একই ওয়ার্ডে তৃণমূলের দুটো কার্যালয়। কিন্তু কোনওটিতেই পা দেওয়ার অধিকার নেই দলেরই কাউন্সিলরের। তিনি নাগরিক পরিষেবা দেন নিজের দোকানে বসে। একের পর এক নির্বাচনে বাঁকুড়া শহরে তৃণমূলের ভরাডুবি ঠেকাতে শীর্ষ নেতৃত্ব যতই একতার বার্তা দিন না কেন, তার ঠিক উল্টো ছবি ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে। শাসকদলেরই একাংশ বলছেন, গোষ্ঠীকোন্দল যে পুরোদমে রয়েছে, এটা তার মাত্র একটি প্রমাণ। তবে একমাত্র নয়।
গত পুরসভা নির্বাচন বাদ দিলে বিধানসভা থেকে লোকসভা ভোট, সবেতেই বাঁকুড়া শহরে শাসকদলের ফল খারাপ। বিজেপির এগিয়ে থাকার কারণ পর্যবেক্ষণ করতে বসে নানা সময়ে নানা নির্দেশ দিয়েছেন নেতৃত্ব। অন্তর্দলীয় পর্যালোচনা উঠে এসেছে অন্তর্দ্বন্দ্বের কথা। কোন্দল মেটাতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দাওয়াই দিয়েছেন নেতৃত্ব। কিন্তু তা যে কাজে আসেনি, চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে বাঁকুড়ার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বন্দনা লোহার। ওয়ার্ডের কোনও দলীয় কার্যালয়ে ঠাঁই পান না তিনি। অগত্যা নিজের পোশাকের দোকানকেই কাউন্সিলরের কার্যালয় করে এলাকাবাসীদের পরিষেবা দিয়ে আসছেন তিনি। বন্দনার কথায়, ‘‘আমার ওয়ার্ডে মোট দু’টি তৃণমূল কার্যালয় আছে। আমি নিজে তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী কাউন্সিলর। কিন্তু কার্যালয়ে বসার অধিকার পাইনি।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘পরিষেবা সচল রাখতে নিজের দোকানে বসেই পুরসভার কাজ করি। দোকান না থাকলে গাছতলায় বসে মানুষকে পরিষেবা দিতাম।’’
কিন্তু এই দুর্দশার কারণ কী? নির্দিষ্ট করে ব্যাখ্যা দেননি তৃণমূল কাউন্সিলর। হাবেভাবে বুঝিয়ে দেন, স্থানীয় নেতাদের অসহযোগিতার জন্য। স্থানীয় তৃনমূল নেতা-কর্মীদের একাংশের দাবি, কাউন্সিলারের এই অবস্থার ফলে ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষও বিভ্রান্ত। ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কর্মী হিমাদ্রী মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘পুরসভার অফিসের সময় বাদ দিয়ে মানুষ কোনও সমস্যা নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে যাবেন কাউন্সিলরের দোকানে যাবেন, তা নিয়ে ভাবতে বসেন।’’ তিনি মনে করেন, দলের অন্তর্দ্বন্দ্বেই এই অবস্থা। অচিরে নেতৃত্বের কড়া পদক্ষেপ প্রয়োজন। তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তারাশঙ্কর রায় জানিয়েছেন, তিনি সবে দায়িত্ব পেয়েছেন। সমস্যা খতিয়ে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি ৬ মাস আগে দায়িত্ব পেয়েছি। শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে যাতে একটি দলীয় কার্যালয় থাকে এবং সেই কার্যালয় থেকে যাতে দলীয় কাউন্সিলর এবং ওয়ার্ড সভাপতি নিজেদের কাজ করেন, তা নিশ্চিত করার কাজ চলছে।’’ তিনি বন্দনার বিষয়ে বলেন, ‘‘আশা করি, দ্রুত সমস্যা মিটে যাবে।’’
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের খোঁচা, ‘‘তৃণমূলের অন্দরে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব তো আর নতুন নয়। এর মূল কারণ, কাটমানির ভাগ নিয়ে গন্ডগোল।’’