নকল করতে বাধা দেওয়ায় শিক্ষকদের উপরে চড়াও হওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দার্জিলিং জেলার কার্যকরী সভাপতি অর্ক পাল ও সেই সংগঠনের একদল ছাত্রের বিরুদ্ধে। অর্কবাবু অবশ্য দাবি করেছেন, এমন কোনও ঘটনাই ঘটেনি।
অভিযোগ, শুক্রবার শিলিগুড়িতে সূর্য সেন মহাবিদ্যালয়ে নকল সহ ধরা পড়ে গিয়েছিলেন এক ছাত্রী। শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, সে সময়ে ওই ছাত্রীর পরীক্ষা বাতিল করা যাবে না দাবি করে শিক্ষকদের উপরে চাপ দিতে থাকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যরা। পরে অবশ্য উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেবের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। এদিন ঘটনা মিটে যাওয়ার পরেও শিক্ষক কমনরুমে উত্তেজনা ছিল বহু ক্ষণ। যদিও কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সামান্য ঘটনা বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে কলেজের শিক্ষকদের কাজে ছাত্র সংগঠনের হস্তক্ষেপ শিক্ষকেরা ভাল ভাবে নিচ্ছেন না বলে জানা গিয়েছে।
কলেজের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে মন্তব্য করেন গৌতমবাবু। তিনি দাবি করেন, ‘‘কী হয়েছে খোঁজ নিয়ে দেখছি। ছাত্রদের কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়।’’
কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার কলেজের প্রথম বর্ষের ইতিহাস দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষা চলাকালীন এক ছাত্রী কাগজের চিরকুটে নকল বের করে লিখতে যায়। তা পরিদর্শকের নজরে পড়লে তিনি ওই ছাত্রীর খাতা ও নকলের কাগজ কেড়ে নিয়ে তাঁর এদিনের মতো পরীক্ষা বাতিল করে দেন। তখন ওই ছাত্রীকে পরীক্ষা দিতে হবে বলে দাবি করেন অর্ক সহ অন্য তৃণমূল কর্মীরা। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে তাঁদের বচসাও বাধে। পরে মন্ত্রী খবর পেয়ে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন বলে জানা গিয়েছে।
কলেজের শিক্ষকদের একাংশ নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন বলে জানান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘পরীক্ষার সময়ে পুলিশ থাকা দরকার। নতুবা বারবার এই ধরনের ঘটনা ঘটবে।’’ তৃণমূল ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে এর আগেও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাজে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অন্য এক শিক্ষকের অভিযোগ। যদিও যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই অর্ক এমন কোনও ঘটনা ঘটেছে বলেই স্বীকার করেননি। তাঁর দাবি, ‘‘কেউ যদি নকল করে থাকে, শিক্ষকেরা ঠিক কাজই করেছেন। এ বিষয়ে আমার কোনও বক্তব্য নেই।’’ কলেজের অধ্যক্ষ ছুটিতে রয়েছেন। পরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত সুজয় চক্রবর্তী দাবি করেন, ‘‘সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, তা মিটে গিয়েছে, নকল করার অভিযোগে আমরা মোট ৯ জনের পরীক্ষা বাতিল করেছি।’’ তবে তা নিয়ে কোনও চাপ রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেননি।
তবে ঘটনার নিন্দা করলেও ছাত্র-ছাত্রীদের প্রথম বারের ভুলকে সহানুভূতির সঙ্গে দেখার অনুরোধ করেন দার্জিলিং জেলা এসএফআইয়ের সম্পাদক সৌরভ দাস। তবে তৃণমূলের রাজনৈতিক সংস্কৃতির নিন্দা করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূল সারা রাজ্যেই নকলের সংস্কৃতি আনতে চাইছে। এটা খুবই খারাপ উদাহরণ। অবিলম্বে এটা বন্ধ না করতে পারলে শিক্ষাক্ষেত্রে নৈরাজ্য ছড়িয়ে পড়বে।’’ তবে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি নির্ণয় রায় অভিযোগ মানতে চাননি। তিনি বলেন, ‘‘গোটা অভিযোগই ভিত্তিহীন। আমাদের কোনও ছেলে নকলের পক্ষে সওয়াল করেনি। মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।’’