে উত্পাদনের তেমন কোনও হেরফের না হলেও এ বার আবহাওয়ার ঘনঘন পরিবর্তন হয়েছে। ফলে শোষক পোকা ব্যাপক ভাবে হানা গিয়েছে।

এ ছাড়া এই পোকা এক বাগান থেকে অন্য বাগানে ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়ে। শোষক পোকার আক্রমণে মুকুল আগুনে ঝলসানোর মতো পুড়ে যায়। একই অবস্থা হয় গাছের পাতারও। রতুয়ার দু’টি ব্লকে প্রায় ৩০ শতাংশ মুকুল নষ্ট হয়ে গিয়েছে। যা উত্পাদনের উপর প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কিত চাষিরা।

উদ্যান পালন দফতর অবশ্য জানায়, ওই পোকার আক্রমণ হলে আর মুকুল বাঁচানোর উপায় নেই। তবে যেখানে এখনও তা হয়নি, সেখানে নিয়ম মেনে পরিচর্যা করলে ফল মিলবে বলে চাষিদের সচেতন করতে প্রচারে নামা হয়েছে। বিশেষজ্ঞেরা জানান, ‘‘এ ক্ষেত্রে এক লিটার জলে ইমিডাক্লোরোফিট আধ মিলি লিটার মিশিয়ে তা মুকুলে স্প্রে করতে হবে। সঙ্গে অ্যাসিফেট ৭৫ প্রতি লিটারে দুই গ্রাম মিশিয়ে স্প্রে করলে ভালো ফল মিলবে।’’

আড়াইডাঙ্গার আমচাষি লোকনাথ কুমার বলেন, ‘‘২৫ বিঘার মধ্যে ১০ বিঘা আমবাগান শোষক পোকার হানায় নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আমি পরিচর্যা করলেও লাগোয়া বাগান থেকে ওই পোকা হানা দিয়েছে।’’

Insect Mango tree
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy