হাতে চেলাকাঠ নিয়ে ছুটছেন প্রধান। ‘আমাকে চিনিস’ বলে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি মুখে অশ্রাব্য গালাগাল। হাতের নাগালে পেয়ে রাস্তায় বিছানো ইটের উপরে ফেলে পেটানো হচ্ছে এক বৃদ্ধকে। বাসিন্দারা বলছেন, ‘বয়স্ক লোককে কেন মারছেন?’— মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের দৌলতপুরে শাসক দলের এক প্রধানের এমনই মারমুখী ভিডিয়ো (আনন্দবাজার ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি) ভাইরাল হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকায় একটি রাস্তার কাজ নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন বাসিন্দারা। ওই কাজের ঠিকাদার আবার প্রধান মোবারক হোসেনের ভাই ও ভাইপো। অভিযোগ, প্রতিবাদী সাধারণ মানুষের দিকে তেড়ে যান প্রধান। ভিডিয়োটি ভাইরাল হতেই অস্বস্তিতে পড়েছে শাসক দল। যদিও ভাইপোকে মারধর করায় তিনি বাসিন্দাদের সরিয়ে দিচ্ছিলেন বলে প্রধান দাবি করেছেন। অনিয়মের অভিযোগ হলে তা খতিয়ে দেখা হবে বলে বিডিও জানিয়েছেন।
পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, দৌলতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের শীতলপুর এলাকায় ১০০ দিনের প্রকল্পে এক কিলোমিটার কংক্রিটের রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ওই কাজ করছেন প্রধানের ভাই ও ভাইপো। কয়েকজন বাসিন্দার জমি দখল করে রাস্তা তৈরির পাশাপাশি, রাস্তা তৈরিতে অনিয়ম হচ্ছে বলে ভূমি সংস্কার দফতর, প্রশাসন ও পঞ্চায়েতে নালিশ জানান বাসিন্দারা। কিন্তু তাতে ফল হয়নি বলে অভিযোগ। তাই কাজের সময় বাসিন্দাদের একাংশ প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারের সঙ্গে বচসা বাধে। ওই সময় বাসিন্দাদের ছোঁড়া ইটে মাথায় আঘাত পান প্রধানের ভাইপো শামিম আখতার। খবর পেয়েই এলাকায় পৌঁছন প্রধান। তখনই চেলাকাঠ হাতে তাঁকে তাড়া করতে দেখা যায়। পরে অবশ্য পুলিশও পৌঁছয়।
প্রহৃত এক বৃদ্ধ আব্দুল মাতিন বলেন, ‘‘গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি যাতে ঠিকভাবে হয় তা সকলেই চাইছেন। আমিও তৃণমূল করি। কিন্তু প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধান ও তাঁর দলবলের হাতে মার খেতে হবে ভাবিনি।’’
প্রধান মোবারক হোসেন বলেন, ‘‘ওরা ঝমেলা করছিল। বুঝিয়েও ফল হয়নি। ভাইপোর মাথা ফাটায় মাথা ঠিক রাখতে পারিনি। ভয় দেখাতে লাঠি হাতে নিয়ে ওদের সরিয়ে দিই। কাউকে মারধর করিনি।’’
হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি হজরত আলি বলেন, ‘‘ভিডিও ঠিক হলে প্রধান অত্যন্ত নিন্দ্যনীয় কাজ করেছেন। দলীয়স্তরে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।’’
অনিয়মের অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের বিডিও বিজয় গিরি।