Advertisement
E-Paper

অনাথ নাতি-নাতনিদের নিয়ে চিন্তায় দাদু-দিদা

তড়িদাহত হয়ে এক দম্পতির মৃত্যুর পরে তিন শিশু সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অথৈ জলে পড়েছেন তাঁদের ঠাকুর্দা ও ঠাকুমা। ময়নাগুড়ির পদমতি ১ পঞ্চায়েতের উত্তর পদমতি গ্রামের ওই শিশুরা হোমে থাকবে, এটাও তাঁরা স্বপ্নেও ভাবতে পারছেন না। যদিও শিশুদের লেখাপড়া চালানোর সঙ্গতি নেই বলেও তাঁরা জানাচ্ছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০২:১৩
তড়িদাহত হয়ে মৃত দম্পতির তিন সন্তান। —নিজস্ব চিত্র।

তড়িদাহত হয়ে মৃত দম্পতির তিন সন্তান। —নিজস্ব চিত্র।

তড়িদাহত হয়ে এক দম্পতির মৃত্যুর পরে তিন শিশু সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অথৈ জলে পড়েছেন তাঁদের ঠাকুর্দা ও ঠাকুমা। ময়নাগুড়ির পদমতি ১ পঞ্চায়েতের উত্তর পদমতি গ্রামের ওই শিশুরা হোমে থাকবে, এটাও তাঁরা স্বপ্নেও ভাবতে পারছেন না। যদিও শিশুদের লেখাপড়া চালানোর সঙ্গতি নেই বলেও তাঁরা জানাচ্ছেন। গত বুধবার বাড়িতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান দিনমজুর ধনেশ্বর রায় (৩৫) এবং তাঁর স্ত্রী রিনাদেবী। তাঁদের দুই মেয়ে, এক ছেলে। বড় মেয়ে বাবলি জোরপাকড়ি আব্দুল গণি হাইস্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী, মেজ মেয়ে হরিমতি চুয়াবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ছে। ছেলে মিন্টু সাড়ে ৩ বছরের। ঘটনার সময় বাবলি ও হরিমতি স্কুলে ছিল।

তাঁদের কাকু রতন রায় বাড়ির পাশে নদী বাঁধ মেরামতের কাজে মজুরের কাজে ছিলেন। তিনি বলেন, “অল্পের জন্য মিন্টু রক্ষা পেয়েছে।” ঘটনার সময় সে বাড়ির উঠোনে খেলছিল। বাবা মা যে নেই, সে কথা মেনে নিয়ে এখনও ধতস্থ হতে পারেনি বাবলি ও হরিমতি। বাবলি বলে, “স্কুলে যাওয়ার সময় মায়ের সঙ্গে কথা বলে গেলাম। বাবার সঙ্গেও দেখা হয়েছে। বাড়িতে ফিরে ওঁদের কাউকে দেখতে পাব না ভাবতে পারিনি। এখনও মনে হচ্ছে প্রতিদিনের মতো বাবা-মা কাজে বেড়িয়েছেন।” হরিমতি চুপ। উঠোনে পড়শিদের ভিড়ে খেলায় ব্যস্ত ছিল মিন্টু। মাঝে মাঝে সে মাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। চেঁচিয়ে ডাকছে। দাদু ৭৫ বছর বয়সী প্রসন্ন রায় নাতিকে সামাল দিতে গিয়ে নিজে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। তিনি বলেন, “বড় ছেলে ধনেশ্বরের রোজগারে সংসার চলত। মেয়ে দু’টি পড়ছে। এখন কী হবে বুঝতে পারছি না।” শিশুদের হোমে পাঠানোর কথা উঠতে তিনি কাঁদতে থাকেন, “ওরা আমার প্রাণ। ওঁদের ছেড়ে থাকতে পারব না।”

বাবলি, হরিমতি ও মিন্টুর কথা শুনেছেন ময়নাগুড়ির বিডিও শ্রেয়সী ঘোষ। তিনি বলেন, “পরিবারটিকে আর্থিক সাহায্য করা হবে। পঞ্চায়েত সমিতির সঙ্গে আলোচনা করে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি দেখা হচ্ছে।” সাময়িক আর্থিক সাহায্যের কথা শুনে এ দিন ডুকরে ওঠেন শিশুদের ঠাকুমা মিনতিদেবী। তিনি বলেন, “আমরা আর ক’দিনই বা বাঁচব। আরও দুই ছেলে আছে। মেজ ছেলে শিলিগুড়িতে মিষ্টির দোকানে কাজ করে। প্রত্যেকের সংসারের চাপ। ওদের কে দেখবে?”

বৃহস্পতিবার দিনভর বাবলি ঠাকুমাকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেছে। স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবতে পাড়ছে না সে। তার ইচ্ছা দুই ভাই বোনকে নিয়ে লেখাপড়া করে তারা বড় হবে। তার কথায়, “স্কুলে যাব। বাবা অনেক কষ্ট করে পড়াত। ভাই বোনও পড়বে।” নাতনির ওই কথা শুনে দাদু বলেন, “কেমন করে ওদের স্বপ্ন পূরণ হবে সেটাই বুঝতে পারছি না। জানি না কে ওদের পাশে দাঁড়াবে। জমিও নেই যে ওদের নামে লিখে দেব।”

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy