Advertisement
E-Paper

TMC: বিনয়কে নিয়ে কি পাহাড়ে খরা ঘুচবে তৃণমূলের

পাহাড়ের নেতারা মনে করেন, সুবাস ঘিসিং, বিমল গুরুং বা অনীত থাপার তুলনায় বিনয়ের জনভিত্তি একটু কম। বরং তিনি দলীয় রণকৌশল তৈরিতে প্রথম সারিতে।

কৌশিক চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২৫ ডিসেম্বর ২০২১ ০৭:৫৬
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

দার্জিলিঙে বছরের শেষে ঠান্ডা জাঁকিয়ে পড়লেও রাজনীতির ময়দান হঠাৎ সরগরম। নতুন বছরের শুরুতেই পাহাড়ের পুরসভা ভোট হওয়ার কথা। পাহাড়ি দুই জেলায় জিটিএ এবং পঞ্চায়েত ভোট নিয়েও আলোচনা চলছে। এর মধ্যে পাহাড়ে সাংগঠনিকভাবে অনেকটাই পিছিয়ে থাকা তৃণমূলে দুই পরিচিত গোর্খা মুখ, বিনয় তামাং ও রোহিত শর্মা যোগ দেওয়ায় দলের একাংশ উজ্জীবিত। শাসকদল শক্তিশালী হল বলা হলেও আদতে বিনয়, রোহিতদের নিয়ে তৃণমূল কতটা পাহাড়ে এগোতে পারবে, তা নিয়েও পাল্টা আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশেষ করে আসন্ন ভোটে বিধানসভা নির্বাচনের মতো তৃণমূল নেত্রী অনীত থাপা, বিমল গুরুংদের এগিয়ে দেবেন, না কি বিনয়দের মতো নেতাদের রেখে আরেক দফায় নিজেরা লড়াইয়ে নামবেন, তা সময়ই বলবে। শুক্রবার কলকাতায় তৃণমূলে যোগ দিয়েই রাজ্য নেতৃত্বের একাংশের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিনয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন। বিনয় বলছেন, ‘‘দল যে দায়িত্ব দেবে, তা নিয়ে পাহাড়ে তৃণমূলের পতাকা শক্তিশালী করব।’’

২০১৭ সালে ৮ জুনের আন্দোলন, ১০ জুন থেকে টানা বন্‌ধের ডাক দেওয়ার সময়ে বিমল গুরুংয়ের পাশেই ছিলেন বিনয়। কিন্তু সেপ্টেম্বরে যখন গুরুং পাহাড় ছাড়া, তখন অনীত থাপাকে নিয়ে বিনয় রাজ্য সরকারের সঙ্গে শান্তি বৈঠক করেন। পাহাড়েও বন্‌ধ উঠে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বিনয়কে জিটিএ চেয়ারম্যান বা বিধানসভা উপ-নির্বাচনে মোর্চায় গোষ্ঠীর প্রার্থী হিসাবে দাঁড়ও করানো হয়। কিন্তু তিনি খুব একটা সফল হননি।

পাহাড়ের নেতারা মনে করেন, সুবাস ঘিসিং, বিমল গুরুং বা অনীত থাপার তুলনায় বিনয়ের জনভিত্তি একটু কম। বরং তিনি দলীয় রণকৌশল তৈরিতে প্রথম সারিতে। জুলাই থেকে প্রথমে গুরুং পরে অনীতের থেকে দূরে সরে বিনয় পাহাড়ে একা হয়ে পড়েন। পুরনো দল জিএনএলএফ, গোর্খা জনমুক্তি মোর্চায় যাননি। অনীতের প্রজাতান্ত্রিক মোর্চায় যাওয়ার প্রশ্নই ছিল না। নিজে একা ঠিকঠাক কিছু করতে পারছিলেন না। শেষে তিনি তৃণমূলের দ্বারস্থ হন। একে অতি পরিচিত গোর্খা মুখ, তার উপরে ২০১৭ সালের ‘পুরস্কার’ হিসাবে বিনয়কে তৃণমূল শেষ অবধি দলে নিল।

দলীয় সূত্রের খবর, এর আগে কার্শিয়াঙের জিএনএলএফ নেত্রী তথা প্রাক্তন বিধায়ক শান্তা ছেত্রী, মিরিকের প্রাক্তন মোর্চা নেতা লাল বাহাদুর রাই এবং প্রাক্তন জিএনএলএফ নেতা রাজেন মুখিয়া দলে এসেছেন। কিন্তু তার পরে পরিচিত মুখ পায়নি পাহাড় তৃণমূল। আলাদা রাজ্যের দাবির সরাসরি বিপক্ষে থাকায় তৃণমূল সে ভাবে পাহাড়ে দাগ কাটতে পারেনি। নিজের প্রতীকে মোর্চার বিধায়ক অমর সিংহ রাইকে লোকসভায় দাঁড় করিয়েও লাভ হয়নি। সেখানে বিনয় কতটা দলকে শক্তিশালী করতে পারবেন, তা সময় বলবে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy