কলকাতা পুলিশের মতো শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটেও অফিসার, কনস্টেবলদের খাকি থেকে সাদা পোশাকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল রাজ্য স্তরেই। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটে পোশাক পরিবর্তনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল। কিন্তু পুলিশের অন্দরমহল তো বটেই, বিভিন্ন স্তর থেকে বিষয়টি নিয়ে আপত্তিও ওঠে। শেষে আলোচনার পরে আপাতত শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটে পোশাকের রং পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হল।
পুলিশ সূত্রের খবর, গত শনিবার কমিশনারেটের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (সদর) সুদীপ সরকার নির্দেশিকা জারি করে ওই পোশাক পরিবর্তন বাতিল বলে জানিয়ে দিয়েছেন। কমিশনারেটের বিভিন্ন স্তর, শাখা, থানা এবং অফিসারদের ওই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। নতুন নির্দেশিকার পরে তাই খাকি পোশাকেই শিলিগুড়ি পুলিশ কাজ করবে। এই প্রসঙ্গে শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার ভরতলাল মিনা বলেছেন, ‘‘এটা পুলিশের নিজস্ব আভ্যন্তরীণ বিষয়। যা বলার রাজ্য স্তর থেকেই বলা হবে।’’
রাজ্য পুলিশের সমস্ত আইন কানুন, নিয়ম ‘পুলিশ রেগুলেশন বেঙ্গল, ১৯৪৩’ ধরেই চলে। সেখানকার ১৯ নম্বর চ্যাপ্টারে পরিষ্কার ভাবে পুলিশের পোশাক বিভিন্ন স্তরে কী ধরনের হবে, তা স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ রয়েছে। কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর প্রতিটি পদমর্যাদায় সবাইকে খাকি পোশাক পরতে হবে। প্রতি বছর দু’টি করে পোশাক তৈরির কাপড় জেলা পুলিশ এবং কমিশনারেট থেকে অফিসার, কনস্টেবলদের দেওয়াই হয়। যদিও এর বাইরেও প্রায় প্রত্যেককেই বাইরে থেকে প্রয়োজনে আরও কয়েক জোড়়া পোশাক নিজেদের তৈরি করে নিতে হয়।
কমিশনারেটে নির্দেশ এসেছিল, প্রতিটি শাখা, বিভাগ বা থানার কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পদ মর্যাদার সাদা পোশাক পরতে হবে। যা অনেকটাই কলকাতা পুলিশের ‘হেরিটেজ’ পোশাকের মতোই। কিন্তু অফিসারদের বক্তব্য, একে বাসিন্দারা খাকি পোশাক বলতেই পুলিশ বোঝে। কলকাতা বাদে জেলায় জেলায় এই নিয়ম বছরের পর বছর চলছে। মানুষ তা দেখে অভ্যস্ত। সেখানে স্কুলের মতো সাদা জামা প্যান্ট পড়ে রাস্তা দাঁড়ালে কতটা গুরুত্ব মিলবে, তাতে সংশয় ছিলই। আবার গরম এবং বিভিন্ন আবহাওয়াতে দিন রাত কাজ করতে গেলে সাদা জামা, প্যান্ট যা নোংরা হবে তাতে সাত দিনে সাতটি ইউনিফর্ম রাখা ছাড়া উপায় থাকবে না। কিন্তু সরকারি ভাবে পোশাক মেলে দু’টি। তাই বাড়তি খরচও বাড়বে সবার।
এর বাইরেও পোশাক পরিবর্তন নিয়ে একাংশ অফিসারের মধ্যে আরও আপত্তি রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, নতুন নিয়মে ডিএসপি বা এসিপি পদ মর্যাদা থেকে খাকি বহাল থাকত। এখন কনস্টেবল থেকে সিপি অবধি খাকি। তাতে এক ফোর্স, এক পরিবারের এমন মানসিকতার জন্ম নেয়। তা কমে যেত। এই জন্যই বহু বেসরকারি সংস্থায় নীচে থেকে সংস্থার মাথার দিক অবধি একই ধরনের ইউনিফর্ম রাখা হয়।
শিলিগুড়িতে অবশ্য পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নতুন নয়। ২০১২ সালে কমিশনারেট তৈরির সময় সাদা জামা, নীল প্যান্টের পোশাক রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ২০১৪ সালে বছর খানেকের জন্য তা লাগুও হয়েছিল। অফিসারদের বিভিন্ন স্তর থেকে আপত্তি কলকাতায় পৌঁছালে ২০১৫ সালে তা বাতি করা হয়েছিল।