Advertisement
E-Paper

ছাত্র আন্দোলনে অচল কলেজ

প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষকের অভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ক্লাস হচ্ছে না। এই অভিযোগ করে জলপাইগুড়ি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ইলেকট্রনিক্স ও কমিউনিকেশন বিভাগের পড়ুয়ারা গেটে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলনে নামলেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০২:২৪
জলপাইগুড়ি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের গেট বন্ধ করে ছাত্রদের বিক্ষোভ। ছবি: রাজা বন্দ্যোপাধ্যায়।

জলপাইগুড়ি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের গেট বন্ধ করে ছাত্রদের বিক্ষোভ। ছবি: রাজা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষকের অভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ক্লাস হচ্ছে না। এই অভিযোগ করে জলপাইগুড়ি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ইলেকট্রনিক্স ও কমিউনিকেশন বিভাগের পড়ুয়ারা গেটে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলনে নামলেন।

বুধবার সকাল থেকে ওই আন্দোলনের জেরে শিক্ষকেরা এদিন কলেজে ঢুকতে পারেননি। তাই বন্ধ ছিল অন্য বিভাগের পাঠনপাঠনও। ছাত্রদের অভিযোগ, তাঁদের সমস্যার কথা জানিয়ে কোনও লাভ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নামতে হয়েছে। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কলেজের গেট খোলা হবে না বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

ছাত্ররা জানিয়েছেন, ইলেকট্রনিক্স বিভাগে ২৪০ জন পড়ুয়ার জন্য শিক্ষকদের আটটি পদ রয়েছে। বর্তমানে আছেন মাত্র একজন অধ্যাপক। অস্থায়ী শিক্ষক দিয়ে ক্লাস চালানো হচ্ছে। ছাত্রদের অভিযোগ, স্থায়ী অধ্যাপক না থাকায় বিশেষ কয়েকটি বিভাগের ক্লাস করা সম্ভব হচ্ছে না। সমস্যার কথা কলেজ কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও সমস্যা মিটছে না। এমনকি কবে নতুন অধ্যাপক আসবেন সেই বিষয়েও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হচ্ছে না। ইলেকট্রনিক্স ও কমিউনিকেশন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছাত্রীরা জানান, অধ্যাপক চেয়ে কয়েক দফায় আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু লাভ হয়নি। তাই নিরুপায় হয়ে আন্দোলনে নামতে হয়েছে।

কলেজের ছাত্র সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক অভীক মুখোপাধ্যায় বলেন, “ইলেকট্রনিক্স ও কমিউনিকেশন বিভাগের ছাত্রদের আন্দোলনের পাশে কলেজের অন্য বিভাগের ছাত্ররা দাঁড়িয়েছেন। ওই কারণে কোন বিভাগে ক্লাস চলছে না।” ইলেকট্রনিক্স ও কমিউনিকেশন বিভাগের ছাত্রদের অভিযোগ অস্বীকার করেননি কলেজের অধ্যক্ষ জ্যোতির্ময় ঝম্পটি। তিনি বলেন, “ওই বিভাগে আটজন অধ্যাপকের পদ রয়েছে। ছিলেন চারজন। গত অগস্ট মাসে তিনজন বদলি হয়ে কল্যাণীতে চলে যান। ওই পরিস্থিতিতে ক্লাসের ক্ষতি হচ্ছে।” কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনজন অধ্যাপকের বদলি কয়েক মাস আটকে রাখা হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ বিকল্প অধ্যাপকের ব্যবস্থা করে ওই অধ্যাপকদের ছাড়তে চেয়েছিলেন। ছাত্রদের অভিযোগ, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের একাংশের চাপে সেটা সম্ভব হয়নি। এদিকে অধ্যাপকদের বদলির পর নতুন অধ্যাপক না পাঠানোয় সমস্যা জটিল হয়েছে।

ছাত্ররা এদিন কলেজের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। কলেজ চত্বর হাতে লেখা প্ল্যাকার্ডে ভরে দেওয়া হয়। অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মীরা কলেজ চত্বরে পৌঁছলেও ছাত্রদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে কেউ জোর করে ভিতরে যাওয়ার চেষ্টা করেননি। ফলে শুধু ক্লাস নয়, আন্দোলনের জেরে এদিন কলেজের অফিসের কাজকর্ম হয়নি। সমস্যা নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার জন্য একমাত্র অধ্যক্ষকে কলেজে যেতে দেওয়া হয়। আন্দোলনকারী ছাত্ররা এদিন কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেন তাঁদের সমস্যা না মেটা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তেমন হলে অনশনে বসবেন তাঁরা।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy