গাজল পঞ্চায়েত সমিতির পর কলেজ ছাত্র সংসদেও দল ভাঙাতে সফল তৃণমূল। মালদহের গাজল কলেজের ছাত্র সংসদ হাত ছাড়া হল বাম ছাত্র সংগঠনগুলির। ছাত্র সংসদের দখল নিল তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজলের একটি বেসরকারি হোটেলে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বৈঠকে যোগ দেন কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক-সহ চার বাম সদস্য।
কলেজের দখল নেওয়ায় মিছিল করে টিএমসিপির ছেলেরা। গাজল কলেজের সাধারণ সম্পাদক তথা দলত্যাগী এসএফআই নেতা রঞ্জিত রায় বলেন, ‘‘দলের জেলা নেতাদের নির্দেশ মেনে চলতে হওয়ায় ঠিক মতো কাজ করতে পারছিলাম না। আমরা স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারছিলাম না। তাই দল ছেড়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদে যোগ দিয়েছি।’’
ছাত্র নেতারা দলত্যাগ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এসএফআই-এর জেলা সম্পাদক জাকির হোসেন। তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূল যেমন ভাবে দল ভাঙাচ্ছে, ছাত্র সংগঠনও একই কায়দায় দল ভাঙাচ্ছে। প্রথমে টাকার লোভ দেওয়া হচ্ছে। তা না মানলে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অশান্তির পরিবেশ তেরি করে বিভিন্ন কলেজ দখল করেছিলেন তাঁরা। আর যে সমস্ত কলেজে অশান্তি করতে পারেননি, এখন ভয় দেখিয়ে সেই কলেজগুলি দখল করছেন।’’ অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ দাস বলেন, ‘‘বিরোধী ছাত্র সংগঠন বলে জেলায় আর কিছু নেই। তাই তাঁরা এখন এমন কথা বলছেন। উন্নয়ন করতে এক মাত্র তৃণমূলই ভরসা। তাই সবাই আমাদের দলে যোগ দিচ্ছেন। এ দিন আমরা গাজল কলেজের দখল নিয়েছি।’’
কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাত্র সংসদে মোট ১৮টি আসন রয়েছে। তার মধ্যে কলেজ নির্বাচনে সাতটি করে আসন পেয়েছিল ছাত্র পরিষদ ও এসএফআই। পিএসইউ এবং তৃণমূল ছাত্র পরিষদ পেয়েছিল দু’টি করে আসন। কলেজ নির্বাচনের সময় বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলি একজোট হয়ে নির্বাচনে লড়েছিল। ছাত্র পরিষদ ও বাম ছাত্র সংগঠন জোট হয়েই বোর্ড গঠন করেছিল। তৃতীয় বর্ষের ফলাফল প্রকাশিত হয়ে যাওয়ায় ছ’জন সদস্য বাতিল হয়ে গিয়েছে। ফলে ১২টি আসনের মধ্যে টিএমসিপি দু’টি, সিপি চারটি, এসএফআই পাঁচটি এবং পিএসইউ একটি করে আসন ছিল। এ দিন গাজলে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ব্লক স্তরের একটি বৈঠক ছিল। সেই বৈঠকে দলের জেলা সভাপতি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ব্লক সভাপতি প্রসূন সরকরা-সহ প্রমুখ। সেই বৈঠকে এসএফআই-এর তিন জন এবং পিএসইউ-এর এক জন সদস্য যোগ দান করেন।
মঙ্গলবার গাজল পঞ্চায়েত সমিতি হাত ছাড়া হয়েছে বামেদের। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রভাত পোদ্দার-সহ ১৫ জন সদস্য তৃণমূলে যোগ দেন। পঞ্চায়েত সমিতি হাত ছাড়া হতেই কলেজ বামেদের হাত ছাড়া হওয়ায় জেলার রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাত্র নেতারা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিরই ঘনিষ্ঠ। তবে এতে ক্ষুব্ধ ছাত্র পরিষদ নেতৃত্ব। ছাত্র পরিষদের ব্লক সভাপতি প্রেম চৌধুরী বলেন, ‘‘আমরা জোট বদ্ধ হয়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলাম। তাঁরা আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে দল ছাড়ল। এর জবাব আগামী দিনে তারা পাবে।’’