×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

৩১ জুলাই ২০২১ ই-পেপার

দাবিদাররা প্রার্থী নন, স্বস্তিতে কর্মীরাই

নিজস্ব সংবাদদাতা
রায়গঞ্জ ০৬ মার্চ ২০১৬ ০১:৪৮
কালিয়াগঞ্জের বয়রা কালীমন্দিরে হেমতাবাদের তৃণমূল প্রার্থী সবিতা ক্ষেত্রী। —নিজস্ব চিত্র।

কালিয়াগঞ্জের বয়রা কালীমন্দিরে হেমতাবাদের তৃণমূল প্রার্থী সবিতা ক্ষেত্রী। —নিজস্ব চিত্র।

বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদ ও করণদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রে গত তিন মাস ধরে তৃণমূলের ১২ জন নেতার মধ্যে বিরোধ চলছিল। এই পরিস্থিতিতে প্রার্থীর দাবিদার ওই নেতাদের মধ্যে থেকে কাউকে প্রার্থী না করে নতুন মুখকে প্রার্থী করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এতে প্রার্থীর দাবিদার বিবদমান সেই সব নেতা ও তাঁদের অনুগামীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়ালেও খুশি দলের সাধারণ কর্মীরা।

শুক্রবার দলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন মমতা। হেমতাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রে তিনি প্রার্থী করেছেন বাঙালবাড়ি এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ সবিতা ক্ষেত্রীকে। সবিতাদেবীর স্বামী মৃত্যুঞ্জয় দত্ত হেমতাবাদ ব্লক তৃণমূল সভাপতির দায়িত্বে থাকলেও তাঁর স্ত্রী এতদিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। অন্যদিকে, করণদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী করা হয়েছে জেলা পরিষদের তৃণমূলের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ বিপাশা সিংহের স্বামী মনোদীপ সিংহকে। মনোদীপবাবু করণদিঘির দুয়ারিন হাইস্কুলের প্রধানশিক্ষক। তিনিও এতদিন সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

প্রসঙ্গত, গত ১ মার্চ ইটাহারে দলীয় কর্মিসভায় তৃণমূল সাংসদ তথা দলের জেলা পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী দলের নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, বিধানসভা নির্বাচনে যাঁরা টিকিট পাবেন না তাঁদেরকে দল অন্য নির্বাচনে প্রার্থী করবে বা যোগ্য মর্যাদা দেবে। কিন্তু শুভেন্দুবাবুর ওই মন্তব্যের পরেও নিজেদের প্রার্থী ধরে নিয়ে দু’টি বিধানসভা এলাকায় জনসংযোগ ও কর্মিসভা চালু রেখেছিলেন প্রার্থীর দাবিদার বিবাদমান ওই ১২ জন তৃণমূল নেতা। জেলা নেতাদের একাংশের মারফত সেই খবর তাঁর কাছে পৌঁছনোর পর মমতা ঘনিষ্ঠ মহলে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁদের মধ্যে কাউকেই প্রার্থী না করার সিদ্ধান্ত নেন বলে তৃণমূলের অন্দরের খবর।

Advertisement

জেলা তৃণমূল সভাপতি অমল আচার্য বলেন, হেমতাবাদ ও করণদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রে দলের অনেক নেতাই প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। দলনেত্রী নিজে সবদিক বিচার করে দলের স্বার্থে নতুন মুখকে প্রার্থী করেছেন।

প্রার্থীর দাবিদার বিবাদমান কোনও নেতাকে প্রার্থী না করে নতুন মুখকে প্রার্থী করায় খুশির হাওয়া ছড়িয়েছে হেমতাবাদ ও করণদিঘি বিধানসভা এলাকার তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে। তাঁদের দাবি, দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থীর দাবিদার সব নেতাদের মধ্যে কাউকে প্রার্থী করা হলে বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বাকিরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত একরকম নিয়েই রেখেছিলেন।

হেমতাবাদের তৃণমূল কর্মী আতিফ হোসেন, মনসুর আলি, প্রকাশ বর্মন ও ডালখোলা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কর্মী প্রকাশ বর্মন ও মান্তু সিংহ বলেন, ‘‘বিধানসভা নির্বাচনের মুখে দলে ভাঙন ও দলবিরোধী কার্যকলাপ রুখতে দিদি শেষ সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যাঁরা এতদিন প্রার্থী হওয়ার জন্য দলের জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের কাছে দাবি জানাচ্ছিলেন, দলের স্বার্থে দিদি তাঁদের কাউকেই প্রার্থী না করায় সাধারণ কর্মীরা খুব খুশি।’’ তাঁদের মতে, নতুন প্রার্থীদের সমর্থনে তাঁরা সকলে এক হয়ে যাতে প্রচারে নামেন তার জন্য তাঁদের উপর দলের চাপও বজায় থাকল।

শনিবার সকালে কালিয়াগঞ্জের বয়রা কালীমন্দিরে পুজো দিয়ে দলের কর্মী সমর্থকদের নিয়ে বাড়ি বাড়ি প্রচার শুরু করে দেন হেমতাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সবিতাদেবী। প্রার্থীর দাবিদার বিবাদমান কোনও নেতাকে প্রার্থী না করে দল সবিতাদেবীকে প্রার্থী করায় উচ্ছ্বসিত দলীয় কর্মীরা শুক্রবার রাত থেকেই তাঁর সমর্থনে দেওয়াল লিখনে নেমে পড়েন। করণদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মনোদীপ সিংহও এ দিন বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বাসিন্দাদের সঙ্গে পরিচয়পর্ব সেরেছেন।

তবে করণদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থীর অন্যতম দাবিদার যুব তৃণমূল সভাপতি গৌতম পালকে দল প্রার্থী না করায় ক্ষুব্ধ তাঁর অনুগামীরা। শুক্রবার রাতে গৌতমবাবুর অনুগামীরা ইটাহারে গিয়ে জেলা তৃণমূল সভাপতি অমলবাবুর কাছে ক্ষোভ জানান। পাশাপাশি, এদিন দুপুরেও ডালখোলায় গৌতমবাবুকে প্রার্থী করার দাবিতে তাঁর একদল অনুগামী বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেন। অমলবাবু বলেন, ‘‘দল যাঁকে যোগ্য মনে করেছে প্রার্থী করেছে। এক্ষেত্রে আমার কিছু করণীয় নেই।’’

Advertisement