Advertisement
E-Paper

ফলন ভাল, তবু টোম্যাটোর দাম মিলছে না হলদিবাড়িতে

ফলন ভাল। তাতেও হাসি নেই টোম্যাটো চাষিদের মুখে। কারণ ফলনটা ভাল হয়েছে দেশ জুড়েই। তাই অন্যবার যেমন চাহিদা থাকে এ বার তেমন চাহিদা নেই। হলদিবাড়ির টোম্যাটো চাষিরা তাই ক্ষতির আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায়।

রাজা বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০২:০৬
হলদিবাড়ি বাজারে টোম্যাটো। —নিজস্ব চিত্র।

হলদিবাড়ি বাজারে টোম্যাটো। —নিজস্ব চিত্র।

ফলন ভাল। তাতেও হাসি নেই টোম্যাটো চাষিদের মুখে। কারণ ফলনটা ভাল হয়েছে দেশ জুড়েই। তাই অন্যবার যেমন চাহিদা থাকে এ বার তেমন চাহিদা নেই। হলদিবাড়ির টোম্যাটো চাষিরা তাই ক্ষতির আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায়।

টোম্যাটোর জন্য হলদিবাড়ির পরিচিতি উত্তরবঙ্গ তথা রাজ্যের বাইরেও। প্রতি বছরই হলদিবাড়ির টোম্যাটো যায় দেশের বিভিন্ন জায়গায়। সেই হলদিবাড়িতেই এই মরসুমে টোম্যাটোর দাম তলানিতে ঠেকেছে। কৃষকেরা দাম পাচ্ছেন না। উৎপাদন খরচ উঠছে না। চাষিরা জানাচ্ছেন, দাম কমার কারণ আবহাওয়া ভাল। এ বারে চাষ হয়েছে অনেক বেশি জমিতে। ভারতের সমস্ত জায়গাতেই টোম্যাটোর উৎপাদন এ বার ভাল। অত্যধিক উৎপাদন হওয়াতে হলদিবাড়ি পাইকারি সব্জি বাজারে টোম্যাটোর দাম কমেছে।

বৃহস্পতিবার হলদিবাড়ি পাইকারি সব্জি বাজারে টোম্যাটো বিক্রি হয়েছে মাত্র ২ টাকা প্রতি কিলোগ্রাম দরে। গতবার এই সময় দাম ছিল প্রতি কিলোগ্রাম দশ টাকা। এ বছর জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে টোম্যাটো প্রথম ওঠার সময় কৃষক সাত টাকা প্রতি কিলোগ্রাম দরে বিক্রি করতে পেরেছিলেন। ২ টাকাতে দাঁড়ায়। হলদিবাড়ি পাইকারি সব্জি ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক দিগ্বিজয় সরকার বলেন, “আমাদের এ বার কিছু করার নেই। এ বছর সব জায়গায় টোম্যাটোর চাষ হয়েছে। উত্তর ভারতের যে সমস্ত জায়গায় আমরা টোম্যাটো পাঠাতাম এ বার সেখানে আবহাওয়া ভাল থাকায় স্থানীয় টোম্যাটো প্রচুর উঠেছে। তাই সেখানে দাম পাওয়া যাচ্ছে না।”

Advertisement

হলদিবাড়ি ব্লকের মধ্য কাশিয়াবাড়ির জুম্মা এলাকার বাসিন্দা আনসার আলি অন্য বার এক বিঘা জমিতে টোম্যাটোর চাষ করেন। গতবার ভাল দাম পাওয়ায় এ বছর দু-বিঘা জমিতে টোম্যাটোর চাষ করেছেন। বৃহস্পতিবার ১২০ কিলোগ্রাম টোম্যাটো বাজারে এনেছিলেন। প্রতি কিলোগ্রাম দু’টাকা কিলোগ্রাম দরে দাম পেয়েছেন মাত্র ২৪০ টাকা। তিনি বলেন, “দু’বিঘা জমিতে টোম্যাটো চাষ করতে খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। লাভ তো দূরের কথা সেই টাকা তুলতে পারবো কি না সন্দেহ আছে।” একই অবস্থা প্রধানপাড়ার বাসিন্দা ফজলুর রহমান এবং অন্যদের।

কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বছর হলদিবাড়িতে ১ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে টোম্যাটো চাষ হয়েছে। গত বছর ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে টোম্যাটো চাষ হয়েছিল। এ ছাড়াও হলদিবাড়ির নিকটবর্তী জলপাইগুড়ি জেলার নগর বেরুবাড়ি, খারিজা বেরুবাড়ি ১ এবং ২ নম্বর এলাকা, দক্ষিণ বেরুবাড়ি এলাকায় অন্য বারের তুলনায় ৩০০ হেক্টর বেশি জমিতে টোম্যাটোর চাষ হয়েছে। এই এলাকাগুলিতে গত বছর যেখানে ৪০০ হেক্টর জমিতে টোম্যাটো চাষ হয়েছিল এ বার সেখানে ৭০০ হেক্টর জমিতে টোম্যাটো চাষ হয়েছে। উৎপাদনও বেশি হয়েছে।

কৃষকদের মত হলদিবাড়ি পাইকারি সব্জি ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। পাইকারি সব্জি ব্যবসায়ী প্রণব চক্রবর্তী, বিপ্লব সরকার বলেন, “উত্তর ভারতের বাজার ধরে রাখার জন্য আমরা সেখানে টোম্যাটো পাঠাতে বাধ্য হচ্ছি। হলদিবাড়ির টোম্যাটো বরাবর যেখানে যায় সেখানে টোম্যাটোর একটা সুনাম আছে। তাই দাম কম পেলেও কেবল বাজার ধরে রাখার তাগিদে আমরা টম্যাটো পাঠাচ্ছি।” হলদিবাড়ি থেকে প্রতিদিন ৯৫০ টন টোম্যাটো বিহার এবং উত্তরপ্রদেশে যাচ্ছে বলে তাঁরা জানান।

কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বছরের মতো আবহাওয়া সম্প্রতি শীতকালে কখনও দেখা যায়নি। দিনের বেলা কুয়াশা খুবই অল্প দিনের জন্য ছিল। দিনের বেলা অধিকাংশ দিন রোদ ছিল। রাতে ঠান্ডা পড়লেও দিন এবং রাতের তাপমাত্রার বিস্তর ফারাক ছিল। হলদিবাড়ি ব্লকের কৃষি আধিকারিক সঞ্জীব মৈত্রী বলেন, “এত ভাল আবহাওয়া গত কয়েকটি মরসুমে দেখা যায়নি। এ বারে হলদিবাড়িতে কৃষকেরা অনেক বেশি জায়গায় টোম্যাটোর চাষ করেছিলেন। ফলে উৎপাদন অন্য বারের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে।”

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy