E-Paper

বেড়ার টুকরো ফুসফুসে, বাঁচাল মেডিক্যাল

অন্তত ১০ ইঞ্চির একটি বাতার টুকরো তাঁর পিঠ ফুটো করে ঢুকে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাড়ির লোকেরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

অর্জুন ভট্টাচার্য  

শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৫ ০৯:০২
অস্ত্রোপচার করে বার করা হয় সুপারি গাছের বাতার এই টুকরোই।

অস্ত্রোপচার করে বার করা হয় সুপারি গাছের বাতার এই টুকরোই। জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল সূত্রে পাওয়া ছবি।

ছাদ থেকে নিচে পড়ে গিয়েছিলেন এক যুবক। দুর্ঘটনার জেরে তাঁর পিঠ ফুটো করে সুপারি গাছের একটি টুকরো ফুসফুস ও কিডনিতে ঢুকে যায়। তড়িঘড়ি জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার করে ওই রোগীকে বাঁচালেন চিকিৎসকেরা।

মেডিক্যাল সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাত ১২টা নাগাদ আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় স্বপন মুস্তাফিকে। জলপাইগুড়ি পুরসভা এলাকার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ৫ নম্বর গুমটি লাগোয়া দক্ষিণ বামনপাড়ার বাসিন্দা স্বপন। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাতেও খাওয়ার পরে বাড়ির ছাদে পায়চারি করছিলেন। আচমকাই খোলা ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান। নিচে সুপারি গাছের বাতা দিয়ে তৈরি বেড়ার উপর পড়ে যান। অন্তত ১০ ইঞ্চির একটি বাতার টুকরো তাঁর পিঠ ফুটো করে ঢুকে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাড়ির লোকেরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

রোগীর আত্মীয় তথা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি নিরুপম মুস্তাফি বলেন, ‘‘হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা রোগীকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জলপাইগুড়িতেই চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার অনুরোধ জানাই। চিকিৎসকদের পরামর্শমতো অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ দুই-একটি সরঞ্জামও আমরা রাতেই শিলিগুড়ি থেকে এনে দিই। জলপাইগুড়ি শহরে রাতে ওষুধের দোকান খোলা না থাকায় শিলিগুড়িতে যেতে হয়েছিল।’’

মেডিক্যাল সূত্রে খবর, রাতে সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ও অ্যানাস্থেসিস্টদের দলগত কাজের ফলেই ঝুঁকিপূর্ণ জটিল এই অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়েছে। রোগীকে দুই ইউনিট রক্তও দিতে হয়েছে। শল্য চিকিৎসক রজত ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘শিরদাঁড়ার ডান দিক ফুটো হয়ে ফুসফুস ও কোলনের কাছাকাছি গিয়ে আটকে ছিল ওই বাতার টুকরো। অস্ত্রোপচার করতে অন্তত আড়াই ঘণ্টা সময় লেগেছে।’’

মেডিক্যালের সুপার তথা ভাইস প্রিন্সিপাল কল্যাণ খান বলেন, ‘‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই রোগী। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। চিকিৎসক, নার্সিংস্টাফ, স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীর বাড়ির লোকেদের দলগত সহযোগিতায় এমন সাফল্য পাওয়া গিয়েছে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Jalpaiguri

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy