ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা নুর আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে সালিশি সভা ডেকে জরিমানা করাতেই তাঁর ছেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করলেন হরিশ্চন্দ্রপুরের মসজিদপাড়ার বাসিন্দা শেখ মফিজুদ্দিন।
১৫ ডিসেম্বর তাঁর ছেলে কামাল হোসেন মেলায় গিয়ে এক তরুণীকে উত্ত্যক্ত করছিলেন বলে অভিযোগ। তার এক সপ্তাহ বাদে মঙ্গলবার রাতে তিনি গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তখন অভিযোগ ওঠে, সালিশি সভা বসিয়ে কামালকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। সেই টাকা দিতে না পেরেই তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তবে পুলিশে অভিযোগ হল এই প্রথম। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গেই তল্লাশি চালালেও কাউকে অবশ্য ধরতে পারেনি। মফিজুদ্দিন ছেলের শ্বশুরের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছেন। তাঁকেও ধরা যায়নি।
চাঁচলের এসডিপিও রানা মুখোপাধ্যায় বলেন, অভিযোগ পেয়েই ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা সহ ঘটনায় অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হয়েছে। কিন্তু তাদের পাওয়া যায়নি। সালিশিতে অভিযুক্ত কাউকেই ছাড়া হবে না।
যুবকের বাবা শেখ মফিজুদ্দিনের অভিযোগ, মেলায় পরিচিত এক তরুণীর সঙ্গে কথা বলে বাড়ি ফেরার সময় তাঁর ছেলেকে নুর আলমের নির্দেশে রাস্তা থেকে কয়েক জন তুলে নিয়ে যায়। সারা রাত ক্লাবে আটকে মারধর করা হয়। পরের দিন সালিশি ডেকে তাকে মিথ্যা বদনাম দিয়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। টাকা দিতে না পারায় শ্বশুরবাড়ি থেকে পাওয়া মোটর বাইক ও মোবাইল ফোনটিও নুর আলম নিজের কাছে রেখে দেন বলে অভিযোগ। তার পর থেকে জরিমানার টাকা দেওয়ার জন্য ওই ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা ক্রমাগত ফোনে হুমকি দিচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ। নুর আলম চৌধুরী অবশ্য বলেন, ‘‘সালিশির কোনও ঘটনা ঘটেনি। শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে ঝামেলার জেরেই ওই যুবক আত্মহত্যার চেষ্টা করে বলে শুনেছি।’’
মফিজুদ্দিন বলেন, ‘‘ছেলে অন্যায় করে থাকলে সালিশি না করে পুলিশকে জানানো যেত। তা হলে এই পরিস্থিতি হত না।’’