‘সুখ নেই কো মনে, নাকছাবিটি হারিয়ে গেছে হলুদ বনে বনে...’
বৈকুণ্ঠপুরের জঙ্গলে চৈত্রের শেষে হাওয়ার ইচ্ছেয় উড়ে যায় ঝরা পাতা। রাজগঞ্জ বিধানসভা ছুঁয়ে সেই বনাঞ্চল। অন্তত দু’দশক বাদে এ বার রাজগঞ্জের দেওয়ালে নাম নেই খগেশ্বর রায়ের। জেলায় তৃণমূলের প্রথম বিধায়ক। ২০১১ সালের পরে এই রাজগঞ্জে বিধানসভা হোক বা লোকসভা যে কোনও ভোটে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। এমন রেকর্ড থাকা রাজগঞ্জ নিশ্চিত ভাবে তৃণমূলের নিরাপদ আসন বলেই ধরা হয়। সেই নিশ্চিত আসনে এ বার তৃণমূল চার বারের বিধায়ক খগেশ্বর রায়কে টিকিট না দিয়ে প্রার্থী করেছে এশিাডে সোনা জয়ী স্বপ্না বর্মণকে। তৃণমূলের একাংশের দাবি, নিঃসন্দেহে এই সিদ্ধান্ত ‘ওস্তাদের মার’। যদিও তৃণমূলে কানাঘুষো চলছে, টানা সতেরো বছর দুর্গ সামলে রাখা খগেশ্বর রায়ের মনে বড় দুঃখ। প্রচারে বের হওয়া শাসক কর্মীদের অনেকে তাই গুপীত গায়েনের মতো প্রশ্ন করছেন, ‘‘দুঃখ কীসে যায়?’’
টিকিট না পেয়ে বিদ্রোহী খগেশ্বর দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন পেয়ে ‘দুঃখ’ ভুলে প্রচারে নেমেছেন। সে সুখ বেশিদিন টেকেনি। স্বপ্না বর্মণের মনোনয়নের দিন ডাক পাননি খগেশ্বর। অভিমান গোপন না করে প্রকাশ্যে বলেছেন, ‘‘দুঃখ পেয়েছি।’’ সে দুঃখের কথা লোকমুখে, মোবাইলে ছড়িয়েছে রাজগঞ্জের পাড়ায়-পাড়ায়, হাটে-বাটে। জমজমাট শিকারপুর হাটের এক বিক্রেতা যেমন বলেই ফেললেন, ‘‘আর ভোট, আমাদের লোকটাই যে ভোটে নাই।’’ সে সব কথা পৌঁছেছে তৃণমূল প্রার্থীর কানেও। তাই তিনি ছুটেছেন বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বরের বাড়িতে। তাতেও কী মান-অভিমান গলল?
খগেশ্বর বলেন, ‘‘আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে দল করি।’’ তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মণের ভোট যুদ্ধে সারথী তৃণমূলের এসসি ওবিসি সেলের সভাপতি কৃষ্ণ দাস। খগেশ্বর-কৃষ্ণের সম্পর্কের ‘মধুরতা’ রাজগঞ্জের সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর কানেও পৌঁছে যায় দ্রুত। কৃষ্ণ বলছেন, ‘‘রাজগঞ্জ বিধানসভায় যে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি বরাবর তৃণমূলকে এগিয়ে রাখে, এ বারেও রাখবে। খগেশ্বরদা আছেন, আমি জলপাইগুড়িতে প্রার্থী বটে কিন্তু সকলে মিলে রাজগঞ্জেও লড়ছি।’’ জোটহীন কংগ্রেস এবং সিপিএমের প্রার্থীও রয়েছেন রাজগঞ্জে।
দু’দিন আগে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বিজেপি প্রার্থী দীনেশ সরকারের সমর্থনে রোড-শো করেছেন। বিশাল ভিড় হয়েছিল। সে দিন শুভেন্দু বলেন, ‘‘২০০৯ সালের উপনির্বাচনের প্রচারে এসেছিলাম রাজগঞ্জে, তারপরে বিধানসভা ভোটের প্রচারে আবার এলাম।” ২০০৯ সালের উপনির্বাচনেই খগেশ্বর রায় প্রথম তৃণমূলের হয়ে ভোটে জিতেছিলেন। বিজেপির অন্দরে আলোচনা, শুভেন্দু অধিকারী সুকৌশলে সে কথাই খগেশ্বর রায়কে মনে করিয়েদিয়ে গেলেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)