Advertisement
E-Paper

কিষাণ বাজার খুলবে কবে, প্রশ্ন চাষিদের

মুখ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করার পরেও কোচবিহার জেলার তিনটি কিষাণ বাজার চালু হয়নি বলে আগে থেকেই অভিযোগ ছিল। কবে কৃষকদের জন্য ওই কিষাণ বাজার খুলে দেওয়া হবে, তা নিয়ে উদ্বোধনের এক সপ্তাহ পরেও স্পষ্ট আশ্বাস দিতে পারলেন না রাজ্যের কৃষি প্রতিমন্ত্রী বেচারাম মান্না।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ ০১:৫২

মুখ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করার পরেও কোচবিহার জেলার তিনটি কিষাণ বাজার চালু হয়নি বলে আগে থেকেই অভিযোগ ছিল। কবে কৃষকদের জন্য ওই কিষাণ বাজার খুলে দেওয়া হবে, তা নিয়ে উদ্বোধনের এক সপ্তাহ পরেও স্পষ্ট আশ্বাস দিতে পারলেন না রাজ্যের কৃষি প্রতিমন্ত্রী বেচারাম মান্না।

বুধবার দলের কৃষক সংগঠন কিষাণ খেত মজদুর তৃণমূলের উদ্যোগে আয়োজিত একটি সভায় যোগ দিতে কোচবিহারে যান তিনি। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগে শহরের দাস ব্রাদার্স মোড়ে আয়োজিত ওই সভায় রাজ্যের কৃষি প্রতিমন্ত্রী জানান, রাজ্যে পালাবদলের পর কৃষকদের উন্নয়নে নানাবিধ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরে কোচবিহার সার্কিট হাউসে রাজ্য জুড়ে পর্যায়ক্রমে কৃষকদের জন্য মোট ৩৪১টি ব্লকে কিষাণ বাজার তৈরির পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। বলেন, “রাজ্যে ৪৮টি কিষাণ বাজার তৈরির কাজ ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। ৩২টি কিষাণ বাজারের কাজ আংশিক সম্পূর্ণ হয়েছে। আরও ৯৬টির কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে রাজ্যের ৩৪১ টি ব্লকের সর্বত্র একটি করে বাজার তৈরি করা হবে। এতে কৃষকেরা উত্‌পাদিত ফসল মজুত রাখার সুবিধে পাবেন। অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।”

সরকারি সূত্রের খবর, কোচবিহারের তুফানগঞ্জ, গুমানিরহাট ও শীতলখুচি ব্লকে ইতিমধ্যেই কিষাণ বাজার তৈরি সম্পূর্ণ হয়েছে। ৪ ডিসেম্বর দিনহাটার নয়ারহাটের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী ওই তিনটি কিষাণ বাজারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেছেন। এ ছাড়াও দিনহাটায় মাণ্ডি তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। হলদিবাড়ি ও মেখলিগঞ্জ ব্লকেও একটি করে কিষাণ বাজার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সিপিএমের প্রাদেশিক কৃষক সভার কোচবিহার জেলা নেতা তথা দলের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অনন্ত রায়ের অভিযোগ, “উদ্বোধনের নামে মুখ্যমন্ত্রী চমক দিয়েছেন। কোনও কিষাণ বাজার জেলার কৃষকদের কাজে লাগছে না। এখনও চালুও হয়নি। রাজ্যে কৃষকদের অবস্থা খারাপ হচ্ছে। পাট, ধানের দাম মিলছে না।” ফরওয়ার্ড ব্লকের কোচবিহার জেলা সম্পাদক উদয়ন গুহ বলেন, “নতুন করে কিছু হচ্ছে না। বাম আমলে চালু বাজারে নতুন ঘর করে নানা নাম দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে। তাও আবার কোচবিহারের ক্ষেত্রে সেগুলি উদ্বোধনের পরেও চালু হয়নি।” কোচবিহার জেলা কংগ্রেস সভাপতি শ্যামল চৌধুরীর অভিযোগ, “টাকা নয়ছয়ের জন্য যতটা দরকার, ততটাই কাজ হচ্ছে। জেলা তো বটেই, রাজ্যের কোথাও কিছু চালু হয়নি। কৃষকদের কাজে না লাগলে উদ্বোধন কিসের?”

বিরোধীদের ওই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেতারা। এদিন সার্কিট হাউসে রাজ্যের কৃষি প্রতিমন্ত্রীর পাশে বসে রাজ্যের পরিষদীয় সচিব তথা কোচবিহারের নাটাবাড়ির বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী সরকারি অনুষ্ঠান থেকে জেলার ওই তিনটি কিষাণ বাজারের উদ্বোধন করেছেন। দিনহাটা ছাড়াও আরও দু’টি ব্লকে মাণ্ডি তৈরির কথাও ওই সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন। কাজের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিরোধীরা অপপ্রচার করতে চাইছেন। এটা ওদের নিজেদের ব্যর্থতা আড়ালের চেষ্ট।” রবীন্দ্রনাথবাবু জানিয়েছেন, পরিকাঠামো তৈরি সম্পূর্ণ হওয়ায় ওই উদ্বোধন হয়েছে সেসব দেখভাল সংক্রান্ত কিছু কাজে একটু সময় লাগছে। রাজ্যের কৃষি প্রতিমন্ত্রী জানান, কমিটি তৈরি হয়ে গেলেই বাজার তিনটি চালু হয়ে যাবে। এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ মিছিল করেন কৃষক সংগঠনের সদস্যরা। বিজেপু, কংগ্রেস ও বামেদেরও কড়া সমালোচনা করেন তাঁরা।

cooch behar kishan bazar
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy