Advertisement
E-Paper

নেপালের ভূমিকম্পের দৃশ্য মণ্ডপে

পুজোর আনন্দের সুরের মাঝে দর্শনার্থীদের সমানে ফুটে উঠবে নেপালের মর্মান্তিক ভুমিকম্পের দৃশ্য। কোথাও ভাঙা ঘরের সমানে বসে কাঁদছে শিশু। কোথাও সার দিয়ে দিয়ে পড়ে রয়েছেন ভুমিকম্পে জখমরা।

নারায়ণ দে

শেষ আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০১৫ ০৪:১৯
শিল্পীদের তুলিতে ফুটে উঠছে ভূমিকম্পের থিম। —নিজস্ব চিত্র।

শিল্পীদের তুলিতে ফুটে উঠছে ভূমিকম্পের থিম। —নিজস্ব চিত্র।

পুজোর আনন্দের সুরের মাঝে দর্শনার্থীদের সমানে ফুটে উঠবে নেপালের মর্মান্তিক ভুমিকম্পের দৃশ্য। কোথাও ভাঙা ঘরের সমানে বসে কাঁদছে শিশু। কোথাও সার দিয়ে দিয়ে পড়ে রয়েছেন ভুমিকম্পে জখমরা।

এ বার আলিপুরদুয়ার হোয়াইট হাউস ক্লাবের উদ্যোগে পুজো প্রাঙ্গণের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ভুমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য ফুটিয়ে তুলবেন অঙ্কন শিল্পীরা। সেজন্য প্রায় দেড় মাস আগে থেকেই শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। আলিপুরদুয়ার শহরের আলিপুরদুয়ার কুমারগ্রাম রোডের পাশেই ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত হোয়াইট হাউস ক্লাব। পাশের ২০ নম্বর ওয়ার্ডে সারদাপল্লিতে শিল্পী রঞ্জন বিশ্বাসের বাড়িতে রাত জেগে চলছে ভূমিকম্পের মডেল তৈরির প্রস্তুতি।

এলাকার কাউন্সিলর তথা পুজো কমিটির অন্যতম উদ্যোক্তা দেবকান্ত বড়ুয়া জানান, এ বছর তাদের ক্লাবের পুজো ৩৬ বছরে পড়ল। প্রতি বছর তারা থিম নির্ভর পুজো করেন। মা দুর্গার মৃন্ময়ী প্রতিমার সঙ্গে আলোকসজ্জাও মানুষের নজর কাড়ে। এ বছর পুজোর বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ছয় লক্ষ টাকা। এ বারে পুজোর থিম করা হয়েছে এপ্রিল মাসে ঘটে যাওয়া নেপালের ভূমিকম্পকে।

স্টেনার ও প্লাস্টিক রং দিয়ে প্লাইউডের উপর চলছে ভূমিকম্প ফুটিয়ে তোলার কাজ। ভূমিকম্পে ধসে যাওয়া ১৮৩২ সালে তৈরি নেপালের বিখ্যাত ভীম সেন টাওয়ার, দরবার স্কোয়ার, নামচি বাজারেরে ধংসস্তূপ থেকে ভারতীয় সেনবাহিনীর উদ্ধার কাজ সব কিছু ফুটে উঠবে দক্ষ শিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায়।

আলিপুরদুয়ার শহরের বাসিন্দা অঙ্কন শিল্পী রঞ্জন বিশ্বাস জানান, এপ্রিল মাসে নেপালের ভূমিকম্পের জেরে জনজীবন বিধ্বস্ত হয়ে যায়। তারপরেই তিনি পরিকল্পনা করেছিলেন নেপালের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ দুর্গা পুজোয় মানুষের সামনে ফুটিয়ে তুলব। মাস দেড়েক আগে থেকেই চার ফুট বাই আট ফুটের প্রায় ৬০টি প্লাউডের বোর্ডকে ফ্রেম করে আঁকার কাজ শুরু করেন। সঙ্গ দেয় তাঁর ছাত্রছাত্রীরা। দিন রাত কাজ করে অবশেষে মডেলগুলি এখন শেষের দিকে। তবে পুজোর মাত্র কয়েক দিন বাকি। তাই দিন রাত চলছে। হেলিকপ্টার করে ভারতীয় সেনাবহীনির উদ্ধার কাজ, জখমদের সেবা সব কিছুই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন তাঁরা। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন, সুকোমল দে, জগন্নাথ সরকার, কৃষাণু মণ্ডল, নবীনা রায়রা। লক্ষ্য রেখেছি মহালয়ার দিন থেকে মডেলগুলি পুজো প্রাঙ্গণে লাগানোর।

দেবকান্তবাবু বলেন, “রঞ্জনবাবুরা এত সুন্দর ভাবে বিষয়টি ফুটিয়ে তুলেছেন যে, তা দেখতে ইতিমধ্যে ওঁর বাড়িতে মানুষ জন ভিড় জমাচ্ছেন।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy