কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনা ‘মিটিয়ে’ নিতে সালিশি সভা বসানোর অভিযোগ উঠল হলদিবাড়িতে। এসইউসিআইয়ের স্থানীয় এক নেতা ওই সালিশি সভা বসান বলে অভিযোগ। সেই সভা অভিযুক্তদের শাস্তির নির্দেশ না দেওয়ায় গত শুক্রবার হলদিবাড়ি থানায় নাবালিকা কিশোরীর মা অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। তারা হল কৃষ্ণপদ সরকার ও খোকন সরকার। এক জন পলাতক। এসইউসিআই অবশ্য সালিশিতে দলের নেতার জড়িত থাকার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে।
গত ১৯ নভেম্বর রাতে বাড়ি থেকে ডেকে, মাদক মেশানো পানীয় খাইয়ে কিশোরীকে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। নিগৃহীতার মা বাসাবাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন। কাজ সেরে বাড়িতে ফিরতে প্রতিদিনই তাঁর রাত হয়ে যায়। সে সুযোগেই তিন যুবক কিশোরীকে ফুসলিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। মাদক মেশানো পানীয়ও জোর করে খেতে বাধ্য করা হয় তাকে। তারপরে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে তিন জন পরপর ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। বাড়ি ফেরার পরে তার মা দেখেন, মেয়ের গায়ে মাটি লেগে রয়েছে। তাকে কাঁদতে দেখে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিষয়টি জানতে পারেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, এর পরে সালিশি করা হয়। যেই নেতার উদ্যোগে সভা বসেছিল, তাঁর সঙ্গে কথা বলা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সেই সঙ্গে সালিশি সভাতে কারা উপস্থিত ছিল তাও জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। এসইউসিআই-এর দেওয়ানগঞ্জ লোকাল কমিটির সম্পাদক মজিরুদ্দিন সরকার বলেন, “আমাদের দলের কোনও নেতা এই ঘটনায় জড়িত নয়। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর করছি।” ফরওয়ার্ড ব্লকের পঞ্চায়েত সদস্য মাধব বর্মন বলেন, “ঘটনার কথা শুনেছি। তবে মেয়েটির মা আমাকে কোনও অভিযোগ জানাননি। সালিশির কথাও জানি না।” অভিযোগ দায়ের করার পরে শনিবার মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষাও করানো হয়েছে। তাকে মনোবিদদেরও পরামর্শ দেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে। কোচবিহারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত বলেন, “দু’ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।” কিশোরীর মায়ের অভিযোগ, ঘটনার দিন মেয়েকে মাদক মেশানো পানীয় খাওয়ানো হয়। তারপর থেকে সে অস্বাভাবিক আচরণ করছে।