বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ জানা না গেলেও এখন থেকেই ভোটের উত্তাপ কোচবিহারে। ভোটের জমি দখলে রাখতে বারবার সংঘর্ষে শাসক-বিরোধী। বুধবার বিজেপির একটি সভায় হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। মঞ্চ থেকে প্লাস্টিকের চেয়ার-টেবিল, সামনে রাখা বাইক থেকে সাইকেল ভাঙচুর থেকে রেহাই পেল কোনও জিনিস। স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকার দখল নিয়েই দুই রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষ হয়েছে। যদিও হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসক শিবির।
বিজেপির দাবি অনুযায়ী, বুধবার দিনহাটার রথবাড়ি ঘাট, পেটলা এলাকার নেতৃত্ব বিধানসভা ভিত্তিক সাংগঠনিক বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে দুপুরের খাওয়া-দাওয়ারও ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। হঠাৎ সেখানে হামলা চালায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। চেয়ার-টেবিল থেকে রান্নার সরঞ্জাম, সব কিছু ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হয়। দুটো বাইক ছিল বৈঠকস্থলের কাছে। সেগুলোও ভেঙে দিয়ে চলে যায় দুষ্কৃতীরা। চেষ্টা করেও তাদের আটকানো যায়নি।
বিজেপির কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মণের দাবি, দিন কয়েক আগে বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর সভা সফল হয়েছে। তার পরেই এলাকায় এলাকায় গিয়ে তাঁদের কর্মী-সমর্থদের ভয় দেখাচ্ছে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। তিনি বলেন, ‘‘আজ (বুধবার) দিনহাটা বিধানসভাভিত্তিক ছোট বোয়ালমারি রথবাড়ি ঘাট পেটলা এলাকায় একটি সাংগঠনিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বৈঠকের পাশাপাশি খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়। কিন্তু হঠাৎ করে তৃণমূলের কিছু লোক হামলা চালায়। চেয়ার-টেবিল, দুটো মোটরসাইকেল, রান্নার বাসনপত্র, এমনকি মঞ্চ পর্যন্ত ভেঙে দিয়ে গিয়েছে।’’
আরও পড়ুন:
অভিযোগ উড়িয়ে তৃণমূলের দাবি, এমন কোনও অশান্তির সঙ্গে তাদের যোগ নেই। শাসকদলের নেতাদের দাবি, দিনহাটায় তাদের সাংগঠনিক ক্ষমতা থেকে জনভিত্তি, সবই প্রচণ্ড শক্তিশালী। তারা বিরোধীদের পাত্তাই দেয় না। দিনহাটা-১ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি সুধাংশু রায়ের কথায়, ‘‘বিজেপির বৈঠকে আমরা কেন হামলা চালাতে যাব? খাবার-দাওয়ার নষ্ট করতে যাব কেন আমরা? এ সব ওদের অভিনয়।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বিজেপি প্রথম থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে। অভিযোগ করাটাই এদের মূল কাজ। এ সব করে প্রচারের আলোয় থাকতে চায়।’’