Advertisement
E-Paper

পিকনিকে শান্তি রাখতে নজরদারির সঙ্গী প্রচারও

পিকনিকে গিয়ে বচসার জেরে খুন, পার্থ রায় হত্যা মামলায় মোট ১২ জনকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। খুনের অভিযোগে ধৃত তিন জনকে জেরা করেই বাকিদের পরিচয় জানা যাবে বলে মনে করছেন তাঁরা। শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা বলেন, ‘‘আমরা অনেকগুলি সূত্র পেয়েছি। সেই সূত্র ধরেই তদন্ত চলছে। দ্রুত বাকি অভিযুক্তদেরও গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে মনে করছি।’’

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০১৬ ০২:২১
শিলিগুড়ির বিধান মার্কেটে রাস্তা আটকেই চলছে উদ্দাম নাচ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। ছবি: বিশ্বরূপ বসাক।

শিলিগুড়ির বিধান মার্কেটে রাস্তা আটকেই চলছে উদ্দাম নাচ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। ছবি: বিশ্বরূপ বসাক।

পিকনিকে গিয়ে বচসার জেরে খুন, পার্থ রায় হত্যা মামলায় মোট ১২ জনকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। খুনের অভিযোগে ধৃত তিন জনকে জেরা করেই বাকিদের পরিচয় জানা যাবে বলে মনে করছেন তাঁরা। শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা বলেন, ‘‘আমরা অনেকগুলি সূত্র পেয়েছি। সেই সূত্র ধরেই তদন্ত চলছে। দ্রুত বাকি অভিযুক্তদেরও গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে মনে করছি।’’

পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পেরেছে, পিকনিকের জায়গায় পার্থদের কাছাকাছি বসে মদ্যপান করছিল অভিযুক্ত পাঁচ যুবক। মদ খাওয়া নিয়েই এখানে দু’পক্ষের ঝামেলা হয়। কিন্তু ১৮-২০ জনের দলের সঙ্গে ঝামেলায় এঁটে উঠতে না পেরে তারা হঠে যায়। পরে আরও লোক জড়ো করে পার্থদের ফেরার অপেক্ষায় ছিল তাঁরা।

তবে পিকনিক এবং পিকনিকের সঙ্গে জড়িত ‘খুশির তাণ্ডব’ থামেনি। মঙ্গলবারও সন্ধের পর শিলিগুড়ির বিধান মার্কেট মুরগিহাটিতে পিকনিকের আসর বসে। বাজারে যাতায়াতের পথ আটকে তারস্বরে বক্স বাজিয়ে নাচ-গান, মদ খাওয়ার অভিযোগ ওঠে। অন্য কিছু ব্যবসায়ী অতিষ্ঠ হয়ে থানায় ফোন করে অভিযোগ জানান। কিন্তু শিলিগুড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেও তা বন্ধ করতে গিয়ে হিমশিম খায়।

এই অবস্থায় জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পিকনিক স্পটগুলিতে ঘুরে প্রচারের পাশাপাশি নজরদারির কাজ শুরুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী রবিবার থেকে মালবাজার মহকুমার মূর্তি নদী লাগোয়া এলাকায় পঞ্চাশজন পুলিশ কর্মী এই কাজ শুরু করবেন।

জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার আকাশ মেঘারিয়া জানান, “মরসুমের শুরু থেকে পিকনিক স্পটগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবু সমস্যা এড়ানো যাচ্ছে না। ওই কারণে সচেতনতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।”

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী রবিবার ওই প্রচার শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ওই দিন সকালে পুলিশ কর্মীদের পিকনিক স্পটে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাবে। তবে শুধু প্রচার নয়। নিয়ম মেনে পিকনিক করার আবেদন জানানোর পরেও কেউ যদি না মানেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার বলেন, “পিকনিকে মানুষ আনন্দ করতে যায়। ওই কারণে সুযোগ না দিয়ে কড়া ব্যবস্থা না নেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে। তবে আবেদন রাখার পরেও কেউ যদি তোয়াক্কা না করে নিজেদের মতো তারস্বরে মাইক বাজাতে থাকেন, নদীর পাড় নোংরা করেন তখন ব্যবস্থা নিতেই হবে।”

কেন হঠাৎ পিকনিকে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ?

এক পুলিশ কর্তা জানান, গত এক সপ্তাহ থেকে বিষয়টি নিয়ে ভাবনা চিন্তা চলছে। এবার মরসুমের শুরু থেকে ছুটির দিনে জেলার পিকনিক স্পটগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়। তারপরেও মূর্তি নদী থেকে রামসাই লাগোয়া জলঢাকা নদীর পাড় পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় শব্দ, প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ ও থার্মোকল দূষণের জন্য পরিযায়ী পাখি না আসার অভিযোগ মিলেছে বিভিন্ন মহল থেকে। ওদলাবাড়ির মতো কিছু এলাকাতেও একই সমস্যা হচ্ছে। ওই কারণে, সচেতনতা বাড়াতে প্রচারের উপরে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মূর্তি নদী পাড় প্রচারের জন্য প্রাথমিকভাবে বেছে নেওয়ার কারণ এলাকাটি জঙ্গল লাগোয়া। দূষণের কারণে সেখানে বন্যপ্রাণেরও সমস্যা হচ্ছে। তবে পুলিশ কর্মীরা প্ল্যাকার্ড অথবা ওই জাতীয় কিছু হাতে নিয়ে প্রচারে নামবেন কি না তা এখনও ঠিক হয়নি। বন কর্মীদের সঙ্গে নেওয়া হবে কি না চূড়ান্ত হয়নি তাও।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy