Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৫ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

রাইফেল লুকিয়ে রাখায় ভয়ে আত্মঘাতী কনস্টেবল

রাতে সেন্ট্রির ডিউটি করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তিনি৷ অভিযোগ, তখনই তাঁর পাশে থাকা সার্ভিস রাইফেলটি সরিয়ে তা লুকিয়ে রেখেছিলেন এক পুলিশ অফিসার

নিজস্ব সংবাদদাতা
জলপাইগুড়ি ১১ অগস্ট ২০১৬ ০১:৪৩
মৃত পুলিশকর্মীকে শ্রদ্ধা জলপাইগুড়ি পুলিশ লাইনে। ছবি: সন্দীপ পাল।

মৃত পুলিশকর্মীকে শ্রদ্ধা জলপাইগুড়ি পুলিশ লাইনে। ছবি: সন্দীপ পাল।

রাতে সেন্ট্রির ডিউটি করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তিনি৷ অভিযোগ, তখনই তাঁর পাশে থাকা সার্ভিস রাইফেলটি সরিয়ে তা লুকিয়ে রেখেছিলেন এক পুলিশ অফিসার৷ ঘুম ভাঙার পরে রাইফেলটি দেখতে না পেয়ে কার্যত দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলেন বছর পঞ্চান্নর ওই ব্যাক্তি৷ তন্নতন্ন করে খুঁজেও রাইফেলটি না পেয়ে সোজা চলে যান বাড়িতে৷ তারপর বারান্দায় গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে পড়েন৷ তাঁর রাইফেলটির সন্ধান যত ক্ষণে মিলল, তত ক্ষণে মৃত্যু হয়ে গিয়েছে চন্দন রায় (৫৫) নামে ওই পুলিশকর্মীর।

এ দিন ভোর রাতে এই ঘটনার পরে চন্দনবাবুর বাড়ির লোক দাবি করেছেন, রাইফেল লুকিয়ে রাখাতেই ভয়ে উদ্বেগে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। রাইফেল লুকিয়ে রাখার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তিরও দাবি উঠেছে৷ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ৷

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত বারোটা থেকে দু’টো পর্যন্ত বানারহাট থানাতেই সেন্ট্রির ডিউটি ছিল চন্দনবাবুর৷ ডিউটি করতে করতেই আচমকা ঘুমিয়ে পড়েন৷ পুলিশ সূত্রে খবর, সেই সময় থানা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন এক পুলিশ অফিসারের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশকর্মী৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, ওই ওই অফিসারই চন্দনবাবুকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে তাঁর রাইফেলটি সরিয়ে থানার কাছেই একটি পুলিশ ক্যাম্পে রেখে এসেছিলেন৷ যদিও সেই পুলিশ অফিসার বলেন, “এই মুহূর্তে আমি অসুস্থ৷ বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিশের কর্তারা তদন্ত করছেন৷ তাই তাঁরাই যা বলার বলবেন৷”

Advertisement

চন্দনবাবুর এক সহকর্মী বলেন, ‘‘চন্দনবাবু ওই সময়ে হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছিলেন৷ কিন্তু তিনি খুব মন দিয়েই কাজ করতেন। রাইফেলটি দেখতে না পেয়ে ভেবেছিলেন, কেউ সেটি চুরি করে নিয়ে গিয়েছে৷ যার ফলে বিভাগীয় শাস্তির মুখে পড়তে হবে মনে পেরেই তিনি আত্মহত্যা করলেন বলে মনে হচ্ছে৷’’

চন্দনবাবুর বাড়ি কোচবিহারের পাটছড়াতে৷ সেখানে তাঁর ভাইরা এবং দুই ছেলে থাকেন৷ দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে৷ বানারহাটে থানার কাছেই স্ত্রীকে নিয়ে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তিনি৷ তাঁর বাড়ির লোকেদের কথায়, গতকাল রাতে ডিউটি সেরে বাড়ি ফেরার পর ঘুম চোখে তাঁর স্ত্রী বিমলাদেবী দরজা খুলে দিয়ে আবার শুয়ে পড়েন৷ চন্দনবাবু তখন বারান্দায় গিয়ে উর্দি পড়া অবস্থাতেই আত্মঘাতী হন৷ চন্দনবাবুর ভাই গোবিন্দ রায় বলেন, “যিনি ওই রাইফেলটি লুকিয়েছিলেন, আমরা তার শাস্তি চাই ৷ কারণ ওই রাইফেলটি লুকানোর জন্যই দাদা আত্মহত্যা করেছেন৷”

জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে৷ যে সময় ঘটনাটি ঘটেছে তখন থানায় যারা কর্তব্যরত অবস্থায় ছিলেন, তাঁদের সবার বক্তব্য জানা হচ্ছে৷ এ দিন জলপাইগুড়ি পুলিশ লাইনে আত্মঘাতি কনস্টেবলকে শেষ শ্রদ্ধা জানান পুলশ সুপার সহ জেলার অন্যান্য পুলিশ কর্তারা ৷ জেলা পুলিশের তরফে তাকে গার্ড অফ আনারও দেওয়া হয় ৷

আরও পড়ুন

Advertisement