কলেজে পরীক্ষা নিয়ে ফেরার সময় এক পরীক্ষককে মারধর করে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠল ছাত্র ও বহিরাগতদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুরে ইসলামপুর কলেজের ঘটনা।
অভিযোগ, পরীক্ষার খাতা জমা দিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন ওই পরীক্ষক। সেই সময় তাঁর উপর হামলা চালায় এক দল ছাত্র। তাঁকে লাঠি ও ঘুসি মারতে থাকে এক দল যুবক। ঘটনার পরই পুলিশ খবর পেয়ে গিয়ে খইবুল রহমান নামে ওই পরীক্ষককে উদ্ধার করে ইসলামপুর হাসপাতালে পাঠায়। তবে কলেজের ছাত্রদের একাংশের অভিযোগ, পরীক্ষা চলাকালীন ছাত্রছাত্রীদের উত্যক্ত করার চেষ্টা করছিলেন ওই ব্যক্তি। যদিও পরীক্ষক বা কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, নকলে বাধা দেওয়াতেই তাঁর উপরে হামলা হয়। ইসলামপুর কলেজের অধ্যক্ষ উতথ্য বন্দোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বিষয়টি শুনেছি। তবে লিখিত কোনও অভিযোগ হয়নি। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।’’
কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইসলামপুর কলেজে এ দিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা চলছিল। কলেজের শিক্ষক কম থাকায় ১২০ টাকার বিনিময়ে পরীক্ষায় গার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। খইরুল রহমানও কলেজের শিক্ষক নন। তিনি গার্ড দেওয়ার জন্য কলেজে এসেছিলেন। তবে পরীক্ষায় কোনও গোলমাল না হলেও পরীক্ষার পর হামলা হয়। খইবুল বলেন, ‘‘নকলে বাধা দেওয়ার কারণেই ওই ঘটনা বলে মনে হচ্ছে।’’
ওই কলেজে নকলে বাধা দেওয়ায় গত কয়েক বছরে বেশ কয়েক বার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপরে হামলা হয়। তার পরে এই ঘটনার পরে শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের করেননি কলেজ কর্তৃপক্ষ বা ছাত্রছাত্রীদের কেউই। ইসলামপুর থানার আইসি মকসুদুর রহমান বলেন, ‘‘অভিযোগ পেলে সেই মতো ব্যবস্থা হবে।’’ কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক তৃণমূলের রুকসাদ আলম বলেন, ‘‘কলেজে ছিলাম না। খোঁজ নিয়ে দেখছি। ওই ঘটনায় আমাদের কোনও ছাত্র জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে।’’