Advertisement
E-Paper

গোয়ালঘরে বসেই বিচারের অপেক্ষায়

ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘‘রবিবার বাড়িতে এসে আমার স্ত্রীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। ছোট ছেলে ও মেয়েকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। আর ওই বাড়িতে থাকত পারব না। যদি রাতের বেলায় কেউ কিছু করে বসে।

অনির্বাণ রায়

শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০২:৪২

সালিশি সভায় নিজে অপমানিত হয়েছিলেন। তার প্রতিবাদ করেছিল দশম শ্রেণির ছাত্রী বড় মেয়ে। ভরা সভায় তখন তার উপরেও নির্যাতন হয়। পরের দিন সকালে তার দেহ মেলে রেললাইনের কাছ থেকে।

ভেবেছিলেন, মেয়ের খুনের বিচার পাবেন। কিন্তু ঘটনা হল, মেয়েকে খুনের ঘটনার প্রধান সাক্ষী মারা যাওয়ার পরে তাঁকে খুনের দায় এসে পড়ল ওই ছাত্রীর বাবা ও মামার উপরেই। এখন কামদুনির ঘটনায় শাস্তির কথা শুনে ভেবেছিলেন, নিজের মেয়েকে খুনেরও বিচার পাবেন। সে কথা জোর দিয়ে বলেওছিলেন প্রকাশ্যে। তারপরেই বাড়তে থাকে হুমকির জোরও। তাই শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন ধূপগুড়িতে নিহত দশম শ্রেণির ছাত্রীর বাবা, মা, ভাইবোন। সে বাড়িতেও জায়গার অভাব। ঠাঁই হয়েছে গোয়ালঘরে।

ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘‘রবিবার বাড়িতে এসে আমার স্ত্রীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। ছোট ছেলে ও মেয়েকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। আর ওই বাড়িতে থাকত পারব না। যদি রাতের বেলায় কেউ কিছু করে বসে। ঘরে আমি ছাড়া আর দ্বিতীয় পুরুষ নেই।’’

Advertisement

সোমবার দুপুরে গিয়ে দেখা গেল, নিহত ছাত্রীর বাবা-মা গোয়ালঘর থেকে খড়-বিচলি সরিয়ে উঠোনে জমা করছেন। ছাত্রীর বাবার কথায়, ‘‘অভিযুক্তরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমার বাড়ির আশেপাশে ঘুরে বেড়ায়। পাড়ার মোড়ে দাঁড়িয়ে আমাদের নজর করে। বাজারে গেলে কোণায় ডেকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য টাকার লোভ দেখায়। খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’’

গত রবিবার যাঁদের নামে অভিযোগ করেছেন ছাত্রীর মা। তাঁরাও পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছেন। জেলা পুলিশ সুপার অকাশ মেঘারিয়া অবশ্য দাবি করেছেন, ‘‘এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দুটি অভিযোগ জমা পড়েছে। প্রথমে তদন্ত করে দেখা হবে। তারপরে মামলা হবে।’’ তৃণমূলের দাবি, নিহত ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগের সঙ্গে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। তৃণমূলের জেলার সাধারণ সম্পাদক গুড্ডু সিংহ বলেন, ‘‘আমাদের আইনের প্রতি আস্থা আছে। ওই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র চলছে।’’

বাড়ি ছাড়লেও মামলার পথ ছাড়ছেন না ছাত্রীর পরিবার। দু’হাজার চোদ্দো সালের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিন সালিশি সভায় বাবাকে মারধরের প্রতিবাদ করেছিল ধূপগুড়ির দশম শ্রেণির ছাত্রী। সালিশি সভার মাতব্বরেরা ছাত্রীকে চুলের মুঠি ধরে মারধর করে থুতু চাটানোর নির্দেশ দেয়। প্রতিবাদী ছাত্রীটি সালিশি সভা থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। অভিযোগ, সভায় ওর বাবা-মাকে আটকে রাখা হয়, সালিশি সভা থেকে কয়েকজন দৌড়ে অন্ধকারে পিছু নেয় ছাত্রীর। পরদিন ভোরে লাগোয়া রেললাইনের পাশ থেকে ছাত্রীর বিবস্ত্র দেহ উদ্ধার হয়। তারপর থেকে অভিযুক্তদের শাস্তি চেয়ে কখনও হাইকোর্ট কখনও রাষ্ট্রপতির কাছে দরবার করেছে ছাত্রীর পরিবার।

গত রবিবার বাড়ি ছাড়ার সময়ে ছাত্রীর ছবি এবং স্কুলের কয়েকটি বইখাতাও সঙ্গে নিয়েছিলেন ছাত্রীর মা। উঠোনে বসে এ দিন ছাত্রীর মা বলেন, ‘‘বাড়ি ফিরতে না পারি, কিন্তু মেয়ের খুনিদের বিচার চেয়ে লড়াই চালিয়ে যাব. ওর বইখাতাগুলো একদিনও কাছছাড়া করিনি। এখনও প্রতিদিন গভীর রাতে ট্রেনের শব্দ শুনলে বুক ফেটে কান্না বের হয়।’’

মৃত শ্রমিক। বীরপাড়া চা বাগানের অবসর প্রাপ্ত এক শ্রমিক মারা গেলেন সোমবার। বাগানের পাঁচ নম্বর লাইনের বাসিন্দা ৬২ বছরের ওই শ্রমিকের নাম গোপাল খালকো। মৃত শ্রমিকের পরিবারের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরে অপুষ্টিজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। অর্থাভাবে চিকিৎসা করতে না পারায় বাড়িতেই মারা যান। বাগান খোলা থাকলে পি এফ বা অন্যান্য ভাতার টাকা মিলত বলে জানিয়েছেন পরিবারের লোকজন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy