Advertisement
E-Paper

মারধরে ধৃত সাবিত্রী মিত্রের আত্মীয়-সহ ৩

মদ্যপ অবস্থায় কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়ারদের পিটিয়ে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্রের ঘনিষ্ঠ এক আত্মীয়-সহ তিনজন। রবিবার গভীর রাতে মালদহের মানিকচক থানার নাজিরপুরের চৌধুরী মোড়ে ঘটনাটি ঘটে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ০১:৩৮
ধৃত কুণাল সরকার। — নিজস্ব চিত্র।

ধৃত কুণাল সরকার। — নিজস্ব চিত্র।

মদ্যপ অবস্থায় কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়ারদের পিটিয়ে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্রের ঘনিষ্ঠ এক আত্মীয়-সহ তিনজন। রবিবার গভীর রাতে মালদহের মানিকচক থানার নাজিরপুরের চৌধুরী মোড়ে ঘটনাটি ঘটে। মারধরের ঘটনায় আহত দুই সিভিক ভলান্টিয়ার মানিকচক গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছেন জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত তৃণমূল নেতার নাম কুণাল সরকার। গ্রেফতার করা হয়েছে তার দুই সঙ্গী মদন মণ্ডল ও সত্যঞ্জয় মণ্ডলকে। তাদের বাড়ি মানিকচকের নাজিরপুরের পশ্চিম পাড়া গ্রামে। মালদহের পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষ বলেন, ‘‘অভিযোগের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে। সোমবার ধৃতদের মালদহ জেলা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক দু’দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।’’

পুলিশ জানিয়েছে, এ দিন রাত ১২টা নাগাদ মানিকচকের নাজিরপুরের চৌধুরী মোড়ে টহলদারি করছিলেন চার সিভিক ভলান্টিয়ার। সেই সময় দুই সঙ্গীকে নিয়ে নিজস্ব পেট্রোল পাম্প থেকে বাড়ি ফিরছিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা কুণাল। তিনি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্রের জামাই এর ভাই। অভিযোগ, রাস্তায় সিভিক ভলান্টিয়ারদের দেখতে পেয়ে তিনি মোটরবাইক থামিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। দুই সিভিক ভলান্টিয়ার প্রতিবাদ করলে বাঁশ দিয়ে তাঁদের পেটানো হয় বলে অভিযোগ। মাঝরাতে এলাকায় হইচই পড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এলে পালিয়ে যায় অভিযুক্তেরা। পরে দুই সিভিক ভলান্টিয়ারকে উদ্ধার করে ভর্তি করানো হয় মানিকচক গ্রামীণ হাসপাতালে।

সোমবার দুপুরে মানিকচক থানায় আক্রান্ত দুই সিভিক ভলান্টিয়ার কুনাল-সহ তিনজনের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তিনজনকেই গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর আঘাত, সরকারি কাজে বাধা, কর্তব্যরত অবস্থায় সরকারি কর্মীদের মারধরের মামলা রুজু করা হয়েছে। আক্রান্ত দুই সিভিক ভলান্টিয়ার মোতাব এবং মাতাব শেখ বলেন, ‘‘আচমকা আমাদের গালিগালাজ করা হয়। কেন গালিগালাজ করা হচ্ছে বলতেই চলে মারধর। এমন হলে রাতে ডিউটি করায় দায় হয়ে যাবে।’’

লোকসভা ভোটের সময় নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের মারধরের ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল সাবিত্রী দেবীর জামাই সৌম্যদীপ সরকারের বিরুদ্ধে। এবার কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়ারদের পেটানোর ঘটনায় নাম জড়াল তাঁরই ভাই। মানিকচকের কংগ্রেস বিধায়ক মোত্তাকিম আলম বলেন, ‘‘মানুষের রায়ে ক্ষমতাচ্যুত হলেও প্রাক্তন মন্ত্রীর আত্মীয় পরিজনরা এখনও সাধারণ মানুষের উপরে অত্যাচার চালাচ্ছে। কর্তব্যরত সরকারি কর্মীদের মারধর করছেন। মানিকচকের মানুষ তা কখনও মেনে নেবে না।’’ যদিও আইন আইনের পথেই চলবে বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী সাবিত্রী মিত্র। তিনি বলেন, ‘‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নেই। আইন আইনের পথেই চলবে।’’

TMC civis volunteer
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy