Advertisement
E-Paper

মন্ত্রীর হুমকির তদন্ত রিপোর্ট চায় আদালত

পর্যটন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু চৌধুরীর বিরুদ্ধে লোকসভা ভোটে দলীয় তহবিলে দুই কোটি টাকা চেয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গত মঙ্গলবার জেলার মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট ইংরেজ বাজার থানার পুলিশকে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনজীবীর সঞ্জয় কুমার শর্মার তোলা অভিযোগের তদন্ত-রিপোর্ট আগামী ৩ মে-র মধ্যে আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

পীযূষ সাহা

শেষ আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০১৪ ০১:২৭

পর্যটন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু চৌধুরীর বিরুদ্ধে লোকসভা ভোটে দলীয় তহবিলে দুই কোটি টাকা চেয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গত মঙ্গলবার জেলার মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট ইংরেজ বাজার থানার পুলিশকে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনজীবীর সঞ্জয় কুমার শর্মার তোলা অভিযোগের তদন্ত-রিপোর্ট আগামী ৩ মে-র মধ্যে আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পরই জেলা পুলিশ নড়েচড়ে বসেছে। এরপরই গত শনিবার বিকালে তদন্তকারী অফিসার বিজয় সিংহ রায় অভিয়োগকারী আইনজীবীর বাড়িতে গিয়ে পাঁচ দিনের মধ্যে অভিযোগের সমস্ত সাক্ষ্য প্রমান পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

বালুচরের বাসিন্দা ওই আইনজীবী বলেন, “পুলিশ লিখিত ভাবে পাঁচ দিনের মধ্যে মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সাক্ষ্যপ্রমাণ জমা দিতে বলেছে।” তিনি জানান, ২৩ মার্চ মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী আমাকে ফোন করে লোকসভা নিবার্চনে দলীয় তহবিলে দুই কোটি চেয়েছিলেন। তার সমস্ত প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে। আমি তা পুলিশের হাতে নির্ধারিত সমসয়ীমার মধ্যে তুলে দেব। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শ্যাম সিংহ শুধু বলেন, “কোর্টের নির্দেশে তদন্ত চলছে।”

যদিও এ দিনও অভিযোগটি ভুয়ো বলে দাবি করেছেন পর্যটন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “মিথ্যা অভিযোগ। পুলিশ আমাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। আমি কাউকে টেলিফোন করে টাকা চাইনি। ওই আইনজীবীর তো দুই কোটি টাকার সম্পত্তিই নেই।” মন্ত্রীর দাবি, “ওই আইনজীবী রাতের বেলা বাড়ি তৈরি করাচ্ছিলেন। তার শব্দে অতিষ্ট হয়ে বাসিন্দারা আমার কাছে অভিযোগ করেন। স্থানীয় কাউন্সিরলরের কোনও কথাই ওই আইনজীবী শুনছিলেন না। বাধ্য হয়ে রাতে আমি ওঁকে টেলিফোন করে বেআইনি নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে বলি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমার নামে কেউ এমন অভিযোগ করেননি।”

মন্ত্রী আরও বলেন, “আইনজীবী সঞ্জয় শর্মা পুর-চেয়ারম্যান হিসাবে আমার সই জাল করে নিজের এক আত্মীয়ের সম্পত্তি হাতানোর চেষ্টা করেন। আমরা ধরে ফেলে মামলা করি। ওঁর বিরুদ্ধে আরেক আইনজীবীর আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা রয়েছে। একাধিক মামলায় জর্জরিত ওই ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ভাবে আমাকে ফাঁসাতে চান। মানহানির মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। যদিও ওই আইনজীবী সমস্ত অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সঞ্জয়বাবু জানিয়েছিলেন, রাত ৯ টা ৩২ মিনিটে তাঁর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রতিভা সিংহ তাঁর মোবাইল থেকে ফোন করেন। রাজনৈতিক তহবিলে চাঁদা দেওয়ার বিষয়ে কথা বলার জন্য কালীতলায় তৃণমূলের দলের দফতরে যেতে বলেন প্রতিভাদেবী। যদিও প্রতিভাদেবী তাঁর নামে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি যেতে অস্বীকার করলে কৃষ্ণেন্দুর কাছে থেকে ফোন আসে বলে আইনজীবীর দাবি। তাঁর হুমকির পরেও টাকা দিতে অস্বীকার করায় ওই রাতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করতে বাড়িতে হানা দেয় বলে সঞ্জয়বাবুর দাবি ।

পুলিশ জানায়, সঞ্জয়বাবু প্রথমে ১৭ মার্চ একটা অভিযোগ করেছিলেন এলাকার কিছু ছেলে তাঁর বাড়ির কাজে বাধা দিচ্ছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পুলিশ রাতে ওই আইনজীবীর বাড়িতে যায়। মন্ত্রীর নামে আইনজীবীর নালিশ পুলিশ আদালতে পাঠিয়ে দেয়। মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশকে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলেন।

maldoho
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy