Advertisement
E-Paper

ছাত্রকে দিয়ে শৌচাগার সাফাই, অভিযোগ স্কুলে

নির্মল বিদ্যালয় দিবসে ছাত্রকে দিয়ে শৌচাগার সাফাই করানোর অভিযোগে অভিভাবকদের একাংশের বিক্ষোভে শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে ঢুকতে পারছেন না প্রধান সহায়িকা। ময়নাগুড়ির সাপটিবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাকুয়াবাড়ি গ্রামের রামকৃষ্ণ শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের ঘটনা। গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে প্রধান সহায়িকার অনুপস্থিতিতে শিশু শিক্ষা কেন্দ্রটিতে ৪৯ জন শিশুর পঠন পাঠনের কাজ চালাতে হচ্ছে দু’জন সহ সহায়িকাকে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০১৫ ০২:২৬

নির্মল বিদ্যালয় দিবসে ছাত্রকে দিয়ে শৌচাগার সাফাই করানোর অভিযোগে অভিভাবকদের একাংশের বিক্ষোভে শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে ঢুকতে পারছেন না প্রধান সহায়িকা। ময়নাগুড়ির সাপটিবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাকুয়াবাড়ি গ্রামের রামকৃষ্ণ শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের ঘটনা। গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে প্রধান সহায়িকার অনুপস্থিতিতে শিশু শিক্ষা কেন্দ্রটিতে ৪৯ জন শিশুর পঠন পাঠনের কাজ চালাতে হচ্ছে দু’জন সহ সহায়িকাকে। অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষিকা ভুল স্বীকার না করায় সমস্যা জটিল হয়েছে। প্রশাসনের কর্তাদের ঘটনার কথা জানানোর পরেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

যদিও প্রধান শিক্ষিকার দাবি ছাত্রদের দিয়ে শৌচাগার সাফাই করানো হয়নি। তাই ভুল স্বীকারের কিছু নেই। প্রশাসনের তরফেও উদাসীনতার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ময়নাগুড়ির বিডিও শ্রেয়সী ঘোষ বলেন, “অভিযোগ পাওয়া মাত্র তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। আমি নিজেও ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখেছি। সম্পূর্ণ ভুল বোঝাবুঝি থেকে এটা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের জেলা আধিকারিক বিপ্লব কোনার বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। বিডিও দেখছেন।”

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি নির্দেশ মেনে ছাত্রদের নিয়ে নির্মল বিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে রামকৃষ্ণ শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে সমস্যার সূত্রপাত। অভিভাবকদের একাংশ সাফাই অভিযানকে মেনে নিতে পরেনি। ঘটনার তদন্তে প্রশাসনের কর্তারা জেনেছেন, শিশুশিক্ষা কেন্দ্রে লেখাপড়ার মান নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে অভিভাবকদের একাংশে ক্ষোভ ছিল। গত ৭ সেপ্টেম্বর সামান্য অছিলায় সেটাই বিক্ষোভের আকার নেয়। ডাকুয়ারবাড়ি এলাকার তৃণমূল গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য মুক্তা বেগম প্রশাসনের কর্তাদের দাবি উড়িয়ে দেননি। তিনি বলেন, “সমস্যা থাকতেই পারে। অভিভাবকদের সেটা আলোচনায় বসে মিটিয়ে নিতে বলা হয়েছে।”

যদিও অভিভাবকদের একাংশের অভিযোগ, গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রধান সহায়িকা জয়াবতী রায় চৌধুরী চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রকে দিয়ে শৌচাগার সাফাই করানোর পরে জানতে চাওয়া হয় কেন ওই কাজ করা হয়েছে। এর পর থেকে তিনি স্কুলে আসছেন না। অভিভাবক বিশ্বনাথ বর্মণ ও সুশীল বর্মণ বলেন, “আমরা চাই প্রধান সহায়িকা স্কুলে এসে ভুল স্বীকার করুন। তিনি সেটা না করে ফোনে বিডিও, গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন। এটা হবে কেন?” যদিও প্রধান সহায়িকার আশঙ্কা, স্কুলে গেলে তাঁকে ফের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হবে। ওই কারণে যাচ্ছেন না। তিনি বলেন, “ছাত্রদের দিয়ে শৌচাগার সাফাই করতে যাব কেন? যে শৌচাগার সাফাইয়ের অভিযোগ করা হচ্ছে সেটা দীর্ঘদিন থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। প্রশাসনের কর্তাদের বলেছি মিথ্যা অপবাদ দিলে সেটাই মানতে হবে?”

তবে শৌচাগার সাফাইয়ের অভিযোগ যে অছিলা মাত্র সেটা অভিভাবকদের কথাতেও স্পষ্ট। ধীরেন রায়, অরবিন্দ বর্মণ, বিমল বর্মণের মতো অভিভাবকরা জানান, স্কুলে ঠিক মতো লেখাপড়া হয় না। দিদিমনিরা ইচ্ছে মতো আসেন, চলে যান। বিমলবাবু বলেন, “বলেও লাভ হয় না।” যদিও সহ সহায়িকা সুমিতা রায় ওই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, এবারের সমস্যার সূত্রপাত স্কুলে সাফাই অভিযান চলাকালীন চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র অভিষেক বর্মণ আধ বালতি জল নিয়ে শৌচাগারের দিকে যায়। ঘটনাটি স্কুলের আশপাশে দাঁড়ানো লোকজন দেখতে পেয়ে হইচই শুরু করেন। প্রধান সহায়িকার দাবি, “আমরা কেউ ছেলেটিকে ওই কাজ করতে বলিনি।” মঙ্গলবার অভিষেক পরিত্যক্ত শুকনো পাতায় ভরা শৌচাগারটি দেখিয়ে বলে, “এখানে জল ঢেলেছি।” কেন ওই কাজ করেছে সে একমুখ হাসি হেসে তার জবাব,‘‘এমনিই’’।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy