দক্ষিণ দিনাজপুরে আক্রান্তের সংখ্যা যখন বাড়ছে, ঠিক তখনই করোনা নিয়ে নজরদারি ও সতর্কতা কমছে বলে অভিযোগ উঠল। ভিড় বেড়ে চলেছে রাস্তাঘাটে। অভিযোগ, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বালাই নেই। অধিকাংশের মুখে নেই মাস্কও।
এ দিন জেলায় করোনা আক্রান্ত হন আরও দু’জন। তাঁরা বংশীহারি ব্লকের রাঙাপুকুর এলাকার বাসিন্দা। কয়েক দিনে বংশীহারি ব্লকেই ২০ জনের করোনা রোগীর হদিস মেলায় এলাকার বাসিন্দারা উদ্বেগে।
বাসিন্দাদের একাংশ দাবি করেন, গৃহ-নিভৃতবাসের বদলে অনেকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পরে তাঁদেরই কারও পজ়িটিভ রিপোর্ট আসছে। তাতে গোষ্ঠী সংক্রমণের আশঙ্কা থাকছে। সে কারণে এলাকাবাসী সকলের লালারসের নমুনা পরীক্ষা করার দাবি ওঠে। জেলা স্বাস্থ্য দফতর অবশ্য বাসিন্দাদের ওই দাবি মানেনি।
এ দিন ওই দু’জন আক্রান্ত মিলিয়ে জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা হল ৮৩। তার মধ্যে এখনও চিকিৎসা চলছে ৩৬ জনের। জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন আক্রান্ত ওই দু’জন ৬ জুন দিল্লি থেকে ফেরেন।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকুমার দে বলেন, ‘‘সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন ৪৫ জন।’’ তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত জেলায় মোট ৬ হাজার ৬০৫ জনের লালারসের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। জেলায় কন্টেনমেন্ট জ়োন রয়েছে দু’টি।
মঙ্গলবার সকালে বুনিয়াদপুর, গঙ্গারামপুর, বালুরঘাট শহরের বাজারে ভিড় দেখে গোষ্ঠী সংক্রমণের আশঙ্কা করছেন জেলাবাসীর অনেকে। বুনিয়াদপুরের বাসিন্দা রতন সরকার বলেন, ‘‘সকালে বাজারে গিয়ে দেখি সামাজিক দূরত্বের জন্য দেওয়া গোল দাগ নেই। কার্যত একে অন্যের ঘাড়ে উঠে দোকানে দরদাম করছেন। এতে সংক্রমণ ছড়াতে বেশি সময় লাগবে না।’’ বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, করোনা রুখতে প্রশাসন প্রচার চালিয়েছিল— সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন, মাস্ক পড়ুন। ভিড় এড়াতে জেলার বাজার সরিয়ে বিভিন্ন মাঠ বা ফাঁকা জায়গায় বসানো হয়েছিল। বাজারে বাজারে ছিল পুলিশের নজরদারি।
‘আনলক-পর্ব’ শুরু হতেই সেই নিরাপত্তা বা নজরদারি উধাও হয়েছে বলে অভিযোগ। বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাজার বা জনবহুল এলাকায় আগের মতো নজরদারি না থাকায় ভিড় করছেন অনেকে। গৃহবাসে থাকা অনেক বাসিন্দাই বাইরে ঘোরাঘুরি করছেন। পরে তাঁদের অনেকেরই করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজ়িটিভ আসায় সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা ছড়িয়েছে। তাঁদের অনেকে হাট-বাজারে ঘোরাফেরা করায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
জেলার পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত অবশ্য জানিয়েছেন, নজরদারি চলছে। তিনি বলেন, ‘‘মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। জনবহুল এলাকায় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। কেউ স্বাস্থ্যবিধি না মানলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’’