E-Paper

দলীয় প্রার্থীর হয়ে প্রচারে কারা, দেখছে শাসক

শুধু পুরপ্রতিনিধিদের ওয়ার্ডেই নয়, যেখানে বিরোধী দলের পুরপ্রতিনিধি রয়েছে সেখানে তৃণমূল নেতারা কতটা ভোট করাতে পেরেছেন, সেটাও দেখছে ঘাসফুল শিবির।

রাহুল মজুমদার

শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৬:৫৮
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

শিলিগুড়ির তৃণমূল পুরপ্রতিনিধিদের ভাগ্য কার্যত নির্ধারণ হবে ভোটের ফলাফলের উপরেই— প্রচারে এসে তরাই তারাপদ আদর্শ বিদ্যালয়ের সভা থেকে এমনই বার্তা দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের পরে এখন শিলিগুড়িতে দলীয় প্রার্থীদের হয়ে কে, কতটা প্রচার করিয়েছেন, তার পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। দলেরই একটি সূত্রের দাবি, ৪ মে ভোটের ফলাফল বার হওয়ার পর ওয়ার্ডভিত্তিক হিসেব ধরে চূড়ান্ত পর্যালোচনা করবে দল। তার উপরেই নির্ভর করছে পুরপ্রতিনিধিদের পরবর্তী পুরসভা নির্বাচনের টিকিট।

তবে শুধু পুরপ্রতিনিধিদের ওয়ার্ডেই নয়, যেখানে বিরোধী দলের পুরপ্রতিনিধি রয়েছে সেখানে তৃণমূল নেতারা কতটা ভোট করাতে পেরেছেন, সেটাও দেখছে ঘাসফুল শিবির। শিলিগুড়িতে তৃণমূল প্রার্থী হয়েছিলেন মেয়র গৌতম দেব। অন্যদিকে, ডাবগ্রাম ফুলবাড়িতে প্রার্থী রঞ্জন শীল শর্মা। দার্জিলিং জেলার ৩৩টি ওয়ার্ড শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে। অন্য দিকে, ১৪টি সংযোজিত এলাকা ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের অধীন। সূত্রের খবর, দলের এমন অনেক কাউন্সিলর রয়েছেন, যাঁরা এখন সরাসরি শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে রয়েছেন। দার্জিলিং জেলার ওয়ার্ড এবং সংযোজিত ওয়ার্ডগুলির কাউন্সিলর এবং নেতারাও এই তালিকায় রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক দার্জিলিং জেলার তৃণমূল (সমতল) কোর কমিটির এক পদাধিকারির বক্তব্য, ‘‘দলীয় প্রার্থীদের জেতাতে কার কতটা অবদান ছিল সেটা দল পর্যালোচনা করছে।’’

তৃণমূল সূত্রে খবর, নির্বাচনের সময় একাধিক পুরপ্রতিনিধি এবং নেতা প্রার্থীদের হয়ে ঠিকমতো প্রচার করেননি। ওই তালিকায় একাধিক বাঙালি পুরপ্রতিনিধি যেমন রয়েছেন, তেমনই একাধিক অবাঙালি পুরপ্রতিনিধিও রয়েছেন। পুরসভার মেয়র পারিষদদের কেউ কেউ ওই তালিকায় রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পুরসভার এমন কিছু বস্তি এলাকা অধ্যুষিত ওয়ার্ড রয়েছে, যেখানে শাসকদলের পুরপ্রতিনিধি এবং নেতারা ঠিকমতো কাজ করেননি। কিছু হিন্দিভাষী প্রধান ওয়ার্ডেও সে ভাবে দলীয় প্রার্থীর হয়ে পুরপ্রতিনিধি এবং পদাধিকারীরা কাজ করেননি বলে অভিযোগ। কিছু পুরপ্রতিনিধি নির্বাচনের দিন ওয়ার্ডে দিনভর হত্যে দিয়ে পড়েছিলেন। তবে কিছু পুরপ্রতিনিধিকে সকালের দিকে দেখা গেলেও, বেলা বাড়তেই আর দেখা মেলেনি বলে অভিযোগ।

দার্জিলিং জেলা এবং সংযোজিত ওয়ার্ড মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ জন পুরপ্রতিনিধি এবং ৮ থেকে ১০ জন নেতার ভূমিকায় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব খুশি নন বলেই তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে। এই তালিকায় দুই জন অবাঙালি পুরপ্রতিনিধি যেমন রয়েছেন, তেমন একজন বরো চেয়ারম্যানও রয়েছে। শিলিগুড়িতে দলের ফল ভাল হলে তাঁরা কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন। তবে কোনও কারণে ভাবনার বিপরীত হলে এই নেতাদের যে দলের রোষের মুখে পড়তে হবে, তা একপ্রকার স্পষ্ট।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Siliguri TMC

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy