বাম-কংগ্রেসের গড় মালদহ, দুই দিনাজপুরে এবারে জয়জয়কার তৃণমূলের। তারপরেও সাংগঠনিক পদের রদবদল নিয়ে জোর জল্পনা ছিল তিন জেলারই তৃণমূলের অন্দরে। তাই সবার নজর ছিল নেত্রীর ভার্চুয়াল বৈঠকের উপরে। শনিবার দলীয় নেতৃত্বদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের দাবি, ‘একাধিক জেলার সাংগঠনিক পদে রদবদলের ইজ্ঞিত দিয়েছেন নেত্রী। মাসখানেক পরে সেই রদবদলের প্রক্রিয়া শুরু হবে জেলাস্তরে।’
মালদহে ১২তে ৮, উত্তর দিনাজপুরে ৯ এ সাত এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে ৬টির মধ্যে তিনটি আসন পেয়েছে তৃণমূল। মালদহ ও উত্তর দিনাজপুর কংগ্রেসের এবং দক্ষিণ দিনাজপুর বামেদের গড় হিসেবে পরিচিত রাজনীতিতে। সেই গড়েই এবারে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে তৃণমূল। সাফল্যের পরেও তিন জেলা কমিটিগুলিতে রদবদলের সম্ভাবনাকে ঘিরে জল্পনা চলছে তৃণমূলের অন্দরেই। তৃণমূলের একাংশ নেতৃত্বের দাবি, জেলা গুলির শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ একাধিক পদে রয়েছেন। এবারে দল এক ব্যাক্তি এক পদের পথে হাঁটতে চাইছে। এদিনের বৈঠককের দিকে চোখ ছিল তিন জেলার নেতৃত্বের।
এদিনের ভার্চুয়াল বৈঠকে মালদহের মৌসম নুর, কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী, দক্ষিণ দিনাজপুরের বিপ্লব মিত্র, অর্পিতা ঘোষ এবং উত্তর দিনাজপুরের কানাইয়া লাল আগরওয়ালদের মতো নেতৃত্বরা হাজির ছিলেন। বৈঠক সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলা ধরে আলাদা করে কোনও কিছু বলেননি নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বেশ কিছু জেলায় সাংগঠনিক পদে রদবদলের ইজ্ঞিত দিয়েছেন। দলীয় নেতৃত্বের একাংশের দাবি, বৈঠকে শীর্ষ নেতৃত্ব আট জেলার সভাপতি বদলের ইজ্ঞিত দিয়েছেন। মাস খানেকের মধ্যে জেলা স্তরে রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষ্ণেন্দু বলেন, মালদহের ফলাফলে নেত্রী খুশি। জেলা সফরে আসার কথাও বলেছেন নেত্রী। দক্ষিণ দিনাজপুরে তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্য সভার সাংসদ অর্পিতা ঘোষ বলেন, “জেলা সদর বালুরঘাটে সাংগঠনকে শক্তিশালী করতে পদক্ষেপ হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে দলনেত্রী স্পষ্ট করে দেবেন।”
একই সঙ্গে এদিনের ভার্চুয়াল বৈঠকে দলবদলুদের ঘরে ফেরা নিয়েও কিছু আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন নেতৃত্ব। কারণ, সরলা মুর্মু, বাচ্চু হাঁসদা, অমল আচার্যদের মতো একাধিক নেতা, নেত্রী পদ্ম ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। তাঁদের ঘরে ফেরার ইচ্ছে এখনও ঝুলে রইল বলে দাবি নেতৃত্বের।
তথ্য সহায়তা: অভিজিৎ সাহা, অনুপ রতন মোহান্ত ও গৌর আচার্য