Advertisement
E-Paper

ক্ষমতার তুলনায় কম পরীক্ষা, প্রশ্ন

উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে ভাইরোলজি রিসার্চ অ্যান্ড ডায়গন্যাস্টিক ল্যাবরেটরি (ভিআরডিএল)-র কথাই ধরা যাক। সেখানে যে পরিকাঠামো রয়েছে তাতে প্রতিদিন দেড় হাজারের মতো নমুনা পরীক্ষা সম্ভব।

সৌমিত্র কুণ্ডু

শেষ আপডেট: ২১ জুলাই ২০২০ ০৬:২৬
 পাকড়াও: লকডাউন উপেক্ষা করেই পথে। আটক করেছে ভক্তিনগর থানার পুলিশ। সোমবার শিলিগুড়ি সেবক  রোডে। ছবি: বিনোদ দাস

পাকড়াও: লকডাউন উপেক্ষা করেই পথে। আটক করেছে ভক্তিনগর থানার পুলিশ। সোমবার শিলিগুড়ি সেবক রোডে। ছবি: বিনোদ দাস

করোনা সংক্রমণ রুখতে লালারসের নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। জেলায় জেলায় পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলেও সেই পরিকাঠামো ঠিকমতো কাজে লাগানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ। চিকিৎসকদের একাংশ মনে করছেন, অনেক ক্ষেত্রেই ল্যাবরেটরিগুলোতে প্রতিদিন যে পরিমাণ নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব তার চেয়ে অনেক কম হচ্ছে। বেশির ভাগ জেলায় ট্রুন্যাট যন্ত্রে লালারসের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা হয়েছে। ওই যন্ত্রে কোনও নমুনা পজ়িটিভ হলে তা নিশ্চিত করতে ফের আরটিপিসিআর যন্ত্রে পরীক্ষা করাতে হয়। সে কারণে অনেক জেলায় যে পরীক্ষা ব্যবস্থা করা হয়েছে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ছাড়া সেসব কতটা কার্যকরী তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে ভাইরোলজি রিসার্চ অ্যান্ড ডায়গন্যাস্টিক ল্যাবরেটরি (ভিআরডিএল)-র কথাই ধরা যাক। সেখানে যে পরিকাঠামো রয়েছে তাতে প্রতিদিন দেড় হাজারের মতো নমুনা পরীক্ষা সম্ভব। অথচ এখন প্রতিদিন ৭০০-৮০০ পরীক্ষা হচ্ছে। রায়গঞ্জ মেডিক্যালে দিনে ৪০০ পরীক্ষা করা যেতে পারে। সেখানে ৯০-১০০টির মতো নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। মালদহেও দিনে ৮০০ পরীক্ষা করার মতো পরিকাঠামো থাকলেও ৪৫০-৫০০ হচ্ছে। উত্তরবঙ্গে যদিও করোনা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা আধিকারিক সুশান্ত রায় বলেন, ‘‘নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। আরও কিছু জায়গায় পরীক্ষা ব্যবস্থা চালুর কথা রয়েছে। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের মতো কিছু ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরি পরিকাঠামো আরও বাড়ানো হচ্ছে।’’ আগে কম পরিকাঠামো নিয়েই উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের ভিআরডিএল-এ একদিনে দুই হাজার পরীক্ষাও হয়েছে। কর্তৃপক্ষের একাংশের দাবি, আগে ‘পজ়িটিভ কেস’ কম ছিল বলে পাঁচটি করে নমুনা মিশিয়ে একটি পুল তৈরি করে বেশি সংখ্যায় নমুনা পরীক্ষা করা যেত। কোনও পুল পজ়িটিভ হলে তার নমুনাগুলি আলাদা করে পরীক্ষা হতো। এখন পুল টেস্ট হচ্ছে না। তাতে পরীক্ষার সংখ্যা কিছু কমেছে।

গোড়ার দিকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের এই ল্যাবরেটরিতেই উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর নমুনা পরীক্ষার একমাত্র জায়গায় ছিল। পরে মালদহ, উত্তর দিনাজপুর এবং অন্য জেলাগুলোতে নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা হয়। তার মধ্যে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল, মালদহ এবং রায়গঞ্জে আরটিপিসিআর যন্ত্রে নমুনা পরীক্ষা করা যায়। ওই যন্ত্রের রিপোর্ট চূড়ান্ত বলে ধরা হয়। কিন্তু ট্রুন্যাট যন্ত্রে কোনও রিপোর্ট পজ়িটিভ এলে নিশ্চিত হতে ফের আরটিপিসিআর-এ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ির ক্ষেত্রে প্রতিটি জেলা থেকে এখনও প্রতিদিন ১৫০, ২০০ প্রয়োজনে ২৫০ নমুনা পাঠানো হয় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে। পাহাড় থেকেও আসে। বালুরঘাট থেকে নমুনা পাঠানো হয় মালদহ মেডিক্যালে। ইসলামপুর মহকুমার নমুনা বেশিরভাগই এখন পাঠানো হয় রায়গঞ্জ মেডিক্যালে। অথচ সে সব ক্ষেত্রে যতটা পরিকাঠামো রয়েছে তা সম্পূর্ণ কাজে লাগিয়ে বেশি সংখ্যায় পরীক্ষা হচ্ছে না বলে অভিযোগ।

মালদহ মেডিক্যালের সুপার অমিত দাঁ বলেন, ‘‘নমুনা যে ভাবে আসছে সেই মতো পরীক্ষা হচ্ছে।’’ স্বাস্থ্য দফতরের সূত্রে খবর, জেলায় নমুনা সংগ্রহে জোর দেওয়া হচ্ছে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জানানো হচ্ছে উপসর্গ না থাকলে পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। রায়গঞ্জ মেডিক্যালের এক আধিকারিকেরও তাই দাবি।

Coronavirus Health Covid-19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy