Advertisement
E-Paper

পুলিশ পেল নতুন সিম, খুনের তদন্তে নয়া মোড়

পিনাকী দত্তের খুনের ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। গত রবিবার রাতে ঘটনাস্থলেই নিহতের পকেট থেকে দুটি মোবাইল ফোনের সন্ধান পেয়েছিল পুলিশ। সেগুলির কল রেকর্ড খতিয়ে দেখার মাঝেই নতুন করে আরেকটি মোবাইল সিম হাতে পেয়েছেন তদন্তকারী অফিসারদের। মঙ্গলবার পিনাকীবাবুর বাড়ি থেকেই সিমটি উদ্ধার হয়।

কৌশিক চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০৫ মে ২০১৬ ০৪:১৭

পিনাকী দত্তের খুনের ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। গত রবিবার রাতে ঘটনাস্থলেই নিহতের পকেট থেকে দুটি মোবাইল ফোনের সন্ধান পেয়েছিল পুলিশ। সেগুলির কল রেকর্ড খতিয়ে দেখার মাঝেই নতুন করে আরেকটি মোবাইল সিম হাতে পেয়েছেন তদন্তকারী অফিসারদের। মঙ্গলবার পিনাকীবাবুর বাড়ি থেকেই সিমটি উদ্ধার হয়।

পুলিশ সূত্রের খবর, নিহতের পরিবারের তরফে জানা গিয়েছে, দুটি নম্বরের মোবাইল পকেটে নিয়ে ঘুরলেও আরেকটি নম্বরের সিম তিনি বাড়িতে রেখেছিলেন তা ঠিক কেন, সেটাই তদন্তকারী অফিসারদের ভাবিয়ে তুলেছে। নতুন উদ্ধার হওয়া সিমটি কয়েকদিন আগেই নিষ্ক্রিয় হয়েছে বলে পুলিশ সিমটি পরীক্ষা করতে গিয়ে জানতে পারে। সেক্ষেত্রে, পিনাকী সেটিকে সচল না করে বাড়িতে রেখে অন্য দুটি নম্বর কেন ব্যবহার করছিলেন তা দেখছে পুলিশ। নতুন উদ্ধার হওয়া সিমের পুরানো কল রেকর্ড ঘেঁটে গত কয়েকমাস ধরে তিনি পরিবার, আত্মীয়দের বাইরে কাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলেন তা খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, প্রথম পাওযা মোবাইল দুটির ফোন লিস্টে খুব বেশি কল রেকর্ড বা মেসেজ ছিল না। তৃতীয় সিমটি আপাতত নিষ্ক্রিয় থাকলেও কিছুদিন আগে তা ব্যবহার করা হয়েছে। ওই তিনটি নম্বরের পুরানো কলরেকর্ড দেখেই কিছু যুবকের নাম পুলিশ পেয়েছে। মঙ্গলবার রাতেই শহরের বিভিন্ন এলাকার তিন যুবককে ডেকে এক দফায় জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। আরও কয়েকজনের সম্পের্কে খোঁজখবর করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের একাংশ জানিয়েছেন, মোবাইলের রেকর্ড এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে আপাতত ঘটনাটি আর্থিক লেনদেনের জেরেই ঘটেছে বলেই প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। আইপিএল-সহ বিভিন্ন চটজলদি টাকা লাগিয়ে সুদ-সহ টাকা রোজগারের কোনও চক্রে পিনাকী জডিয়ে পড়েছিলেন কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি কারও কাছ থেকে এরজন টাকা ধার নিয়েছিলেন কি না তা যাচাই করা হচ্ছে। বুধবার শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা ফের বলেছেন, ‘‘আমরা বেশ কিছু সূত্র পেয়েছি। সেগুলি সব ভাল করে যাচাই করা হচ্ছে। আশা করছি, খুনের কিনারা দ্রুত করা সম্ভব হবে।’’

পুলিশ সূত্রের খবর, গত বছরের মাঝামাঝি থেকেই পিনাকীবাবু আর্থিক সমস্যায় পড়েন। কয়েকটি সংস্থা থেকে নানা কারণে পরপর তার চাকরি চলে যায়। এর পরে তিনি ছোটখাটো নানা জিনিসপত্র সরবরাহের ব্যবসাও করেছিলেন। তবে তাতেও বিশেষ সুবিধা করতে পারেননি। তাঁর জীবন যাপন নিয়ে পরিবারের লোকেরাই অসন্তষ্ট ছিলেন। তিনি একাধিক মোবাইল নম্বর ব্যবহার শুরু করেন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিচিতদের বিভিন্ন নম্বর থেকে তিনি টেলিফোন করতেন। সক্রিয়ভাবে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও তা ধীরে ধীরে তা বন্ধ করেন। সম্প্রতি তিনি পরিবারের লোকজনদের জানান, এক যুবক তাকে টাকার জন্য বারবার ফোন করছেন। তবে কে সে তা তিনি জানাননি।

তদন্তকারীদের একাংশের সন্দেহ, পিনাকীবাবু সম্ভবত বাজার থেকে কিছু টাকা ধার করেছিলেন। সেই টাকা দিয়ে তিনি কী করেছিলেন তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে পাওনাদারদের এড়াতে তিনি একাধিক মোবাইল লম্বর ব্যবহার করছিলেন কি না তা দেখা হচ্ছে। নতুন যে সিমটি উদ্ধার হয়েছে, সেটি রিচার্জ না করে কেন, আপাতত অচল করে রেখেছিলেন তা অফিসারেরা দেখছেন। সেখানে পুরানো কললিস্টে কাদের কাদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন তা দেখে এগোতে চাইছে পুলিশ।

গত রবিবার সন্ধ্যাবেলা বাড়ি থেকে বার হয়ে সেবক রোডে এসে খুন হন পিনাকীবাবু। তাঁর বাঁ পায়ের হাঁটুতে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপ দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকেরা ময়নাতদন্তের পর পুলিশকে জানিয়েছে, অত্যধিক রক্তক্ষরণে তিনি মারা যান। এদিকে ঘটনার তদন্তে নেমে সেবক রোড, বিধান রোড, মহানন্দাপাড়া, মহাকালপল্লি, হিলকার্ট রোড বিভিন্ন এলাকায় লোকজনের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেছে পুলিশ। ব্যবসায়ীদের একাংশ জানিয়েছেন, অনেকের কাছে এসে পুলিশের একাংশ অফিসার নানা প্রশ্ন করছেন। তদন্তের স্বার্থে সকলেই পুলিশকে সাহায্য করছেন। কিন্তু এমনভাবে অনেকে কথাবার্তা বলছেন, তাতে অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।

এলাকার স্থানীয় কাউন্সিলর তৃণমূলের মঞ্জুশ্রী পাল। তার পাশের ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তাঁর স্বামী নান্টু পাল। একসময় তিনিও সেবক রোড লাগোয়া ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। ঘটনার দিন রাতে নান্টুবাবু ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুত ঘটনার কিনারা করার দাবি করেন। নান্টুবাবু বলেন, ‘‘ঘটনার পর চারদিন হতে চলল। পুলিশ তদন্ত করছে ঠিকই। দ্রুত রহস্যের জট খোলা দরকার।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy