এক বৃদ্ধাকে ঘরে আটকে রেখে নগদ টাকা, সোনার গয়না নিয়ে পালাল এক দুষ্কৃতী। বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি থানার রবীন্দ্রমোড়় এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, সেলসম্যানের মত জামাকাপড়়, কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে মোটরবাইক নিয়ে দোতলা বাড়িটিতে ঢুকে ওই দুষ্কৃতী লুঠপাট চালিয়েছে। পরে কালো রঙের মোটরবাইকটি নিয়ে পালায় ওই দুষ্কৃতী। ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত নামলেও রাত অবধি অবশ্য দুস্কৃতীর হদিশ মেলেনি। শিলিগুড়ির কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা বলেন, ‘‘একটি নির্দিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে। দুষ্কৃতীর খোঁজ চলছে।’’
পুলিশ সূত্রের খবর, ওই বৃদ্ধার নাম তৃপ্তি দাস। বেশ কিছুদিন আগেই তৃপ্তিদেবীর স্বামী মারা গিয়েছেন। ছেলে শুভজিৎ এবং মেয়ে সুস্মিতাকে নিয়ে থাকেন। শুভজিৎ শহরের একটি বেসরকারি লগ্নিকারী সংস্থায় কর্মরত। মেয়ে বাড়িতে টিউশন পড়ান। এ দিন সকালে ছেলে কাজে চলে যাওয়ার পর মা ও মেয়ে বাড়িতে ছিলেন। সেই সময় এক সেলসম্যান শান্তিনিকেতনের হস্তশিল্পের জিনিসপত্র বিক্রির কথা বলে বাড়িটিতে আসে। দোতলা বাড়িটির নীচতলার কোনও নির্মাণ নেই। দোতলার সব ঘর রয়েছে। ওই সেলসম্যানকে সুস্মিতাদেবী কিছু নেবেন না বলে চলে যেতে বলেন। পুলিশের সন্দেহ, পরবর্তীতে যে দুষ্কৃতী এসেছিল, তার বিবরণের সঙ্গে প্রথম জনের বিবরণের কিছু মিল রয়েছে।
বেলা পৌনে ১২টা নাগাদ সুস্মিতাদেবী পাড়ার একটি বাড়িতে যান। সেই সময় তৃপ্তিদেবী ছাদে জামাকাপ মেলতে যান। সিড়ি দিয়ে নিচে নামার সময়ই তিনি হঠাৎ দুষ্কৃতীকে ঘরের সামনে দেখেন। তিনি জানান, আমাকে দেখেই ধাক্কা দিয়ে ওই যুবক একটি ঘরে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে বন্ধ করে দেন। মিনিট ১০-১৫ পর দরজা খুলে তার হাতল দিয়ে ভয় দেখায়। আমি এগিয়ে যেতেই হাতল ছুড়ে মেরে সিড়ি দিয়ে নেমে পালায়। মহিলার ছেলে শুভজিৎবাবু জানান, মার চিৎকার শুনে পাশের বাড়ির এক মহিলা ছুটে আসেন। তিনিও দেখেছেন, কালো প্যান্ট পড়া যুবক বাইক নিয়ে পালাচ্ছে। পরে দেখি বিছানার নীচ থেকে চাবি বার করে আলমারি থেকে সোনার গয়না, ১০ হাজার টাকা এবং কয়েকটি ঘড়ি নিয়ে পালিয়েছে।
ওই পরিবারের ঘনিষ্ট তথা পেশায় আইনজীবী সপ্তক সরকার জানান, দিনে দুপুরে এমন ঘটনা ভাবাই যায় না। বাইক নিয়ে ছেলেটি ডাবগ্রামের দিকে পালিয়েছে। আমাদেরও মনে হচ্ছে, এক দফায় বাড়িতে আগে দুষ্কৃতীরা দেখে গিয়েছে। ফাঁকা বাড়ি, সুনসান রাস্তার সুযোগে দুষ্কৃতীটি ওই কাজ করেছে। ঘটনার পর ওই পরিবারের সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। পুলিশকে আমরা বলেছি, দ্রুত দুষ্কৃতীকে ধরতে।
ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় যান শিলিগুড়ি থানার আইসি অচিন্ত্য গুপ্ত-সহ পুলিশ অফিসারেরা। তাঁরা পরিবারের লোকজনের সঙ্গেও কথা বলেন। প্রতিবেশীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ অফিসারদের অনুমান, বাড়ির গেটটি ভুল করে কেউ খুলে রেখেছিলেন। সেই সুযোগ নেয় দুষ্কৃতী। নয়ত, কোনওভাবে সে নীচতলায় থাকা লোহার গেটটি খুলে ফেলেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।