Advertisement
E-Paper

মায়ের সম্মান বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত

বিয়ে বাড়িতে মদ্যপ যুবকদের হাত থেকে মায়ের সম্ভ্রম বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হল ছেলে। ওই মহিলার সোনার অলঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। স্বামী, ছেলে, ভাইপোকে নিয়ে নাতির বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন মধ্য চল্লিশের সেই মহিলা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০২:৩১

বিয়ে বাড়িতে মদ্যপ যুবকদের হাত থেকে মায়ের সম্ভ্রম বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হল ছেলে। ওই মহিলার সোনার অলঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

স্বামী, ছেলে, ভাইপোকে নিয়ে নাতির বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন মধ্য চল্লিশের সেই মহিলা। সেখানে মদ্যপ কিছু যুবক তাঁকে গানের সঙ্গে নাচার জন্য বারবার উত্ত্যক্ত করতে থাকে। তাঁর হাত ধরে টানাটানিও করা হয়। প্রতিবাদ করায় তাঁর শাড়ি ছিঁড়ে যায়। তাই দেখে তাঁর ছেলে প্রতিবাদ করায় বাঁশ দিয়ে মেরে তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। বাধা দেওয়ায় আক্রান্ত হয়েছে মহিলার ভাইপোও। মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের খেজুরবাড়িতে গত শুক্রবার রাতে ওই ঘটনার পরে রবিবার দুপুরে পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়েছে। ওই মহিলার ছেলেকে শুক্রবার রাতে হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়। রাতেই তাঁকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করানো হয়।

আহত ভাইপোকে অবশ্য প্রাথমিক চিকিত্সার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই মহিলার ছেলে কেরলে শ্রমিকের কাজ করেন। কয়েক দিন হল বাড়িতে এসে আত্মীয়ের বিয়েতে গিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘মায়ের সম্মান নিয়ে টানাটানি করছিল বলে প্রতিবাদ করি। কারা মেরেছিল তাদের আমি চিনি না।’’

Advertisement

ওই ঘটনায় মহিলার স্বামী সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধেও পাল্টা মারধরের অভিযোগ হয়েছে। মারধরের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অভিযুক্ত এক যুবককে গ্রেফতারও করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। অভিযুক্ত যুবকদের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে।

চাঁচলের এসডিপিও রানা মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘দু’পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সব খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার হরিশ্চন্দ্রপুরের কড়িয়ালি থেকে পরিজনদের সঙ্গে ছয় কিলোমিটার দূরে খেজুরবাড়ি এলাকায় এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যান তাঁরা। সেখানেই বরযাত্রী বের হওয়ার সময় ঘটনার সূত্রপাত। ওই মহিলার আত্মীয়দের প্রতিবেশীদের মধ্যেই কয়েকজন যুবক বরযাত্রী বার হওয়ার সময় মদ্যপ অবস্থায় উদ্দাম নাচ শুরু করে। ওই সময় সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ওই মহিলাকেও নাচতে হবে বলে জোরাজুরি শুরু হয় বলে অভিযাগ। তিনি বাধা দেওয়ায়, টানাহেঁচড়ায় তার শাড়ি ছিঁড়ে যায়। বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে সবাই ব্যস্ত থাকায় প্রথমে কেউ বিষয়টি লক্ষ করেননি। কিন্তু যুবকদের আচরণ মাত্রাছাড়া হয়ে ওঠায় ওই মহিলার ছেলে ও তাঁর খুড়তুতো ভাই বাধা দিতে এগিয়ে যায়। তখন হইচই শুরু হওয়ায় ওই যুবকরা বাধা পেয়ে সরে পড়ে।

কিন্তু কিছু ক্ষণ বাদে বরযাত্রী যাওয়ার সময় পিছন থেকে আচমকাই ওই মহিলার ছেলে ও ভাইপোর উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। ওই মহিলার ছেলের মাথা ফেটে যায়। চোখে আঘাত লাগে তাঁর খুড়তুতো ভাইয়ের।

যার বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল, রবিবার যাঁর বাড়িতে নিমন্ত্রণ ছিল, তিনিই পুলিশে অভিযোগ জানান। পুলিশ ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক জনকে গ্রেফতার করলেও বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে
অভিযোগ উঠেছে।

ওই মহিলার আত্মীয়ের দাবি, ‘‘ওই যুবকদের উদ্দেশ্য ভাল ছিল না। মায়ের সম্মান বাঁচাতে গিয়ে আমার দুই ভাইপো মার খেল। বৌদির এক ভরির সোনার অলঙ্কারও ওরা ছিনিয়ে নিয়েছে। আর এখন নিজেদের বাঁচাতে পাল্টা অভিযোগ করছে।’’

তবে অভি‌যুক্ত যুবকদের দাবি, ‘‘ওই মহিলাকে নাচার জন্য কেউ টানাটানি করেনি। সবাইকেই নাচতে অনুরোধ করা হচ্ছিল। কিন্তু ওরাই তো লাঠিসোটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy