বেদখল হয়ে গিয়েছে গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েকশো বিঘা জমি। সেই জমি অন্যদের নামে রেকর্ড হওয়ার পরে বিক্রিও হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে ঘিরে হইচই শুরু হতেই জমি ফেরাতে ভূমি সংস্কার দফতরের দ্বারস্থ পঞ্চায়েতের প্রধান। মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের ভিঙ্গোল পঞ্চায়েতের ঘটনা। পঞ্চায়েত প্রধানের অভিযোগে নড়েচড়ে বসেছে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর। ক্রেতা-বিক্রেতাদের একপ্রস্ত শুনানিও হয়েছে। হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক উদয়শঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, “রেকর্ড সংশোধনের অনুমতি চেয়ে শুনানির সব নথি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। যে জমি যার নামে ছিল, সব খতিয়ে দেখার পরে তাদের তা ফেরত দেওয়া হবে।”
কী ভাবে পঞ্চায়েতের চারশো বিঘারও বেশি জমি অন্য নামে হয়ে গেল, সে প্রশ্ন উঠেছে। ভূমি সংস্কার দফতরের দাবি, ২০১৪ সালে যখন জমির নথি ‘আপগ্রেড’ করা হয়, তখন তা অনলাইনে হত না। হাতে লিখে করা হত। ওই সময় কোনও ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে। তবে এর পিছনে দুর্নীতিও হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন পঞ্চায়েত প্রধান এবং স্থানীয়দের একাংশ। পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি কোলহা এলাকায় জমি বিক্রিকে ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, যে জমি বিক্রি করা হচ্ছে, তা সরকারি। এর পরে টনক নড়ে পঞ্চায়েতের। নথি ঘেঁটে দেখা যায়, পঞ্চায়েতের বিপুল পরিমাণ জমি কয়েক জনের নামে রেকর্ড হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে রাস্তা, বিল, ডোবা, শ্মশান, কবরস্থান রয়েছে। পঞ্চায়েতের প্রধান বর্ষা বসাক বলেন, “আমরা চাই, গড়িমসি না করে জমি ফেরানো হোক। এটা সরকারি জমি।” গ্রাম পঞ্চায়েতের বেদখল হওয়া জমি কিনেছেন অনেকে। তার মধ্যে স্থানীয় একটি ক্লাবও রয়েছে। এক ক্রেতা মোস্তাক আলম বলেন, “রায়তি ভেবে জমি কিনেছিলাম। শুনানিতে জমি ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছি। পঞ্চায়েতের সব জমিই যেন ফেরানো হয়।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)