সিনেমা তৈরির জন্য তোড়জোড় চলছিল প্রায় দেড়মাস ধরে। আলিপুরদুয়ার জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০-১২ জন ছেলে মেয়েকে নিয়ে দিন রাত চলছিল মহড়াও। কিন্তু সিনেমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ক্যামেরা বা অন্য কোনও সরঞ্জাম ছিল না দলটির কাছে। ছিল না প্রয়োজনীয় অনুমতিও। তাতেই সন্দেহ বাড়ছিল চিলাপাতা এলাকার বাসিন্দাদের। খবর পেয়ে শনিবার চিলাপাতা রেঞ্জ অফিসের কাছে কুমোরপাড়া এলাকা থেকে উত্তরপ্রদেশ এক বাসিন্দা সহ বেশ কয়েকজনকে আলিপুরদুয়ার থানার সোনাপুর ফাঁড়িতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থানীয় দুজন বাসিন্দার সঙ্গে বারবিশা ও উত্তরপ্রদেশের এক বাসিন্দা সাদ্রী ভাষায় সিনেমা তৈরি করার জন্য এলাকায় একটি নির্মীয়মাণ বাড়িতে প্রায় দেড়মাস ধরে ঘাঁটি গেড়েছিল। গভীর রাত পর্যন্ত সাউন্ড সিস্টেম চালিয়ে চলছিল নাচগান। বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাঁদের কাছে অনুমতিপত্র চাইতে গেলে জেলাশাসকের দফতর ও পুলিশ সুপারে দফতরে সিনেমা করার জন্য আবেদন জানানোর রিসিভ কপি দেখাচ্ছিলেন তাঁরা। এলাকার বাসিন্দা জয়রাজ প্রধান বলেন, “রাত তিনটে পর্যন্ত মাইক বাজিয়ে চলছিল নাচগান। ৬ জন মেয়ে ও ৫ জন ছেলেকে নিয়ে চলত নাচের মহড়া। যাঁদের অধিকাংশ নাবালক। যেখানে ওই মেয়েদের রাখা হয়েছে সেখানে দরজা জানলা নেই। প্লাস্টিক ও পাট কাঠি দিয়ে অস্থায়ী দরজা বানানো হয়েছে। সেখানে মেয়েদের কোনও নিরাপত্তা নেই।’’
আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার আভারু রবীন্দ্রনাথ বলেন, “কেউ আবেদন জমা দিলেই তার রিসিভ কপি দেওয়া হয়। কিন্তু তা কখনই অনুমতি পত্র হতে পারে না। আমরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি।” এক পুলিশ আধিকারিক জানান, ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায়ই নাবালকদের পাচার করার অভিযোগ হয়। এক্ষেত্রে যারা সিনেমা তৈরির দাবি করছে তাদের কাছে কোনও অনুমতি পত্র নেই। সিনেমার করার জন্য যে ক্যামেরা লাগে তাও নেই। তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আলিপুরদুয়ারের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অরিন্দম সরকার জানান, উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা আশিস শর্মা নামে এক যুবক নিজেকে সিনেমার ডিরেক্টর হিসেবে দাবি করছেন। কিন্তু তাঁর কাছে সিনেমা তৈরি সংক্রান্ত কোনও অনুমতিপত্র মেলেনি। এলাকার বাসিন্দা বিরসা ওরাঁও, বারবিশার বাসিন্দা সঞ্জয় সরকার ও রহিমাবাদের বাসিন্দা কার্তিক পিঙ্গায়রা সিনেমা তৈরির দায়িত্বে রয়েছেন। অভিনয়ের জন্য যে সমস্ত ছেলেমেয়েদের আনা হয়েছিল, তাদের সোনাপুর ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অভিভাবকদের ডেকে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। বাকিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা আশিস শর্মার দাবি বলিউডের বেশ কিছু ছবিতে কাজ করেছেন তিনি। কিন্তু কোনও প্রমাণ নেই তাঁর কাছে। বারবিশার বাসিন্দা সঞ্জয় সরকারের দাবি, আগে অসমে আসিবাসী সিনেমা তৈরি করেছেন। তবে অনুমতি নেই কেন জিজ্ঞাসা করা হলে কিছু বলতে পারেননি তিনি।
অভিনয় করতে আসা সাতালি বস্তির কয়েকজন মেয়ে জানায় আত্মীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়েই এখানে আসে তারা। বেশ কয়েকদিন ধরে নাচের মহড়াও দে