মালদহের চাঁচল কলেজের পরিচালন সমিতি ভেঙে দিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি ছিলেন চাঁচলের কংগ্রেস বিধায়ক আসিফ মেহবুব। বৃহস্পতিবার ওই পরিচালন সমিতি ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিযুক্ত করা হয়েছে। বুধবার মালদহে এসেছিলেন জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার পরের দিন চাঁচল কলেজের পরিচালন সমিতি ভেঙে প্রশাসক নিযুক্ত করার ঘটনাকে শাসকদলের চক্রান্ত বলেই মনে করছে বিরোধী রাজনৈতিক দলের অনেকে। কলেজের পরিচালন সমিতি দখলে নিয়ে আসতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চাপ দিয়ে তড়িঘড়ি করে পরিচালন সমিতি ভেঙে দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পাশাপাশি পরিচালন সমিতি ভাঙার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্তিয়ার রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন বিধায়ক তথা বিদায়ী সভাপতি।
যদিও শাসকদলের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে পরিচালন সমিতি ভেঙে দেওয়ার কথা মানতে চাননি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য় গোপাল মিশ্র বলেন, ‘‘বহুদিন ধরেই ওই কলেজে অনিয়মের অভিযোগ ছিল। তার তদন্তও করা হয়েছে। তারপরেই পরিচালন সমিতি ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।’’
তবে তৃণমূল সূত্রেই জানা গিয়েছে, বুধবার মালদহে এসে কলেজগুলির বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার সময় চাঁচল কলেজে কংগ্রেস বিধায়ক থাকার বিষয়টি জানতে পারেন শুভেন্দুবাবু। ওই সময় দলীয় সভাতেই তিনি তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি প্রসেনজিত দাসকে চাঁচল কলেজের পরিচালন সমিতি ভেঙে দেওয়ার জন্য দায়িত্ব দেন। সে জন্য তাঁকে একমাস সময় দেন শুভেন্দুবাবু। কিন্তু পরদিন সকাল থেকেই টিএমসিপি সভাপতি সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তারপর এদিন বিকালে প্রশাসক নিযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।